আগামী মাসেই স্কুল খুলে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে - সংসদে বললেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জাতীয় সংসদে বলেছেন, আগামী মাসেই তারা স্কুল খুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন।
সংসদে একটি শিক্ষা বিষয়ক কয়েকটি বিল পাশের পর দেয়া বক্তব্য একথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
এবার বিনা পরীক্ষায় যাতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফলাফল দেয়া যায়, সেই সংক্রান্ত একটি বিলও সেখানে পাশ হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা না নিয়ে ফল প্রকাশে যেই আইনি জটিলতা ছিল তা নিরসন হওয়ায় যত দ্রুত সম্ভব এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর কীভাবে কার্যক্রম শুরু হবে - সংসদে বক্তব্যের সময় সেই পরিকল্পনা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস নেয়া হবে আর অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে একদিন স্কুলে যেতে হবে। ঐ একদিন ক্লাস করে তারা পুরো সপ্তাহের পড়া নিয়ে যেতে হবে এবং পরের সপ্তাহে আবার একদিন স্কুলে যেতে হবে।
গত বছরের অক্টোবরে শিক্ষামন্ত্রী জানান ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পরীক্ষা না নিয়েই দেয়া হবে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পরীক্ষা না নিয়ে ফল দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তবে পরীক্ষা না নিয়ে ফলাফল দেয়ার বিষয়ে আইনি বাধা ছিল এতদিন। সেসব জটিলতা মাথায় রেখে বর্তমান আইন সংশোধন করে গত মঙ্গলবার সংসদে বিল উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী।
রবিবার বিলটি পাস হওয়ার পর এইচএসসির ফল প্রকাশ করা নিয়ে আর কোনো আইনি জটিলতা থাকলো না।
মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মত বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা না নেয়া সম্ভব হলে যেন পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশ করার বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এই বিলটি উত্থাপন করা হয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান।
সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এই বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হয়, তাহলে পরের কয়েকমাসের মধ্যে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ঐ সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের প্রস্তুতি নিয়ে এ বছরের পরীক্ষা নিতে পারবো বলে আশা করি।"
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন জেএসসি এবং এসএসসি'র ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের এইচএসসি'র ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি জানিয়েছিলেন, এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছে সরকার।
কিন্তু গত সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান যে, অধ্যাদেশ জারি নয় বরং আইনের সংশোধনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
সেসময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছিলেন, "পার্লামেন্টে এটা প্রথম দিন উত্থাপন করে , দুই তিন দিনের মধ্যে আইন করে তারপর ২৫-২৬ তারিখ, ম্যাক্সিমাম ২৮ তারিখের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে দেয়া যায়।"
নতুন সংশোধনীর ফলে দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা নিতে সক্ষম না হলে, মূল্যায়ন বা ফলাফল দেয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে। ১৭টি শিক্ষা বোর্ডের ২০২০ সালে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল।








