আফগানিস্তান: তালেবান গজনি দখল করেছে; দশম এই প্রাদেশিক রাজধানী দখল কেন গুরুত্বপূর্ণ

কাবুলের অস্থায়ী শিবিরে শিশুরা

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, তালেবানের লড়াই থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ কাবুলে পালিয়ে গেছে এবং অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে

তালেবান কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গজনি শহর দখল করে নিয়েছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে এটি দশম প্রাদেশিক রাজধানী যেটির পতন ঘটল।

গজনি শহরটি গুরুত্বপূর্ণ কাবুল আর কান্দাহার মহাসড়কের উপরে। দক্ষিণে তালেবানের শক্ত ঘাঁটির সাথে রাজধানী কাবুলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি।

ধারণা করা হচ্ছে, গজনির নিয়ন্ত্রণ নেবার ফলে তালেবানের শেষ পর্যন্ত খোদ কাবুল দখলের সম্ভাবনা বাড়ল।

আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানীর মধ্যে এক তৃতীয়াংশই এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে।

বিশ বছরের সামরিক অভিযান শেষে আমেরিকান এবং অন্যান্য বিদেশি সৈন্যদের আফগানিস্তানের ত্যাগের সাথে সাথে তালেবান যোদ্ধারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। প্রতিদিন তারা নতুন নতুন শহরের দখল নিচ্ছে।

গজনির প্রাদেশিক পরিষদের একজন সদস্য বিবিসিকে বলেছেন যে তালেবান শহরের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শুধু গজনি শহরের উপকণ্ঠে একটি মাত্র পুলিশ চৌকি।

আরও পড়ুন:

1px transparent line

অন্যান্য প্রাদেশিক রাজধানীগুলোর পরিস্থিতি

বুধবার কান্দাহার শহর থেকেও তুমুল লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। তালেবান দাবি করেছে, তারা শহরের কারাগারের দখল নিয়েছে, যদিও এ খবর নিশ্চত করা যায়নি।

দক্ষিণে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ্ শহরে তালেবান পুলিশ সদরদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে আফগানিস্তানে এক হাজারের উপর বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

ভিডিওর ক্যাপশান, শত শত আফগান ঘরবাড়ি ছেড়ে তুরস্কে পালাচ্ছেন কেন?

শুধুমাত্র এ সপ্তাহেই উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তারা কাবুলে পৌঁছেছে।

রাজধানী কাবুলের উপকণ্ঠে পরিত্যক্ত জমিতে অস্থায়ী শিবিরে তারা মাথা গুঁজেছে। প্রচুর মানুষ খোলা রাস্তায় এবং পরিত্যক্ত গুদামঘরে রাত কাটাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

''আমাদের রুটি কেনার অর্থ নেই, আমার বাচ্চার জন্য ওষুধ কেনারও আর্থিক সামর্থ্য নেই,'' বিবিসিকে বলেছেন কুন্দুজ থেকে পালিয়ে আসা ৩৫-বছরের ফেরিওয়ালা। তিনি বলেছেন, তালেবান তার বাসায় আগুন ধরিয়ে দেবার পর তিনি ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন।

বুধবার আফগানিস্তান সরকার তাদের সেনা প্রধান পরিবর্তন করেছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে। অপসারিত সেনা প্রধান জেনারেল ওয়ালি মোহাম্মদ আহমেদজাই তার পদ গ্রহণ করেছিলেন মাত্র জুন মাসে।

আফগানিস্তানের কোন এলাকা কার নিয়ন্ত্রণে

আফগান সরকার মরিয়া

বুধবার আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি উত্তরের মাজার-ই-শরীফে যান, প্রথাগতভাবে তালেবান বিরোধী এলাকাটি থেকে সরকারি বাহিনীর পক্ষে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টায়।

মাজার-ই-শরীফ উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান সীমান্তের কাছে। সরকার যদি সেখানে তার সমর্থন হারায় এবং মাজার-ই-শরীফের যদি পতন ঘটে, তাহলে পুরো উত্তর আফগানিস্তানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়বে।

প্রেসিডেন্ট গানি মাজার-ই-শরীফে উজবেক সম্প্রদায়ের যোদ্ধা দলের নেতা আবদুল রশীদ দোস্তাম এবং তাজিক সম্প্রদায়ের নেতা আতা মোহাম্মদ নূর-এর সাথে শহরটির প্রতিরক্ষা নিয়ে বৈঠক করেছেন।

প্রবীণ কমান্ডার মি. দোস্তামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে: ''তালেবান উত্তরাঞ্চল দখল করতে আগে বহু বার এসেছে, কিন্তু প্রতিবারই তাদের ফাঁদে ফেলা হয়েছে।"

মি. গানি আফগান জাতীয় সেনাবাহিনীকে গুরুত্ব দেবার প্রয়াসে বেশ কয়েক বছর ধরেই প্রাদেশিক সমর নেতাদের উপেক্ষা করে এসেছেন। এখন প্রয়োজনের সময় তাকে তাদের সমর্থনের মুখাপেক্ষী হতে হয়েছে বলে বলছেন বিবিসির এথিরাজন আনবারাসান।

এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে প্রেসিডেন্ট সরকার সমর্থক মিলিশিয়াদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতেও রাজি হয়েছেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: