আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ফেসবুক লাইভে এসে সিলেটে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ
বাংলাদেশের সিলেটে ফেসবুক লাইভে থাকাকালীন এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার রাতে সিলেটের মোগলাবাজার থানার আলমপুর মুক্তিযোদ্ধা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ওই ফেসবুক লাইভটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লেও কিছু সময়ের মধ্যেই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ লাইভটি সরিয়ে নেয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যে আইডি থেকে লাইভ করা হয় সেটাও পরে বন্ধ পাওয়া গেছে বলে পরিবার এবং পুলিশ জানাচ্ছে।
নিহত ১৮ বছর বয়সী ওই কিশোরের নাম আলহাজ উদ্দিন বলে জানা গেছে এবং পুলিশ বলছে তারা ঘরের ভেতর তার গলায় ফাঁস দেয়া লাশ পেয়েছে।
গলায় ফাঁস পরার আগে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া একটি স্ট্যাটাস ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
একটি মেয়ের সাথে ছবি সংযুক্ত ওই ফেসবুক পোস্টে লেখা ছিল যে- ''কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসে। তারা অনেক স্বার্থপর হয় প্রিয় মানুষটার বিষয়ে। সবকিছু দিয়ে তাকে পেতে চায়। আর আমি কোনোভাবে পাইনি। চলে যাচ্ছি না ফেরার দেশে। ভালোবেসো না ঠকে যাবে!''
নিহতের চাচার ধারণা এই ঘটনা সন্ধ্যা ৭টা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটেছে। পুলিশ জানাচ্ছে যখন ওই কিশোরের ঝুলন্ত লাশ তারা উদ্ধার করে তখন রাত নয়টা, সাড়ে নয়টা বাজে।
ভাইরাল হওয়া ফেসবুক স্টেটাস থেকে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন যে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের চাচা আফজাল হোসেন বিবিসিকে জানান, গতকাল আলহাজ সারাদিন ঘরেই ছিল। রাতের বেলা মাকে চা বানানোর কথা বলে সে রুমে গিয়ে দরজা লক করে দেয়।
রুমের ভেতরে জোরে জোরে গান বাজায়। কিন্তু এমন কোন ঘটনা ঘটতে পারে বলে কেউ ধারণা করতে পারেননি।
পরে অনেকক্ষণ দরজা ধাক্কা দিয়েও কোন সাড়া না মেলায় ভেন্টিলেটরের ফাঁকা জায়গা থেকে তারা ফাঁস দেয়া লাশ দেখতে পান।
পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দরজা ভেঙে দড়ি খুলে লাশ নামিয়ে আনে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
এরি মধ্যে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সেটা পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান মি. হোসেন।
নিহত আলহাজ উদ্দিন সিলেট কারিগরি স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
মোগলাবাজার থানার ওসি সাহাবুল ইসলাম জানান, রাতে তারা খবর পেয়ে দরজা ভেঙে যখন ভেতরে ঢোকেন, দেখতে পান ওই কিশোর বিছানার চাদর কেটে দড়ি বানিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়েছে।
প্রেমের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এরি মধ্যে তারা নিহতের পরিবারের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান মি. ইসলাম।