আফগানিস্তান: তালেবান বিদ্রোহীদের আরো শহর দখল করার মধ্যেই আফগান সেনাপ্রধান পরিবর্তন

আফগানিস্তানে কয়েক দশক ধরে যুদ্ধের পর কাবুলের এই বালকদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, আফগানিস্তানে কয়েক দশক ধরে যুদ্ধের পর কাবুলের এই বালকদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

আফগানিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধানকে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তন এমন এক সময় এলো যখন তালেবান বিদ্রোহীরা একের পর এক এলাকা দখল করছে।

দেশটির ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানীর অন্তত ৯টির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবানরা।

বুধবারেও কান্দাহার এবং গজনি শহরে সহিংস যুদ্ধ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে দেশটির সেনাপ্রধান ওয়ালি মোহাম্মদ আহমেদজাইকে অপসারণ করার খবর সম্পর্কেও বিবিসি বুধবার নিশ্চিত হয়েছে। তিনি জুন মাসে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

তালেবান বিদ্রোহীদের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেয়া অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে যে সহিংসতা বাড়ছে, সেটি সামাল দেয়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে নতুন সেনাপ্রধানের সামনে।

২০ বছরের সেনা কার্যক্রম শেষে গত মাসে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বিদেশি বাহিনীর প্রায় সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, শুধু গত মাসেই আফগানিস্তানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে।

আরো পড়তে পারেন:

উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সাথে নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক আশরাফ ঘানির

বুধবার প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি মাজার-ই-শরিফ শহরে উজবেক যোদ্ধাদের নেতা আবদুল রশিদ দস্তুম এবং তাজিক গোষ্ঠীর নেতা আতা মোহাম্মদ নুরের সাথে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন।

আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ঘানি এর আগে কখনো এই নেতাদের সমর্থন করেননি। কিন্তু এখন তার প্রয়োজনের সময় এই নেতাদেরকেই কাছে টানছেন তিনি।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি (মাঝে) তার সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এ সপ্তাহের শুরুর দিকে সরকার পন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীকেও অস্ত্র দিতে রাজি হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ঘানি।

উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাজার-ই-শরিফ শহরটি অবস্থিত। এই শহরের নিয়ন্ত্রণ হারালে উত্তর আফগানিস্তান থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারাবে।

একের পর এক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে তালেবান

উত্তর আফগানিস্তানের আরেকটি প্রাদেশিক রাজধানী কুন্দুজের দখল নিয়েছে তালেবান। শহরটির দখল নেয়ার সময় শত শত সরকারি সেনা বিমানবন্দরে অস্ত্র জমা দেন এবং পরে আত্মসমর্পণ করেন।

স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, বুধবার পূর্ব আফগানিস্তানের গজনি শহরেও তালেবান ও সরকারি সেনাদের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) জানিয়েছে, আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহারের 'রাস্তায় রাস্তায়' তীব্র লড়াই চলেছে।

তালেবান ঐ শহরের কারাগারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করলেও ঐ তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ৯০ দিনের মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে তালেবান।

তবে ঐ একই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে আফগান বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে তালেবানের এই প্রচেষ্টা থামানো সম্ভব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাক্ষাৎকার দেয়া ঐ মার্কিন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এসব মন্তব্য করেন।

ভিডিওর ক্যাপশান, শত শত আফগান ঘরবাড়ি ছেড়ে তুরস্কে পালাচ্ছেন কেন?