আমির খান ও কিরণ রাও পনেরো বছরের দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন

বলিউড অভিনেতা আমির খান ও পরিচালক কিরণ রাও ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুজনই যৌথ বিবৃতিতে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের বয়স ১৫ বছর এবং তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

আমির ও কিরণ তাদের ওই যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন যে, "এই ১৫টি সুন্দর বছর আমরা একসাথে অনেক অভিজ্ঞতা, আনন্দ এবং হাসি ভাগ করে নিয়েছি এবং আমাদের সম্পর্ক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় বেড়ে উঠেছে। আমরা দুজনেই এখন জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছি। তবে স্বামী এবং স্ত্রী হিসাবে নয়, বরং সন্তানের বাবা-মা এবং পরিবার হিসাবেই তা শুরু করতে চাই"

"আমরা কিছু দিন আগে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন আমরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। আমরা আলাদা থাকলেও একে অপরের পরিবারের অংশ হয়েই থাকবো। আমরা দুজনই আমাদের ছেলে আজাদের দেখাশোনা করবো। এছাড়া আমরা পানি ফাউন্ডেশন, চলচ্চিত্রসহ আমাদের প্রিয় অন্যান্য প্রকল্পে সহযোগী হিসাবে কাজ চালিয়ে যাব।"

আরও পড়তে পারেন:

"আমরা পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের আমাদের পাশে থাকার জন্য এবং আমাদের সম্পর্কের এই পরিবর্তনটি বোঝার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদেরকে ছাড়া আমরা জীবনের এতো বড় পদক্ষেপ নিতে পারতাম না। আমরা আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ প্রত্যাশা করছি। এবং আশা করি আমাদের মতো আপনারাও এই বিবাহ বিচ্ছেদকে সমাপ্তি হিসাবে নয় বরং নতুন যাত্রার সূচনা হিসাবে দেখবেন।"

এটি ছিল আমির খানের দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি এর আগে ১৯৮৬ সালে রিনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন। ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষে দুজনে ২০০২ সালে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ওই পরিবারে তাদের জুনাইদ খান এবং ইরা খান নামে দুটি সন্তান রয়েছে।

এরপর আমির ও কিরণ ২০০৫ সালের ২৮শে ডিসেম্বর বিয়ে করেন। ২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাদের ছেলে আজাদ রাওয়ের জন্ম হয়। ১৫ বছর পরে, তারা আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত ছবি 'লাগান' চলাকালীন আমির ও কিরণের প্রথম দেখা হয়েছিল। কিরণ ওই ছবির সহকারী পরিচালক ছিলেন।

কিরন রাও জানে তু ইয়া জানে না, পিপলি লাইভ, ধোবিঘাট, দিল্লি বেলি, তালাশ, দাঙ্গাল, সিক্রেট সুপারস্টার, রুবারু রোশনি চলচ্চিত্রের প্রযোজক ছিলেন। ধোবিঘাট-এর পরিচালকও ছিলেন কিরন রাও।

পানি ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিতেন আমির ও কিরণ। এজন্য তারা মহারাষ্ট্রের অনেক গ্রামে ঘুরে ঘুরে গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলেছেন।