পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু: সিলেটে রায়হান হত্যার চার্জশিটে ক্ষুব্ধ মা

নিহত রায়হান আহমেদ

ছবির উৎস, FAMILY HANDOUT

ছবির ক্যাপশান, নিহত রায়হান আহমেদ

বাংলাদেশের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই বলছে রায়হান হত্যার ঘটনায় পাঁচজন পুলিশসহ মোট ছয়জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে তারা।

তবে রায়হান আহমেদের মা সালমা বেগম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তারা এই চার্জশিটে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, "পুলিশ সদস্যদের রক্ষার জন্য চার্জশিটে আমার ছেলের নামে অনেক বানোয়াট তথ্য দেয়া হয়েছে।"

গত বছর ১০ই অক্টোবর বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেটের কাষ্টঘর এলাকা থেকে রায়হান আহমেদকে আটক করে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায় সেখানকার পুলিশ।

এরপর ভোররাতের দিকে মিস্টার আহমেদ অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে তার এক আত্মীয়কে টাকা নিয়ে ওই ফাঁড়িতে যেতে বলেন।

সকালে তার বাবা পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে তাকে হাসপাতালে যেতে বলা হয়। হাসপাতালে গিয়ে সন্তানের মৃত্যুর খবর পান তিনি। ওই রাতেই মিস্টার আহমেদের স্ত্রী হেফাজতে মৃত্যু আইনে মামলা করেন।

পিবিআই পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান বলছেন, "মামলাটি দীর্ঘ ৬ মাসের বেশি সময় তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছি। আমাদের তদন্তে ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ জন পুলিশ সদস্য। মোট ৫ জন গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আছে। এখন পরবর্তী বিষয়গুলো আদালতে নিষ্পত্তি হবে"।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

চার্জশিটে অভিযুক্ত ছয় জনের মধ্যে পাঁচজনই পুলিশ সদস্য

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চার্জশিটে অভিযুক্ত ছয় জনের মধ্যে পাঁচজনই পুলিশ সদস্য

গত বছর রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনার পর উত্তাল হয়ে উঠেছিলো সিলেট। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে তখন বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিও পালিত হয়েছিলো।

আবার ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবিতে পুলিশকে বায়াত্তর ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলো তার পরিবার। সেই সময় পার হওয়ার পরে মিস্টার আহমেদের মা সালমা বেগম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনশনের কর্মসূচিও পালন করেছিলেন, যাতে যোগ দিয়েছিলো স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীদের অনেকে।

সালমা বেগম আজ বিবিসি বাংলাকে বলছেন সাত মাস পর চার্জশিট দিলেও এটি তাদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তার অভিযোগ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের রক্ষার চেষ্টা থেকে চার্জশিটে তার ছেলের নামে অনেক অসত্য তথ্য দেয়া হয়েছে।

"এত দেরির পর তারা যা দিয়েছে তাতে আমরা খুশী নই। তারা আমার ছেলেকে ছিনতাইকারী, হেরোইন ব্যবসায়ী- এরকম করে লিখেছে পুলিশকে বাঁচানোর জন্য। আমরা আইনজীবীদের সাথে বসবো। আমরা এটাতে নারাজি দিতে পারি।"

রায়হান আহমেদের মৃত্যুর পর শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়েছিলো যে ছিনতাইয়ের অভিযোগে এলাকাবাসী মিস্টার আহমেদকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করেছে। এরপর তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশে প্রায়শই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে প্রায়শই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।

কিন্তু পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে গণপিটুনির কোন আলামত না পাওয়ায় তখন পরিস্থিতি ঘুরে যায়। আবার দুই দফা ময়নাতদন্তে শরীরে আঘাতের কথা জানায় তদন্তকারী সংস্থা।

এরপর মূল অভিযুক্ত পুলিশের এসআই আকবর হোসেনকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আটকও করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা খালেদ-উজ-জামান বলছেন ঘটনার গুরুত্ব, পারিপার্শ্বিকতাসহ সংশ্লিষ্ট সব খুঁটিনাটি তদন্তের জন্য চার্জশিট দিতে তাদের কিছুটা সময় লেগেছে।

রায়হান আহমেদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রায় দু'হাজার পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন আদালতে চার্জশিট হিসেবে দাখিল করেছেন। তবে এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এ অবস্থায় তারা ধারণা করছেন যে আদালত পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হলে তখন এই প্রতিবেদন নিয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হবে।