আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই বহন করতে হবে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারের পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গ্রহণ করতে হবে।
সংস্থার এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, দু'বছরেরও বেশি আগে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া ৫ লাখ শিশুই এখনও ক্লাসরুম পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি।
১৬ই ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক শরণার্থী ফোরামের আগে এই বিবৃতি দিল সংস্থাটি।
রোহিঙ্গা শিশুদের যেহেতু খুব শীঘ্রই নিজেদের দেশে ফিরতে পারার সম্ভাবনা নেই, তাই তাদের ভবিষ্যতের বিষয়টি চিন্তা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই তাদের শিক্ষার বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি।
সাদ হাম্মাদি বলেন, "কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশুরা একটা হারিয়ে যাওয়া প্রজন্মে যেন পরিণত না হয়। সেখানে শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত হয়ে এই শিশুরা ধীরে ধীরে নিজেদের ভবিষ্যত হারিয়ে যেতে দেখবে, এমনটা চলতে দেয়া যায় না।''
''কক্সবাজারে প্রত্যেক শিশু, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এবং স্বাগতিক বাংলাদেশেরও প্রত্যেক শিশু যাতে শিক্ষার সুযোগ পায়, তার জন্য বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের দায়িত্ব পালনে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে এবং এই দায়িত্ব তাদের ভাগ করে নিতে হবে,'' বলেন মি. হাম্মাদি।
অ্যামনেস্টি বলছে, রোহিঙ্গারা যেদেশেই থাকুক না কেন সে দেশের অর্থনীতিতে যাতে তারা অবদান রাখতে পারে এবং এর পাশাপাশি নিজেদের অধিকার দাবি করতে পারার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারে, তার জন্য রোহিঙ্গা শিশুদের মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ করে দেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ বছর অক্টোবর মাসে ইন্টার সেকশন কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের চালানো এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে কক্সবাজারে জরিপ চালানো ১,৩১১টি পরিবারের এক তৃতীয়াংশেই অন্তত একজন প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্কুলগামী বয়সের শিশু রয়েছে, যে স্কুলে যায় না।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
"শরণার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের ওপর যেসব বিধিনিষেধ বর্তমানে রয়েছে তা উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নিজেদের পদক্ষেপ শুরু করতে পারে", মন্তব্য করেন সাদ হাম্মাদি।
এমাসের শুরুতে ক্যাম্পের বাইরের স্কুলে রোহিঙ্গা শিশুদের পড়ালেখা করার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানানো হয় ওয়াশিংটন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকেও।
পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থাকে বাধা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে তারা।
ক্যাম্পে শিক্ষাগ্রহণের কী ব্যবস্থা রয়েছে?
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে কোনো স্কুল-কলেজে পড়তে পারবে না। কারণ তাদের সেসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অনুমতি নেই।
২০১৬ সালের পর থেকে এ নিয়মটি বেশ কঠোরভাবে মানা হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতির জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বিবিসি'কে জানান নতুন ক্যাম্পগুলোতে ইতিমধ্যেই এক হাজার স্কুল পরিচালিত হচ্ছে এবং আরেকটি প্রকল্পের আওতায় আরো ৫০০ স্কুলের কার্যক্রম শুরু করা হবে শীঘ্রই।
এছাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে জাতিসংঘ ও বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত বেশ কয়েকটি প্রাথমিক স্কুল ও মাদ্রাসা ছাড়াও কুতুপালং ও নয়াপাড়া ক্যাম্পে দু'টি সরকারি স্কুল রয়েছে যেখানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া যায়।
তবে প্রাথমিক পঞ্চম শ্রেণী ও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ যেন শেষ না হয়ে যায় তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা চলছে বলে সেপ্টেম্বরে বিবিসি'কে জানিয়েছিলেন দাতব্য সংস্থা সেইভ দ্য চিলড্রেনের শিক্ষা বিষয়ক এক কর্মকর্তা।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে পাঁচ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুকিশোর রয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি। আর ১২ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সীদের সংখ্যা সোয়া এক লাখ।