এইচএসসি: চলতি বছর পরীক্ষা হবে না, শিক্ষার্থীদের ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হবে

এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও পেছাবে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এবারে এইচএসসি পরীক্ষা হবে না, ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হবে শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, এই পরীক্ষা সরাসরি না নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জেএসসি এবং এসএসসি'র ফলাফলের ভিত্তিতে তাদের এইচএসসি'র ফলাফল নির্ধারণ করা হবে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান।

দীপু মনি জানান, "আমাদের দেশে যেভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, সেভাবে হলে শিক্ষার্থীদের পাশাপশি পরীক্ষা আয়োজনের সাথে জড়িতদের মধ্যেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাই ভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।"

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এইচএসসির আগে সব পরীক্ষার্থীকে জেএসসি ও এসএসসি, এই দুটি পাবলিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তাই আমরা এই দুই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফলাফল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।"

"এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের পদ্ধতি যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়, সেবিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

শিক্ষামন্ত্রী জানান চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে তা ডিসেম্বরের মধ্যে জানানো হবে।

জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড়ের মাধ্যমে এইচএসসির ফলাফল নির্ধারিত হলেও গড়ের ক্ষেত্রে কোন পরীক্ষার ফলের গুরুত্ব কতটুকু থাকবে তা ফলাফল সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটি নির্ধারণ করবে বলে জানানো হয়।

পরীক্ষায় পাশের ফল পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উৎসব (আর্কাইভ থেকে নেয়া)

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, পরীক্ষায় পাশের ফল পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের উৎসব (আর্কাইভ থেকে নেয়া)।

এই পরামর্শক কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। এছাড়া ৯টি শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক হিসেবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিও থাকবেন এই কমিটিতে।

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির বিষয়টিও নির্ভর করে, তাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন করে প্রতিনিধিও থাকবেন পরামর্শক কমিটিতে।

পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এবছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল নির্ধারণের মূলনীতি ঠিক করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান গতবছর যারা এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করেছে, সেসব শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও তাদের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে করা হবে।

আর যেসব শিক্ষার্থী বিভাগ পরিবর্তন করেছে - বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা কলা বিভাগে গিয়েছে যারা - তাদের ফলাফলও নির্ধারিত হবে পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী।

বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নির্দিষ্ট সময়মত অনুষ্ঠিত হয়নি এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা।

এইচএসসি পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এর আগে কয়েকদফা আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যায়নি।

তবে শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার উপদেশ দিয়ে জানিয়েছিলেন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ১৫ দিন আগে নোটিশ দেয়া হবে।

এইচএসসির পরীক্ষার মত বড় আয়োজন করা হলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এতদিন পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হবে না।

বাংলাদেশে ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পর্যায়ে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন।

আরো পড়তে পারেন: