বিএনপিতে 'পুরুষ কোটায় নারী প্রার্থী', জামায়াতে নারী প্রার্থীই নেই

ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় টাঙানো নির্বাচনী ব্যানার। গত ডিসেম্বরের ছবি
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় টাঙানো নির্বাচনী ব্যানার। গত ডিসেম্বরের ছবি
    • Author, তাফসীর বাবু
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

"আমাদের দল থেকে ৪৪টি আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে তিনজন নারী। এখানে জোটের একটা ক্যালকুলেশন ছিল, না হলে আমরা আরো বেশি আসনে প্রার্থী দিতাম"।

বলছিলেন দিলশানা পারুল। ঢাকার অদূরে সাভার-আশুলিয়া নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ এর নির্বাচনী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তাকে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় একজন নেতা।

এনসিপি থেকে যে তিনজন নারীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, মিজ পারুল তাদেরই একজন।

এনসিপি ৪৭টি আসনে যে তিনজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, শতকরা হারে এটি প্রায় সাত শতাংশ। বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি তাতে এই সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ অন্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী প্রার্থীর হার আরো কম।

এমনকি জামায়াতসহ ইসলামীসহ অন্তত ৩০টি দলে একজনও নারী প্রার্থী নেই। ইসলামী দলগুলোর বাইরে প্রচলিত ধারার অনেক রাজনৈতিক দলও নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে অনীহা দেখিয়েছে।

বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটার থাকলেও, নির্বাচনে পর্যাপ্ত নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়টি সমালোচনা কুড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতিতে নেতা হিসেবে পরিচিত মুখও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে অনীহা কেন?

'পুরুষ কোটায় নারী প্রার্থী' নিয়ে আপত্তি বিএনপিতে

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে মোটে ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি, সংখ্যার হিসাবে কোনো দল থেকে এটাই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী প্রার্থী।

তবে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সেই সংখ্যা নয় জনে নেমে আসে। শতকরা হারে অবশ্য বিএনপির নারী প্রার্থী মাত্র তিন শতাংশ।

বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি
ছবির ক্যাপশান, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বিএনপিতে নারী প্রার্থী কেন এত কম এমন প্রশ্নে দলটির বিভিন্ন স্তরে কথা বলে মূলত তিনটি কারণ পাওয়া যায়।

এক. নির্বাচনে 'জিতে আসার মতো' নারী প্রার্থী কম বলে মনে করা হচ্ছে।

দুই. সরাসরি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এমন নারী নেত্রীর অভাব।

তিন. নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় যেখানে অর্থ, পেশিশক্তি এবং কর্মীবাহিনী প্রয়োজন হয়, নারীদের ক্ষেত্রে এগুলোরও অভাব দেখা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য বলছেন, 'নির্বাচনে জিততে পারবে কি না' এমন প্রার্থী বেছে নিতে গিয়েই নারী প্রার্থী কম হয়েছে।

"এখানে বিষয়টা তো নারী-পুরুষ না। বিষয়টা হচ্ছে, আপনি নির্বাচনে জিততে পারবেন কি না। এখানে জিতে আসার ক্ষেত্রে যার সম্ভাবনা বেশি তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নারী প্রার্থী দিতে চায়, কিন্তু সেখানে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তো ম্যানিপুলেট করে নারী প্রার্থী বাড়ানোর সুযোগ নেই"।

কিন্তু বিএনপিতে তাহলে নির্বাচন করার মতো নারী নেতৃত্ব কেন তৈরি হলো না এটা বড় প্রশ্ন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য এক্ষেত্রে দায় দিচ্ছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

"গত ১৬/১৭ বছরে দেশে কী রাজনীতি ছিল? সবখানে একটা ভয়ের পরিবেশ। এমন পরিস্থিতিতে শুধু নারী কেন, আমরা তো যোগ্য পুরুষদেরও দলে কম পেয়েছি। এখন রাজনীতি স্বাভাবিক হচ্ছে, গণতন্ত্র যদি ফিরে আসে তাহলে নারীদের জন্য পরিবেশ তৈরি হবে। তখন নারী প্রার্থীও নিশ্চয়ই বৃদ্ধি পাবে," বলেন মি. চৌধুরী।

তবে বিএনপি যে সংখ্যায় নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, সেখানেও সমস্যা দেখছেন দলটির কেউ কেউ। বিশেষ করে বিএনপি নারী প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতৃত্বের বদলে 'পরিবারতন্ত্রকে' প্রাধান্য দিয়েছে এমন সমালোচনাও আছে।

বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি একে উল্লেখ করেছেন 'পুরুষ কোটায় নারী প্রার্থী' হিসেবে।

"এখানে যারা মনোনয়ন পেয়েছে, তাদের প্রত্যেকটা আমি হিসেব করে দেখেছি। তারা সকলেই কোনো না কোনো পুরুষ নেতার, মানে এমপি'র ঘর থেকে আসা। হয়তো মামলার কারণে এমপি হতে পারে নাই বা তিনি মারা গেছেন, ফলে তাদের পরিবার থেকে (একজন নারী সদস্যকে) মূল্যায়ন করা হয়েছে। ...এটাবে আমি বলি পুরুষ কোটায় নারী প্রার্থী। কারণ বাবা বা স্বামীর কারণেই এটা তার এক ধরনের থোক বরাদ্দ, একধরনের কোটা," বলেন তিনি।

তার মতে, পেশিশক্তি কিংবা যোগ্যতার ঘাটতির চেয়ে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নারীরা দলের ভেতর থেকেই সেভাবে মূল্যায়িত হন না।

"আমরা নারী হিসেবে যে ভয়টা প্রথম পাওয়ার কথা যে, এলাকার হুজুর বা সনাতন মনোভাবে মানুষগুলো হয়তো আমাদেরকে মনে নেবে না। কিন্তু আসলে ওইখানে কোনো সমস্যা হয় না। কথা যেটুকু হয়, যাদের সঙ্গে আমরা রাজনীতি করি তাদের মধ্যেই সমস্যাটা বেশি হয়। এখানে রেজাল্টটা আপনি যাই করুন না কেন, দিনশেষে আপনি শূন্য। দিনশেষে আপনি সংরক্ষিত," বলেন নিলোফার চৌধুরী মনি।

ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ঝুলছে একটি ভবনে
ছবির ক্যাপশান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী নেই জামায়াতের

জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোতে কোনো নারী প্রার্থী নেই

বাংলাদেশে ইসলামভিত্তিক যেসব রাজনৈতিক দল আছে, সেখানে সবচেয়ে বড় দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার ২৭৬ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। এরমধ্যে একজনও নারী প্রার্থী নেই।

এমনকি অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ইতিহাসও নেই দলটির।

একই অবস্থা জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটেও। সেখানকার ইসলামী দলগুলোও যে আসন ভাগাভাগি করেছে সেখানে কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি।

এমনকি জোটে থাকা প্রচলিত ধারার অর্থাৎ ধর্মভিত্তিক ধারার বাইরের দলগুলোর মধ্যে এনসিপি ছাড়া আর কোনো দলই জোটের ভাগাভাগিতে নারী প্রার্থী দেয়নি।

যদিও ইসলামী ধারার দলগুলোর মধ্যে এর আগে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি দেওয়ার নজীর আছে। এমনকি স্থানীয় উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচনেও দলটি থেকে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এছাড়া দলটির আলাদা নারী শাখাও রয়েছে।

কিন্তু তাহলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি কেন নারী প্রার্থী দেয় না এমন প্রশ্নে তিনটি কারণেল কথা বলছেন দলের নেতারা।

এক. 'ধর্মীয় অনুশাসন তথা পর্দা মেনে' লাখ লাখ ভোটারের কাছে যাওয়া এবং দিনব্যাপী গণসংযোগ বা এধরনের কর্মকাণ্ড কতটা সম্ভব তা নিয়ে খোদ 'নারীদের মধ্যেই প্রশ্ন আছে' বলে মনে করা হচ্ছে।

দুই. আগ্রহের অভাব।

তিন. নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।

দলের বিভিন্ন স্তরে এমনসব যুক্তি উঠে আসলেও সরাসরি দলটির নারী নেত্রীরা কী বলছেন সেটা অবশ্য বিবিসির পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। কয়েক দফায় দলটির মিডিয়া শাখায় যোগাযোগ করা হলেও দলটির নারী নেতৃত্বের কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলটির মিডিয়া শাখার প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের অবশ্য বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, নারীদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করতে দলের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ নেই।

তাহলে কেন নারী প্রার্থী দেখা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি 'নিরাপত্তা এবং আগ্রহের ঘাটতির' কথা তুলে ধরেন।

"আমাদের দলে একজন নারী তিনি হয়তো রাজনীতি করতে চান। কিন্তু ইলেকশন করবেন কি না সেটা ভিন্ন বিষয়। ইলেকশনে অংশগ্রহণ করা মানে বড় আকারের দায়িত্ব নেওয়া। একটা আসনে ছয়/সাত লাখ পর্যন্ত ভোটার আছে। সেখানে তার চলাফেরা, তার নিরাপত্তা, তার সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পেশাগত দায়িত্ব ইত্যাদি অনেক বিষয় থাকে। এক্ষেত্রে আমরা নারীদের বাধ্য করি না"।

"যদি সে ও তার পরিবার চায় এবং তৃণমূল থেকেও পরামর্শ আসে তাহলে আমরা দিতে রাজি আছি। এক্ষেত্রে জামায়াতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আমরা তো স্থানীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী এর আগে দিয়েছি। আসলে পরিবেশ-পরিস্থিতির উন্নয়ন হলে নারীরাও আগ্রহী হবে," তিনি বলেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া শাখার প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের
ছবির ক্যাপশান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া শাখার প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের

দলগুলোর আগ্রহের অভাব দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

তবে নারী প্রার্থী নিয়ে জামায়াত কিংবা এর নেতৃত্বধীন জোটেই যে শুধু এমন অবস্থা তা নয়। বরং সামগ্রিকভাবেই দেখা যাচ্ছে, দেশটিতে নিবন্ধিত ৫১টি দলের মধ্যে ৩০টি দলই কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি।

এছাড়া দেশটিতে এবার যারা নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন তাদের মধ্যেও নারীর হার মাত্র চার শতাংশ।

প্রচলিত ধারার দলগুলোর মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি -এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি -বিজেপি (পার্থ) গণফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছে তারাও কোনো নারী প্রার্থী জোট থেকে দিতে পারেনি।

রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারা ভাষায়, দলগুলোর মধ্যেই আগ্রহের ঘাটতি আছে।

"ইসলামী দল বা জামায়াতের মধ্যে দেখেন, তারা কখনই নারীদের এর আগে প্রার্থী করেনি। এটা তাদের হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত না। বরং তাদের আদর্শিক জায়গা থেকেই নারীকে দূরে রাখার যে প্রবণতা তারই প্রতিফলন। জামায়াতের গঠনতন্ত্রে কি আছে যে নারীদের মনোনয়ন দেওয়া যাবে না? নাকি তারা যোগ্য মনে করছে না?" প্রশ্ন তোলেন জোবাইদা নাসরীন।

বাংলাদেশে কত কয়েকমাসে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ যেগুলোতে জয়লাভ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন প্যানেলগুলো। যেগুলোতে ছাত্রীসংস্থার পক্ষ থেকে নারীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতে এসেছেন।

শিবির এবং ছাত্রীসংস্থা–– দুটো সংগঠনই জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কাগজে-কলমে জামায়াতের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না হলেও দুটি সংগঠনই রাজনীতিতে মূলত জামায়াতের ছাত্রসংগঠন হিসেবেই ব্যাপকভাবে পরিচিত।

জোবাইদা নাসরীনের মতে, ছাত্রসংসদ নির্বাচনে নারীদের প্রার্থী করলেও সংসদ নির্বাচনে নারীদের প্রার্থী না করা মূলত অনাগ্রহটাই স্পষ্ট করে।

এছাড়া প্রচলিত অন্যান্য দলগুলোর ভেতরেও সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে।

জোবাইদা নাসরীন এ বিষয়ে বলেন, "বিএনপি মনে করছে, মাঠের রাজনীতিতে এখন শক্তিশালী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং নির্বাচনে তাদের কোনো নারী প্রার্থী নেই। যখন জামায়াতে ইসলামীর (পুরুষ প্রার্থীর) বিপরীতে নারী প্রার্থী দেওয়া হবে, তখন আসলে ধর্মের ব্যবহার চলে আসবে। তাই সেই আসনে ওই নারীর হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটাই বাস্তবতা।"

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের দলগুলোর ভেতরে যে ক্ষমতার কাঠামো সেটা মূলত পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত। এরসঙ্গে মনোনয়ন বাণিজ্য, নির্বাচনী ব্যয়ের চাপ এবং সহিংস রাজনীতির আশঙ্কা নারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পারিবারিক চাপ ও সামাজিক বাস্তবতাও নারী প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করছে।

শুধু ব্যক্তিগত সক্ষমতা নয়, পুরো রাজনৈতিক পরিবেশটাই নারীদের জন্য এখনো প্রতিকূল মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম বলছিলেন, "রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো মূল্যে জিততে চায় বলেই নারী প্রার্থী দেয়নি। তারা চিন্তা করে, কোন প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা আছে এবং বাংলাদেশের যে সংস্কৃতি, নারীরা সেখানে জিততে পারবে না এবং নারীদের টাকা-পয়সাও কম আছে।"