আফগানিস্তান: কাবুল ছাড়া সব বড় শহর তালেবানদের কব্জায়

ছবির উৎস, Getty Images
দ্রুতগতিতে গোটা আফগানিস্তান নিজেদের দখলে নিয়ে এসে এখন কাবুলের অভিমুখে তালেবানরা, শঙ্কা বাড়ছে দেশটির রাজধানীতে।
রবিবার সকালে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের শহর জালালাবাদ বিনা যুদ্ধে দখলে নেয় তালেবানরা, এখন শুধুমাত্র কাবুল শহরটিই সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে।
শনিবার দেশটির উত্তরের শহর মাজার-ই-শরীফ দখল করে তালেবানরা।
সরকারি বাহিনীগুলোর এমন বিপর্যয়ের পর আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানির ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছে।
কাবুলে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই করবে নাকি আত্মসমর্পণ করবে এই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি এখন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট।
বিপর্যস্ত দেশটি থেকে নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ৫০০০ সৈন্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে ইউএস সৈন্য সরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে পক্ষে বলেন, "অন্য দেশের অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব মেটাতে অনন্তকাল ধরে কোন দেশে আমেরিকার অবস্থান জানান দেয়ার সমর্থন করা যায় না।"
আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আরো পড়ুন:

জালালাবাদে কী হয়েছিল
রবিবার সকালের খবর আসে, তালেবানরা কোন ধরনের গোলাগুলি ছাড়াই শহরটির দখল নিয়ে নেয়।
জালালাবাদ শহরের একজন আফগান কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, "এই মুহূর্তে জালালাবাদে কোন সংঘাত হচ্ছে না, কারণ তালেবানদের কাছে গভর্নর আত্মসমর্পণ করেছে।"
"বেসামরিক মানুষের জীবন বাঁচাতে, তালেবানদের পথ তৈরি করে দেয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না।"
জালালাবাদ দখলে নেয়ার মানে, তালেবানরা দেশটির সাথে পাকিস্তানের সংযোগকারী সড়কগুলোও নিজেদের করে নিয়েছে।
আফগানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর এবং বলখ প্রদেশের রাজধানী মাজার-ই-শরীফ দখল করে নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই জালালাবাদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তালেবানরা, মাজার-ই-শরীফ আয়ত্বে নিতেও কোন সংঘাতের প্রয়োজন হয়নি।
বলখের একজন আইনপ্রণেতা আবাস ইব্রাহিমজাদা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, জাতীয় আর্মি প্রথমে আত্মসর্মণ করে, এটা পরে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাহিনীগুলোকে এবং অন্য মিলিশিয়া বাহিনীদের হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য করে।
আফগানিস্তানের ২৪টি প্রদেশের মধ্যে ২৩টির রাজধানী এখন তালেবানদের দখলে।








