ভারতে শক্ত হাতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় নামল পুলিশ

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
- Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ভারতের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউ-র ক্যাম্পাসে সহিংস হামলার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে তা দমনে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।
ইতিমধ্যেই জেএনইউ ছাত্র সমিতির সভাপতি - যিনি ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন - তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে।
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের 'গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া'-তে বিক্ষোভকারীরা যে গত দুদিন ধরে যে সমাবেশ চালিয়ে আসছিলেন, আজ সকালে পুলিশ সেখান থেকেও তাদের হঠিয়ে দিয়েছে।
মুম্বাইয়ের বিক্ষোভে 'ফ্রি কাশ্মীর' প্ল্যাকার্ড তুলে ধরা এক নারীর বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে আলাদা পুলিশি তদন্ত।
এদিকে দিল্লির জেএনইউ ক্যাম্পাসে মুখোশধারী গুন্ডারা সহিংস তান্ডব চালানোর প্রায় দুদিন পর আজ বিকেলে ওই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন উপাচার্য জগদীশ কুমার, ঘটনাটিকে তিনি বর্ণনা করেছেন 'অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক' হিসেবে।

ছবির উৎস, Getty Images
"জেএনইউ বরাবরই বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্র ছিল" বলে দাবি করে উপাচার্য বলেন, "যা ঘটেছে তা ঘটে গেছে - সে সব পিছনে ফেলে আমরা ক্যাম্পাসে এক নতুন সূচনা আনতে চাই!"
জেএনইউ কর্তৃপক্ষ আজ যখন এই আহ্বান জানাচ্ছেন, তার একটু আগেই কিন্তু জানা গেছে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভার রুমে ভাঙচুর চালানোর জন্য ছাত্র সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ঐশী ঘোষ-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর করেছে।
রবিবারের হামলায় ঐশী ঘোষ নিজে মারাত্মক জখম হয়েছেন, তার মাথায় ষোলোটা সেলাই পড়েছে - এবং কর্তৃপক্ষের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ বানানো বলে তিনি এদিন দাবি করেন।
তিনি বলেন, "ক্যাম্পাসের ভেতর আমাকে-সহ বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীকে খুন করার চেষ্টা হল - যে উপাচার্য একবারও আমাদের খোঁজ পর্যন্ত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না তার কাছ থেকে কী আর আমরা আশা করতে পারি?"

ছবির উৎস, Getty Images
"অন্যদিকে তারা কিন্তু সুচতুরভাবে হামলাকারী ও অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।"
বস্তুত রবিবার জেএনইউতে হামলার ঘটনায় দিল্লি পুলিশ এখনও একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি, এমন কী শনাক্ত করেনি কোনও অভিযুক্তকেও।
ওদিকে জেএনইউ-র প্রতি সংহতি জানাতে মুম্বাইতে 'অকুপাই গেটওয়ে' নামে যে বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছিল, পুলিশ এদিন সকালে তা ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।
গেটওয়ে অব ইন্ডিয়ার সামনে থেকে চ্যাংদোলা করে পুলিশ ভ্যানে উঠিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অনেক বিক্ষোভকারীকে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে কপিল আগরওয়াল অবশ্য দাবি করেন, তাদের আন্দোলন এর মধ্যেই সফল হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলেন, "আমরা পুলিশের সঙ্গে সংঘাত চাই না এবং পর্যটকদের অসুবিধা ঘটাব না বলেই সরে যাচ্ছি।"
'অকুপাই গেটওয়ে' এখন মুম্বইয়ের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়বে বলেও তিনি দাবি করেন।
মুম্বাই পুলিশ অবশ্য বলছে, তারা বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখতে অনুরোধ করেছিলেন।
কিন্তু তারা যখন রাস্তা অবরোধ করে অন্যদের অসুবিধা ঘটাচ্ছিলেন তখন বাধ্য হয়েই তাদের কিছু দূরের আজাদ ময়দানে 'সরিয়ে দেওয়া হয়েছে'।
মুম্বাই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সংগ্রামসিং নিশানদার আরও জানিয়েছেন, বিক্ষোভে কেন 'ফ্রি কাশ্মীর' প্ল্যাকার্ড তুলে ধরা হয়েছিল, তারও কঠোর তদন্ত হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images
মাহেক মির্জা প্রভু নামে যে মহিলা ওই প্ল্যাকার্ড ধরে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি অবশ্য নিজে থেকেই এগিয়ে এসে দাবি করেছেন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে কথা বলতেই তিনি সেটি তুলে ধরেছিলেন।
"কাশ্মীরিদের যদি আমরা ভারতীয় বলেই মনে করি, তাহলে তাদেরও আর সবার মতোই অধিকার প্রাপ্য", এই যুক্তিই দিচ্ছেন তিনি।
কিন্তু বিক্ষোভকারীদের কঠোর হাতে দমনে ব্যস্ত ভারতের পুলিশ-প্রশাসন অন্তত এখন সে সব শুনতে প্রস্তুত বলে আদৌ মনে হচ্ছে না।








