ঢাকায় হাইকোর্ট মাজারের সিন্দুকগুলো খুলে কে সব নিয়ে গেলো?

    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের ঢাকায় সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে যে মাজার ও মসজিদ সেটিই হাইকোর্ট মাজার হিসেবে পরিচিত। সেখানে কি করে এতো বড় চুরি সংঘটিত হলো?

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপি তাদের ফেসবুক পাতায় আজ একটি পোস্ট দিয়ে একজন চোরকে ধরতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে গত ২২শে ডিসেম্বর রাত এগারটা থেকে একটার মধ্যে হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট মাজার মসজিদের দানবাক্সের সিন্দুকের তালা ভেঙ্গে বিভিন্ন দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও মোটা অংকের নগদ টাকা চুরি যায়।

এ ঘটনায় ২৩শে ডিসেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের একটি ভিডিও ওই পোস্টের সাথে দিয়ে ডিএমপি চোর ধরতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে।

কি দেখা যাচ্ছে ফুটেজে?

ডিএমপির পোস্ট করা ভিডিওটি চার মিনিট পনের সেকেন্ডের। ওই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে কালো রংয়ের জামা কাপড় পরা ও মাথায় একই রংয়ের মাংকি ক্যাপ পরিহিত এক ব্যক্তি মসজিদের সিন্দুকের কাছে। শাবল জাতীয় কিছু একটা দিয়ে সিন্দুক খোলার চেষ্টা করছেন।

এভাবে তিনি কয়েকটি সিন্দুক খোলেন। এক পর্যায়ে প্রথমে ভাঙ্গা আকাশী রংয়ের সিন্দুক থেকে কিছু বের করেন ও এরপর সিলভার রংয়ের সিন্দুক থেকে রক্ষিত দ্রব্যাদি বের করে তার হাতে থাকা ব্যাগে ভরেন। এরপর পাশে একটি কলাপসিবল গেইটের তালা ভাঙ্গেন। পরে একটি বড় কাপড় দিয়ে বস্তার মতো বানিয়ে সিন্দুকগুলো থেকে নেয়া জিনিসপত্র পাশের আরেকটি দরজার দিয়ে বেরিয়ে রেখে আসেন।

কিন্তু এবার আর কালো কাপড়ে নয় - তাকে দেখা যাচ্ছে সাদা শার্ট পরা। বাইরে কিছু একটা দেখে এসে তিনি কলাপসিবল দরজা আটকে যেদিকে বস্তা রেখে এসেছিলেন সেদিকে চলে যান।

বিবিসি বাংলার আরো খবর:

পুলিশ কি বলছে?

থানায় মামলা হওয়ার পর এটি তদন্তের দায়িত্বে আছেন পুলিশ কর্মকর্তা মনসুর আহম্মেদ।

বিবিসি বাংলাকে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর চারজন নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সিসিটিভিতে দেখা ব্যক্তিকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এজন্যই সবার সহায়তা চেয়ে পোস্ট দেয়া হয়েছে।

তবে মাজার কমিটি বা পরিচালনা কমিটির কারও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন মাজার কমিটিতে হাইকোর্টের বিচারপতিরা আছেন বলে এ নিয়ে অন্য কেউ কোনো ধরণের মন্তব্য করতে রাজী নন।

তদন্ত কর্মকর্তাও বলছেন যে তদন্তে অগ্রগতি আসলে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবেই জানাবেন তারা।

তবে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে পেছনের দিকের জানালার তালা ও গ্রিল কেটেই চোর ভেতরে প্রবেশ করেছিলো। মোট ১৪টি সিন্দুক ভাঙ্গা হয়েছে ওই রাতে। এর মধ্যে মাজারের আটটি।

সিন্দুকে টাকা পয়সা কেমন থাকে?

নিরাপত্তারক্ষীদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে তিন মাস অন্তর মাজারের সিন্দুকগুলো খোলা হয় সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে।

তাতে ৩/৪ লাখ টাকা (স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশী মুদ্রাও থাকে অনেক সময়) পাওয়া যায় প্রতিটি ভল্টে।