করোনাভাইরাস: যেসব শর্তে আবারও বাড়ানো হলো সাধারণ ছুটির মেয়াদ

পোশাক কারখানায় প্রবেশের মুখে শ্রমিকদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পোশাক কারখানায় প্রবেশের মুখে শ্রমিকদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বাংলাদেশের সরকার 'সাধারণ ছুটির' মেয়াদ ষষ্ঠবারের মত বাড়িয়ে আজ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সোমবার সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আলাদা দু'টি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যাতে শর্তসাপেক্ষে নতুন করে সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর কথা জানানো হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সরকার 'সাধারণ ছুটি' ঘোষণা করে, যা কার্যত লকডাউনে পরিণত হয়।

তবে দেশে বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয়ভাবে প্রশাসন লকডাউন আরোপ করে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ 'শর্তসাপেক্ষে সাধারণ ছুটি বা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বর্ধিতকরণ' শিরোনামে সর্বশেষ যে প্রজ্ঞাপন জারী করেছে, তাতে বলা হয়েছে যে আগামী ১৪ই মে পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে।

এই সময়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলা এবং এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বন্ধ থাকবে সকল আন্তঃজেলা গণপরিবহন।

জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করবে।

দুটো প্রজ্ঞাপনেই বলা হয়েছে যে ঈদ-উল-ফিতরের ছুটির সময় কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না।

Banner image reading 'more about coronavirus'
Banner

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলঅ হয়েছে, 'অতীব জরুরী প্রয়োজন' ছাড়া রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না।

'অতীব জরুরী প্রয়োজনে'র মধ্যে প্রয়োজনীয় ক্রয়-বিক্রয়, ঔষধ ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকারকে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই প্রজ্ঞাপনে রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সীমিত পরিসরে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সীমিত পরিসরে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে খোলা হবে শপিং মল।

তবে বিকাল পাঁচটার মধ্যে দোকান বন্ধ করবে।

শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

276,549

মোট শনাক্ত

201,907

সুস্থ হয়েছেন

4,248

এছাড়া সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অফিস প্রয়োজনমত খোলা রাখবে।

তাদের অধিক্ষেত্রের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে।

রাত আটটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না বলে সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে।

সম্প্রসারিত সাধারণ ছুটি চলাকালেও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে না।

ভিডিওর ক্যাপশান, লম্বা সময় ঘরে থেকে মানসিক চাপ কিভাবে কমাবেন?

তবে বিশেষ বিবেচনায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখা হবে।

এদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বলেছে, এই সময়ে বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেটসহ সকল প্রকার জরুরি পরিষেবা চলবে।

সড়ক ও নৌ পথে সব ধরণের পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকবে।

ঔষধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানীমুখী শিল্প কারখানা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে চালু রাখা যাবে।

আরো পড়তে পারেন: