কোভিড ভ্যাক্সিন: টিকা কার্যক্রম সাত দিন পেছানোর কারণ নিয়ে বিতর্ক

    • Author, কাদির কল্লোল
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে গ্রাম পর্যায়ে যে টিকা দান কর্মসূচী ৭ই অগাস্ট শুরু হবার কথা ছিল, তা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেবার ফলে পুনরায় সরকারী অব্যবস্থাপনা আর প্রস্তুতির অভাবের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন বলছে, গ্রাম বা ইউনিয়ন পর্যায়ের টিকা কার্যক্রম ১৪ই অগাস্ট শুরু হবে, এবং আগের নির্ধারিত তারিখ ৭ই অগাস্টে সারাদেশে 'পরীক্ষামূলক' টিকা দেয়া হবে।

এতদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সরকারের অনেক মন্ত্রী ৭ই অগাস্ট থেকে সাতদিনে এক কোটি টিকা দেয়ার কথা বলেছেন।

কিন্তু এখন কর্মকর্তারা বলেছেন, গ্রাম পর্যায়ে টিকা দেয়ার ব্যবস্থাপনায় কোন জটিলতা হয় কিনা- সেটা দেখার জন্য এখন এই 'টেস্ট রান' প্রয়োজন।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক একজন কর্মকর্তা ড: বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, ঘোষণা দিয়ে পিছিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকতে পারে বলে তার ধারণা।

"গ্রামে গ্রামে টিকা দেয়ার জন্য অনেক লোকবলের পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়মিত টিকা পরিবহণ নিশ্চিত করতে হবে।

"এসব বিষয়ে যথাযথ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে কিনা-এখন সেই প্রশ্ন এসে যায়" বলেন ড: আহমেদ।

আরও পড়ুন:

তারিখ পিছিয়ে কর্তৃপক্ষ যে যুক্তি দিচ্ছে

সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে কখনই পরীক্ষামূলক টিকা দেয়ার কথা বলা হয় নাই।

কিন্তু টিকা দেয়ার সময় পিছিয়ে দিয়ে পরীক্ষামূলক টিকা দেয়ার এমন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নানা রকম বক্তব্য দিয়েছেন।

এক দিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন মুখপাত্র অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলছেন, ব্যবস্থাপনায় কোন সমস্যা হয় কিনা, তা দেখার প্রয়োজন। অন্যদিকে, লকডাউনকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশিদ আলম লকডাউনের সময় টিকা সরবরাহে সমস্যার কথা যুক্তি হিসাবে দেখিয়েছেন। তবে টিকা পরিবহনের মত জরুরী সেবা কেন লকডাউনের আওতায় পড়বে, তার কোন ব্যাখ্যা তিনি দেন নি।

অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলছেন, সাত তারিখের 'টেস্ট রান'-এ এক দিনে ৩২ লাখ টিকা দেয়ার টার্গেট তারা নিয়েছেন।

প্রস্তুতির ঘাটতি?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এসব বক্তব্যকে খোঁড়া যুক্তি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ড: বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, "আসলে যথাযথ প্রস্তুতি না নিয়ে টিকা কার্যক্রম শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল বলে মনে হয়।"

ড: আহমদের বক্তব্য হচ্ছে, গ্রাম পর্যায় টিকা কার্যক্রম চালানোর ক্ষেত্রে অনেক লোকবলের দরকার রয়েছে।

একই সাথে, নিয়মিত সারাদেশে টিকা সরবরাহ করতে হবে এবং সেজন্য পরিবহণ খরচ হিসাবে বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড: বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখন সোয়া কোটি টিকা হাতে থাকার দাবি করা হচ্ছে। সেখানে টিকার মজুদের চেয়ে তা দেয়ার ক্ষেত্রে আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলোকে এমুহূর্তে তিনি বড় সমস্যা হিসাবে দেখেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইতিমধ্যেই সারাদেশে ১৪ হাজার কেন্দ্র এবং ৮১ হাজারের বেশি কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবী ঠিক করা হয়েছে।

কিন্তু সেই কর্মীদের প্রশিক্ষণ কতটা দেয়া হয়েছে- তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে ড: আহমেদের।

এখন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার জন্যই পরীক্ষামূলক টিকা দেয়ার কথা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আস্থার সংকট বাড়বে

এর আগে সরকারের অনেক মন্ত্রী যে ৭ই অগাস্ট থেকে সাতদিনে এক কোটি টিকা দেয়ার কথা বলেছেন, সেটাকে ড: আহমেদ সমন্বয়হীনতার প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন ।

''প্রস্তুতি নেয়ার আগে এমন ঘোষণা দেয়া সরকারের কর্মকাণ্ডে সমন্বয়হীনতার প্রমাণ,'' তিনি বলেন।

তিনি মনে করেন, গ্রামে টিকা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম। সে পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে টিকা কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম সিদ্ধান্ত এলে আস্থার সংকট বাড়বে।

গ্রাম পর্যায়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হলে তা প্রতি সপ্তাহে তিন দিন ধরে চলবে। আর সপ্তাহে দু'দিন চলবে অন্যান্য টিকা বা নিয়মিত টিকা দেয়ার কার্যক্রম।