বহু নাটকীয়তার পর সীমান্তবর্তী নো-ম্যানস ল্যান্ডে থাকা ভারসাম্যহীন নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে

ছবির উৎস, Getty Images
খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী নো-ম্যানস ল্যান্ডে এক মাসের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর নাগরিকত্ব নিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দায় চাপানোসহ নানা তৎপরতার পর ওই নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি নিশ্চিত করেছে, ওই নারী বাংলাদেশি, যিনি সাত বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন।
মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর নাম শাহনাজ পারভিন, তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দৈখাওয়ারচর গ্রামে।
রামগড়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি'র জোনাল কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তারিকুল হাকিম বলেছেন, পরিচয় পাওয়া গেলেও শাহনাজকে ফিরিয়ে নিতে চায়নি তার পরিবার।
যে কারণে এখন তাকে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেডক্রস বা আইসিআরসির কাছে হস্তান্তর করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি।
কিন্তু গত এক মাসের বেশি সময় ধরে তাকে কেন্দ্র করে ঘটে চলেছে নানা ধরণের নাটকীয়তা।

ছবির উৎস, Getty Images
উত্তেজনা আর নাটকীয়তা
এপ্রিলের দুই তারিখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ওই নারীকে 'পুশ-ব্যাক' করে।
প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল ওই নারী ত্রিপুরা রাজ্যের বাসিন্দা।
যদিও বিএসএফ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল ওই নারী বাংলাদেশি।
রামগড়ে বিজিবি'র জোনাল কমান্ডার মি. হাকিম জানিয়েছেন, এপ্রিলের দুই তারিখে বিএসএফের তাড়ায় ওই নারী বাংলাদেশ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যকার ফেনী নদীর সীমান্তবর্তী চরে আশ্রয় নেন। ওই চরটি নো-ম্যানস ল্যান্ড।
এর মধ্যে গত এক মাসে শাহনাজকে নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তিন দফা পতাকা-বৈঠক হয়েছে।
সর্বশেষ ৩০শে এপ্রিল রাতেও পতাকা-বৈঠক হয়।
ত্রিপুরায় বিএসএফের ৬৬ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তারা বিবিসির দিল্লি প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে কয়েকদিন টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ওই নারী নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে সরে গিয়ে আবার ত্রিপুরায় ঢুকে যাবার চেষ্টা করেছিলেন।
তখন সেখানকার গ্রামবাসী ও বিএসএফ যৌথভাবে তাকে তাড়া করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।

ছবির উৎস, Getty Images
যেভাবে পরিচয় পাওয়া গেলো
রামগড়ের জনমানবহীন চরে খোলা আকাশের নিচে ওই নারীর অবস্থানের সময়ে বিজিবি তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে।
মি. হাকিম বলছিলেন, "শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম, ওই নারী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাসিন্দা। কারণ আমরা যখন তার সাথে কথা বলেছি, উনি একেকবার একে রকম তথ্য দেন। একবার তার বাড়ি ত্রিপুরার সাবরুম থানায় বলেছে, আবার পরে বলেছে কুড়িগ্রাম জেলায়, যে কারণে আমরা নিশ্চিত হতে পারছিলাম না।"
"কিন্তু তার কথাবার্তা ও উচ্চারণ এবং আরো কিছু সূত্র মিলিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই কুড়িগ্রামে যোগাযোগ করার। তখন শাহনাজের ছবি তুলে ও ভিডিও করে কুড়িগ্রাম বিজিবি, ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।
তখন তার ভাই এবং এলাকার জনপ্রতিনিধি তাকে শনাক্ত করে। এরপর আমরা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ হই।"
কিন্তু ভারতে থাকার সময় শাহনাজ কোথায় ছিলেন, সেটা তিনি বলতে পারেননি।
আরো পড়ুন:
মি. হাকিম জানান, পরিবারের কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, শাহনাজ ছোটবেলা থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন।
তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান ২০১৩ সালে। এরপর তার আর কোন খোঁজ পায়নি পরিবার।
এ ঘটনায় বোনকে শনাক্ত করলেও, তাকে ফিরিয়ে নিতে চাননি তার ভাই।
যে কারণে এখন বিজিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহনাজকে আইসিআরসির কাছে হস্তান্তর করে দেয়া হবে।
এদিকে, ওখানে থাকার সময়ে শাহনাজের খাবারের ব্যবস্থা করেছে বিজিবি।
পরিচয় শনাক্ত হবার পর এখন তাকে নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ অংশে আনা হয়েছে এবং ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীকে জানিয়ে দেওয়া হয়।








