ট্যাটু: জাপানীরা যেভাবে ভাঙছে উল্কি নিয়ে শত শত বছরের ট্যাবু
জাপানে উল্কি বা ট্যাটুর সম্পর্ক ইয়াকুজার মত সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠির সাথে, ভাল মানুষের জিনিস এটা নয়। চারশো বছর ধরে চলা এই বদ্ধুমূল ধারণা বা ট্যাবু ভাঙতে চাইছে একদল জাপানী। আর এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
উল্কিতে তারা প্রায়ই ফুটিয়ে তোলেন কিংবদন্তির চরিত্রগুলোকে।

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
যদিও কিছু স্পা, পুল, সৈকত এবং ব্যায়ামাগারে উল্কি নিষিদ্ধ করা আছে, কিন্তু ফটোগ্রাফার কিম কিয়ুং-হুন টোকিওর পাবলিক গোসলখানায় এমন কয়েকজনের দেখা পেয়েছেন।

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters


ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters


ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাপানের উল্কিপ্রেমীদের সংস্থা ইরেজুমি আইকোকাই টোকিওতে তাদের বার্ষিক জমায়েত আয়োজন করে।
সংস্থার প্রধান হিরোয়ুকি নিমোতো বলেন, এই জমায়েত জরুরি, কারণ সাধারণত দেহের উল্কিগুলো লুকিয়ে রাখতে হয় সমাজের চোখ থেকে।
"কিন্তু বছরে অন্তত একবার, আমরা গর্বভরে আমাদের শরীরে আঁকা নতুন উল্কিগুলো পরস্পরকে দেখাতে পারি"।

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters


ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
জমায়েতে যোগ দেয়া একজন, লেখক হিরোকি তাকামুরা, ৬২, বলেন: "দুই হাজারের দশকে উল্কি-বিষয়ক সাময়িকীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এমনকি নারীরাও নিজেদের দেহে বেশি বেশি উল্কি আঁকতে শুরু করে"।
"তখন আমি ভাবলাম এই বুঝি ইউরোপের মত আমাদের দেশেও উল্কিকে ভাল চোখে দেখা হতে শুরু করলো"।
কিন্তু পর্যটকদেরকে ঐতিহ্যবাহী জাপানি পোশাক কিমোনো পরানোর পেশায় নিয়োজিত রি ইয়োশিহারা, ৩৩, আজো তার বাবাকে নিজের পিঠভর্তি উল্কি দেখানোর সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারেননি।

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters


ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
তার ট্যাটুয়িস্ট সোদাই হরিরেন বলেন, "তোমার বাড়ি পুরনো হয়ে যাবে। তোমার বাবা-মা মারা যাবে। প্রেমিকের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবে। ছেলেমেয়ে বড় হয়ে যাবে। কিন্তু চিতায় পুড়বার আগ পর্যন্ত তোমার উল্কি তোমার সঙ্গে থেকে যাবে।"
"এটাই হচ্ছে উল্কির আবেদন"।

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
স্বামী হিরোশি সম্পর্কে মিনা ইয়োশিমুরা, ৪০, বলেন: "আমার যদি উল্কি থাকতো, আর আমার স্বামীর যদি না থাকতো, তাহলে সে এমন সব জায়গায় যেতে পারতো যেখানে যাবার অধিকার আমার থাকতো না।"

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
"কিন্তু যেহেতু দুজনেই আমরা একইরকম, তাই আমরা সর্বত্রই একত্রে যেতে পারি।"
"এটা দারুন।"
মারি ওকাসাকা, ৪৮, তার প্রথম উল্কিটি করিয়েছিলেন কুড়ি বছর আগে।
এখন, তার ছেলে তেনজি, ২৪, তার সারা শরীর উল্কিতে ছেয়ে ফেলবার পথে আছে।

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
মারি বলছেন, "কিছু মানুষ গভীর কোন কারণে উল্কি করে।"
"কিন্তু আমি করি এগুলো সুন্দর বলে। একই কারণে একটি সুন্দর জামাও কিনি আমি।"
কিন্তু যখন বাড়ির বাইরে যান মারি, তখন তিনি লম্বা হাতার জামা পরেন, যাতে প্রতিবেশিরা কানাঘুষা না করতে পারে।
তেনজি বলেন, "কিছু মানুষ হয়তো আমার দিকে অদ্ভূত দৃষ্টিতে তাকায়। কিন্তু সেসবকে পাত্তা দেইনা আমি।"

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
"হ্যাঁ, একটা সময় ছিল যখন মানুষ মনে করতো আমি কোন গ্যাংয়ের সদস্য।"
"কিন্তু এগুলো নিয়ে আমি খুব চিন্তিত না"।
"যতদিন পর্যন্ত আমার দেহে উল্কি আঁকার জায়গা অবশিষ্ট থাকবে, ততদিন পর্যন্ত চালিয়ে যাব আমি।"
অফিস কর্মী হিদেইয়ুকি তোগাশি, ৪৮, যার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে গত বছর, তিনি বলেন: "আমি মনে করি আমার কিছু উল্কির কারণে আমার কোন একটা অংশ মানসিকভাবে দৃঢ় আছে।"

ছবির উৎস, Kim Kyung-Hoon / Reuters
"এবং যেহেতু আমি দৃঢ় ছিলাম, আমি দ্রুত সেরে উঠতে পেরেছিলাম।"
ছবিগুলোর কপিরাইট সংরক্ষিত








