আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
করোনাভাইরাস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, অবস্থার উন্নতি না হলে সদস্যপদ ছাড়ার হুমকি
কোভিড-নাইনটিন ইস্যুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে স্থায়ীভাবে তহবিল প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংস্থার প্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
এই চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি ঘটাতে হবে, নইলে যুক্তরাষ্ট্র এটি থেকে বেরিয়ে যাবে এবং তারা যে কোটি কোটি ডলারের তহবিল দেয় সেটিও প্রত্যাহার করে নেবে।
এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডক্টর টেড্রস অ্যাডহ্যানম গেব্রেইয়েসাসের কাছে।
গত ডিসেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেভাবে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় কার্যক্রম চালিয়েছে এই চিঠিতে তার তীব্র সমালোচনা রয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চীনের হাতের পুতুল বলে বর্ণনা করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বছরের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে তিনি নিজে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবেলাার চেষ্টা করেছেন, তার জন্য সমালোচিত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি চীন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি আরো বলেছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এনিয়ে বেইজিংকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে ব্যর্থ হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন মিস্টার ট্রাম্প মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন এবং চীনের গায়ে কলঙ্ক লেপন করতে চাইছেন। চীনা মুখপাত্র আরো বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ব্যর্থতা অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্বে এ পর্যন্ত যে ৪৮ লক্ষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষায় পড়েছে তার মধ্যে ১৫ লাখই যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৯০হাজার মানুষ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এই সময়সীমা বেঁধে দিলেন এমন একটা সময়ে যখন সংস্থাটি আরও নানাদিক থেকে চাপের মুখে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান অবশ্য এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সংস্থাটি যেভাবে কাজ করেছে তার যত শীঘ্র সম্ভব একটা স্বাধীন তদন্ত বা পর্যালোচনা হবে।
এই চিঠিতে কী বলা হয়েছে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার রাতে এই চিঠি টুইটারে প্রকাশ করেছেন।
এর আগে সোমবার সারাদিন ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আযার জেনেভায় এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মেলন চলছে সেই সম্মেলনের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই কোভিড নাইনটিনের মহামারিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দিয়েছে, যার ফলে বহু মানুষের জীবন গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের কাছে মিস্টার ট্রাম্প তার চিঠিতে বলেছেন, চীনের বেলায় সংস্থার কার্যক্রমে মারাত্মক স্বাধীনতার অভাব দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেছেন, গত ডিসেম্বরে বা তারও আগে থেকে যখন উহানে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছিল বলে বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছিল সেসব রিপোর্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উপেক্ষা করেছে।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চীন বারে বারে ব্যর্থ হয়েছে বলে অনেকদিন ধরে অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তবে বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ মাসের শুরুতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল এই সংকটের শুরু থেকেই চীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করেছে। তারা কখনোই এই সংস্থার কাজে কোন রকমের হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেনি।
এই চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো অভিযোগ করেছেন:
· চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর চাপের মুখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের ব্যাপারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে দেরি করেছে।
· যখন চীন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অস্বীকৃতি জানাচ্ছিল এবং সেন্সরশীপ জারি করেছিল তখন এই সংস্থা চীনের স্বচ্ছতার প্রশংসা করেছে।
· যখন চীনে আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের কারণে বৈষম্য করা হচ্ছিল তখন সে বিষয়ে মন্তব্য করতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
· ডক্টর টেড্রস যদি ডাব্লিউএইচওর সাবেক প্রধান ডঃ হারলেম ব্রান্টল্যান্ড ২০০৩ সালে যেভাবে সার্স মহমারি মোকাবেলা করেছিলেন, সেভাবে নেতৃত্ব দিতে পারতেন তাহলে বহু মানুষের জীবন বাঁচানো যেত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার চিঠির উপসংহারে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বারবার ভুল পদক্ষেপ নেয়ার কারণে এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে পুরো বিশ্বকে।
তিনি এই সংস্থার কার্যক্রমে বড় ধরনের উন্নতির দাবি জানিয়ে বলেন আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই তাদের সেটা করতে হবে। তবে এই উন্নতি বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন সেটা তিনি চিঠিতে স্পষ্ট করেননি।
তিনি বলেছেন এসব পরিবর্তন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে সমস্ত ধরনের তহবিল বন্ধ করে দেবে এবং পুরো সংস্থায় তাদের সদস্যপদ রাখা হবে কিনা সেটা বিবেচনা করে দেখবে।
মিস্টার ট্রাম্প গত মাসেই ঘোষণা করেছিলেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র চাঁদা দেয়া বন্ধ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সবচাইতে বড় অঙ্কের অর্থ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
সংস্থাটির মোট বাজেটের ১৫ শতাংশের মতো আসে তাদের কাছ থেকে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য দাঁড়াচ্ছেন এবং চীনের বিরুদ্ধে তার এই আক্রমণ তার প্রচারাভিযান কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কেন এই সমালোচনার মুখে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমের সমালোচনা করছেন তা নয়। আরো অনেকেই অভিযোগ করছেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনকে খুব বেশি বিশ্বাস করেছে।
গত জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি টুইট করেছিল যেখানে চীনা তদন্ত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল যে করোনাভাইরাস যে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হয় এমন স্পষ্ট প্রমাণ নেই।
এর পরের সপ্তাহেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি বিবৃতি দেয় যাতে বলা হয় আসলে মানুষ থেকে মানুষে ভাইরাসের সংক্রমনের ঘটনা ঘটছে।
করোনাভাইরাসকে বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেরকম দেরি করেছিল সেটার জন্যও তারা সমালোচনার মুখে পড়ে।
তবে সংস্থার প্রধান বলেছেন যে তারা কোন সময় অপচয় করেননি।
জেনেভায় দুদিন ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে সম্মেলন চলছে সেখানে এসব বিষয় নিয়েই মূলত বেশি আলোচনা হয়েছে।
সেখানে অন্য যে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চলছে তা হল যখন করোনাভাইরাস এর কোন টিকা আবিষ্কৃত হবে তখন গরিব দেশগুলো সেই টিকা কীভাবে পাবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি সোমবার বলেছেন চীন যে টিকা তৈরি করবে সেটা পুরো বিশ্বের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে।