‘প্যালিস্টিনিয়ান লাইভস ম্যাটার‌’: ইয়াদ হালাক কি ফিলিস্তিনিদের জর্জ ফ্লয়েড?

গত মাসে ইসরায়েলি পুলিশের হাতে এক অটিস্টিক ফিলিস্তিনি তরুণ হত্যার ঘটনাকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ট্রাজেডি’‌ বলে মন্তব্য করেছেন।

৩২ বছর বয়সী ইয়াদ হালাক যখন গত ৩০শে মে পূর্ব জেরুসালেমে তার বিশেষ স্কুলে যাচ্ছিলেন তখন ইসরায়েলি পুলিশ তার ওপর গুলি চালায়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, মি. হালাকের কাছে অস্ত্র আছে বলে তারা সন্দেহ করছিলেন। যখন তাকে থামতে বলা হয়েছিল, তখন না থামায় তাকে গুলি করা হয়।

কিন্তু পরে দেখা গিয়েছিল ইয়াদ হালাকের কাছে কোন অস্ত্র ছিল না।

এই হত্যাকান্ড সম্পর্কে এতদিন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করেন নি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

গত রোববার তিনি ইয়াদ হালাকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে বলে তিনি আশা করেন।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকের আগে তিনি বলেন, “ইয়াদ হালাকের সঙ্গে যা হয়েছে, তা একটি ট্র্যাজেডি। এই লোকটির অটিজম ছিল। খুব স্পর্শকাতর একটা এলাকায় তাকে ভুলক্রমে সন্ত্রাসবাদী বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল।”

হালাক পরিবারের আইনজীবী জাদ কাদমানি বলেছেন, পুলিশ অফিসাররা যে অপরাধ করেছেন, এমন সন্দেহ বাড়ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই অফিসারদের বিচারের মুখোমুখি করবেন।

ইয়াদ হালাককে যেভাবে হত্যা করা হয়

ইয়াদ হালাক গত শনিবার জেরুসালেমের ওয়াডি আল জজ থেকে শহরের কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের একটি প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলেন।

ইসরায়েলি পুলিশের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তার হাতে এমন কিছু ছিল, যা পিস্তলের মতো দেখাচ্ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথমে পুলিশ তাকে থামতে বলে। এরপর তাকে তাড়া করে। এসময় পুলিশ তার ওপর গুলি চালায়। তার দেহে তল্লাশি চালিয়ে কোন অস্ত্র পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বলা হয়, মি. হালাকের বুকে দুবার গুলি করা হয়েছিল।

মি. হালাকের চাচাতো ভাই ডাঃ হাতেম আওয়াইয়ি বলেন, অটিজমে ভোগার কারণে অন্য মানুষের সঙ্গে কথা বলতে তার অসুবিধা হতো।

ইয়াদ হালাকের মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। হাজার হাজার মানুষ তার জানাজায় অংশ নেয়। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় নামে অনেক ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি।

অনেকে তার মৃত্যুকে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে মারা যাওয়া জর্জ ফ্লয়েডের সঙ্গে তুলনা করেন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‌‘প্যালেস্টিনিয়ান লাইভস ম্যাটার’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছিলেন।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং বিকল্প প্রধানমন্ত্রী বেনি গ্যানটয বলেছিলেন, এই ঘটনায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা ‘সত্যিই দুঃখিত।’