নতুন বছর ও থার্টি ফাস্ট নাইট: ফানুস আর আতশবাজির ঝলকে রঙ্গিন ঢাকার আকাশ, পার্টি-ডিসকো সবই চলেছে

ইংরেজি নতুন বর্ষ উদযাপন, ঢাকা

ছবির উৎস, Nakib Shah Alam

ছবির ক্যাপশান, আতশবাজির ঝলকে রঙ্গিন ঢাকার আকাশ। ছবিটি মিরপুর এলাকা থেকে রাত ১২টার পরে তোলা।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইটে ঘরের বাইরে উন্মুক্ত স্থানে কোন আয়োজনে কারো অংশ নেয়ার সুযোগ ছিলো না কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণেই, কিন্তু তাতে থামিয়ে রাখা যায়নি মানুষের উদযাপনকে।

রাত ঠিক বারটায় আতশবাজির ঝলকে রঙ্গিন হয়ে উঠেছিল ঢাকার আকাশ, পাশাপাশি পটকার শব্দে প্রকম্পিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা।

এবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছিল মানুষের বাসা-বাড়ির ছাদকেও। কিন্তু অনেকেই ছাদে বারবিকিউ পার্টিসহ পারিবারিক নানা আয়োজন করেছেন নতুন বছরের প্রথম মূহুর্তটি স্মরণীয় করে রাখবার জন্য।

আবার সাধারণ মানুষের আয়োজন নিষিদ্ধ থাকলেও তারকা হোটেলগুলোতে পার্টি, ডিসকোসহ নানা আয়োজনে অংশ নিয়েছে উচ্চবিত্তের অসংখ্য মানুষ।

ঢাকার বিমানবন্দরের কাছে একটি তারকা হোটেলের ডিসকোতে গিয়েছিলেন এমন একজন জানিয়েছেন যে রাত আড়াইটা পযর্ন্ত পার্টি হয়েছে যেখানে নাচ-গানে উদযাপন করেছেন বহু নারী-পুরুষ।

ঢাকার খিলগাঁওয়ের অধিবাসী বিপ্লব চন্দ্র পাল বিবিসি বাংলাকে বলছেন, তারা যে ভবনে বাস করেন সেখানকার বিভিন্ন ফ্লাটের অধিবাসীরা মিলে নানা আয়োজন করেছেন তাদের ভবনের ছাদে।

"সবাই মিলে উৎসব করেছি। খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন ছিল। মহিলাদের জন্য বালিশ খেলা ছিল। নতুন বছরের শুরুতে আতশবাজি ছুড়েছি। সব মিলিয়ে দারুণ মজা করেছি আমরা," বলছিলেন তিনি।

তিনি জানান, তাদের ভবনটি লাইটিং করা ছাড়াও ছবি তোলার জন্য ফটো সেশন কর্নার করেছিলেন তারা।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

উড়ানো হচ্ছে ফানুস

ছবির উৎস, Nasirul Haque Rimu

ছবির ক্যাপশান, উড়ানো হচ্ছে ফানুস

"শুধু আমরাই নয় এলাকার বহু বাড়ির ছাদেই ছিলো এমন আয়োজন। আসলে পুরো একটা বছর এতো খারাপ গেছে যে উৎসবের মাধ্যমে নতুন বছর স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সবাই একটু স্বস্তি পেতে চাইছিলাম," বলছিলেন বিপ্লব চন্দ্র পাল।

আবার মিরপুরের নাসিরুল হক রিমু বলছেন নতুন বছর স্বাগত জানানোকে উপলক্ষ করে নিজেদের বাসার ছাদে পারিবারিক প্রোগ্রাম করেছেন তারা।

"পরিবারের সবাই মিলে এ আয়োজনে অংশ নিয়েছি যাতে ছিলো নানা গেমস, খাওয়া-দাওয়া, পটকা ফুটানো, ফানুস উড়ানো এবং কেক কাটা"।

অন্যদিকে ধানমন্ডি থেকে আহমেদ মম বলছেন, আতশবাজি আর ধুম -ধাড়াক্কা শব্দে তাদের এলাকা ছিলো প্রকম্পিত।

গ্রীনরোডের ফেরদৌসি রেজা চৌধুরী বলছেন, প্রায় একই অবস্থা ছিল তাদের গ্রীনরোডের বাসার এলাকায়, এমনকি অনেক বাড়ি থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভেসে এসেছে মিউজিকের শব্দ।

মোহাম্মদপুরের তৌহিদুর রহমান রাসেল বলছেন, "রাত বারটার ঢাকার আকাশে ছিলো ফানুস আর ফানুস আর পটকার ছড়াছড়ি... ঢাকা যেন অন্য কোন নগরী"।

আকাশজুড়ে ফানুস

ছবির উৎস, Nasirul Haque Rimu

ছবির ক্যাপশান, আকাশজুড়ে ফানুস

আবার গুলশানের অধিবাসী কামরুন নাহার দীপা বলছেন, "মধ্যরাতে ঢাকার আকাশ ছিলো আলোয় পরিপূর্ণ"।

বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকায় গত কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে বা উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ঠেকাতে উদ্যোগ নেয় পুলিশ।

ফলে উচ্চবিত্তরা তারকা হোটেলগুলোকে নিয়ে নানা আয়োজনে অংশ নিতে পারলেও মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘরের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না বলে অনেকে বলছেন।

এ কারণে গত কয়েক বছর ধরেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল ছাদ কেন্দ্রিক আয়োজন গুলো। এবার তাতেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল।

ঢাকার বিমানবন্দরের কাছে একটি তারকা হোটেলে থার্টি ফার্স্ট নাইটের আয়োজনে অংশ নেয়া একজন জানিয়েছেন সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি করেছেন তারা।

নেচে গেয়ে সবাই নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে, বলছিলেন তিনি।

তারকা হোটেলগুলোর অনেকগুলোতেই ডিজে পার্টি বা ডিসকোর আয়োজনে অংশ নিতে পাঁচ হাজার থেকে ২০/২৫ হাজার টাকা শুধু এন্ট্রি ফি দিতে হয়েছে।