আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা: কোভিড বিধির কারণে মাঠে নামার পাঁচ মিনিট পরেই বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাই ম্যাচ বাতিল
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের একটি ম্যাচ শুরু হওয়ার পরে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তিনজন আর্জেন্টাইন ফুটবলারের বিরুদ্ধে কোভিড সংক্রান্ত বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ম্যাচ বাতিল করে দিয়েছেন।
করিন্থিয়াস অ্যারেনা স্টেডিয়ামে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের এই ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর কর্মকর্তারা মাঠে ঢোকেন খেলা বন্ধ করতে, এবং এরপর সফরকারী দল আর্জেন্টিনা মাঠ ত্যাগ করে।
আর্জেন্টিনার চারজন ফুটবলার যারা ইংলিশ লীগে খেলেন, তাদের কোয়ারেন্টিন করতে বলেছিল ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই এমন নাটকীয় পরিস্থিতি হয় মাঠে।
ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অবশ্য ফুটবলার চারজনের নাম জানায়নি। তবে এমিলিয়ানো বুয়েনদিয়া, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জিওভানি ল সেলসো এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলছেন।
মার্টিনেজ, ল সেলসো ও রোমেরো সাও পাওলোতে আয়োজিত এই ম্যাচটিতে আর্জেন্টাইন একাদশে ছিলেন।
এই ম্যাচটি পুনরায় কবে হতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ১০ই সেপ্টেম্বর বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ নিজেদের দেশেই।
আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা তাদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে।
আরো পড়ুন:
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা খেলা বাতিল হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে এবং বলেছে যে 'নিয়ম মেনে' পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে।
খেলা বন্ধ হওয়ার এক ঘণ্টা পরে ব্রাজিলের ফুটবলাররা আকস্মিকভাবে অনুশীলন শুরু করে মাঠে।
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের গভর্নিং বডি কনমেবলের বিবৃতি থেকে জানা গেছে, ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিফা আয়োজিত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এই ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে।
"ফিফার শৃ্ঙ্খলা কমিটির কাছে ম্যাচ রেফারি ও ম্যাচ কমিশনার একটি প্রতিবেদন পেশ করবে, সেটা থেকে নির্ণয় করা হবে সামনের পদক্ষেপ। পুরো প্রক্রিয়া বর্তমান নিয়মনীতি মেনেই চলবে," বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
ব্রাজিলের কোভিড বিষয়ক গাইডলাইনে বলা আছে, ব্রাজিলে ঢোকার আগের ১৪ দিনের মধ্যে যারা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন, তাদেরকে ব্রাজিলে ঢুকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন করতে হবে।
ব্রাজিলের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা অ্যান্তোনিও বারা তোরেস ব্রাজিলের একটি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা এই পর্যায়ে এসেছি কারণ নির্দেশনা একেবারে শুরু থেকেই মানা হচ্ছিল না।"
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, "দেশে ঢোকার সময়ই এই চারজন ফুটবলারকে আলাদা থাকতে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা মানেননি। তারা স্টেডিয়ামে গেছেন, তারা মাঠে ঢুকেছেন একের পর এক আইন অমান্য করে।"
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি পুরো ঘটনাটাকে হতাশাজনক বলেছেন। "এটা আমাকে খুব হতাশ করেছে, আমি কোনও দোষী ধরছি না। কিছু হয়েছে বা কিছু হয়নি সেটাও না, কিন্তু খেলা বন্ধ করাটা সঠিক সময়ে হয়নি।"
তিনি বলেন, "এটা সবার জন্য উৎসব হওয়ার কথা, বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের উপভোগ করার কথা। আমি আর্জেন্টিনার সবাইকে বলতে চাই, কোচ হিসেবে আমার ফুটবলারদের সাথে থাকা আমার দায়িত্ব।"
ব্রাজিলের ফুটবলাররাও খেলতে চেয়েছেন বলে দাবি করেন স্কালোনি। "আমাদের কখনোই জানানো হয়নি আমরা ম্যাচটা খেলতে পারবো না। আমরা ম্যাচটা খেলতে চেয়েছি, ব্রাজিলের ফুটবলাররাও ম্যাচ খেলতে চেয়েছেন।"
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, দলটি ৩রা সেপ্টেম্বর থেকেই ব্রাজিলে আছে এবং সকল স্বাস্থ্য প্রটোকল মেনেছে।
একটি বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, "ফুটবলে এমন কোন ঘটনা ঘটা অনাকাঙ্খিত, যেখানে এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রতিযোগিতায় কোনওভাবেই স্পোর্টসম্যানশিপকে ছোট করা হয়েছে।"
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এডনালডো রদ্রিগেজ ম্যাচ থামানোর সময়ের জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেছেন।
ব্রাজিলের স্পোর্টভিতে তিনি বলেন, "যারা টেলিভিশনের সামনে বসেছিলেন তাদের জন্য খারাপ লাগছে।"
"আনভিসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তাদের উচিৎ ছিল খেলা শুরু হওয়ার আগেই একটা সমাধানে আসা, ম্যাচ শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করা।"
বিবিসি স্পোর্টের সাউথ আমেরিকান ফুটবল বিশ্লেষক টিম ভিকেরি বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে পুরো বিষয়টাকে 'হাস্যকর' বলে অভিহিত করেছেন। "বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোর একটিকে হাস্যকর করে তোলা হয়েছে।"
তিনি বলেন, "খেলা শুরু হয়েছে, পাঁচ মিনিট হয়ে গেছে। এর মধ্যে কয়েকজন স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ঢুকলেন এবং তখন আমরা জানলাম আজ কোন খেলা হবে না।"
"আর্জেন্টিনার বৃহস্পতিবার বলিভিয়ার সাথে ম্যাচ আছে। তারা বিমানবন্দরে চলে গেল ম্যাচ না খেলে।"