ভারতের মেঘালয়ে ১৪ জন খনি শ্রমিক এখনও পানির নিচে

উদ্ধারকারী।

ছবির উৎস, Meghalaya Police

ছবির ক্যাপশান, উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন একশোরও বেশী উদ্ধারকারী।
    • Author, অমিতাভ ভট্টশালী
    • Role, বিবিসি বাংলা, কলকাতা

ভারতের মেঘালয়ে পানির নিচে আটকে পড়া খনি শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন একশোরও বেশি উদ্ধারকারী।

কিন্তু পুলিশ বলছে, গত ৫ দিন ধরে এখনও ওই শ্রমিকদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায় নি।

তারা বেঁচে আছেন কি-না, তাও বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব জয়ন্তিয়া জেলার কসন গ্রামে জঙ্গলের ভেতরে অবস্থিত একটি বেআইনি কয়লা খাদানে (এই খাদানগুলোকে 'র‍্যাট হোল মাইনিং' বলা হয়) নেমেছিলেন ওই শ্রমিকরা। পাশ দিয়েই বইছে লিটিয়েন নদী।

পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রথম দিন নেমেই ওই শ্রমিকরা সেখানে আটকে পড়ে।

তার কয়েকদিন আগে কৃপ চুলেট নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি খাদানটি ভাড়া নিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পরেই ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পূর্ব জয়ন্তিয়া জেলার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট সিলভেস্টার নঙ্থনার বিবিসিকে বলছেন, "বেআইনিভাবে চলা এই খাদানটির ২৫০ ফুট নীচ থেকে জলে ভর্তি হয়ে গেছে। জলস্তর রয়েছে আরও প্রায় ৭০ মিটার।"

"১৩ তারিখ রাতে এই ঘটনার পরদিন সকাল থেকেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ, দমকল সহ একশোরও বেশি উদ্ধারকারী কাজ করে চলেছেন। কিন্তু আমরা এখনও আটকিয়ে পড়া শ্রমিকদের কোনও চিহ্ন খুঁজে পাই নি।"

এখনও ওই শ্রমিকদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায় নি।

ছবির উৎস, NDRF India

ছবির ক্যাপশান, এখনও ওই শ্রমিকদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায় নি।

প্রায় ৩২০ ফুট জলের তলায় কোথায় শ্রমিকরা আটকিয়ে রয়েছেন - সেটা জানার জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এন ডি আর এফের ডুবুরীরা নেমেছিলেন খাদানে। জলের তলায় তল্লাশি চালানোর জন্য 'সোনার' যন্ত্রও ছিল।

আরো পড়ুন:

"যন্ত্র দিয়েও আমরা খুঁজে বের করতে পারি নি শ্রমিকদের অবস্থান। চেষ্টা করা হচ্ছে খনি গহ্বর থেকে জল পাম্প করে তুলে ফেলার। অনেকগুলো পাম্প চালানো হচ্ছে," বলছিলেন উদ্ধারকাজের মূল দায়িত্বে থাকা এন ডি আর এফের কম্যান্ডান্ট সতীশ শাস্ত্রী।

"কিন্তু আবার নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তাতে আবারও খনিতে জল ঢুকছে। স্থানীয় মানুষরা বলছেন, এইধরনের খনিগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, তাই অন্য খাদানগুলো থেকে এই খাদানে সম্ভবত জল ঢুকে যাচ্ছে," তিনি জানান।

সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লা উৎপাদনকারী সংস্থা কোল ইন্ডিয়া-র বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন যে, একশো হর্স পাওয়ারের পাম্প যদি বসানো যায়, যা দিয়ে মিনিটে চারশো গ্যালন করে জল তোলা যাবে, তাহলে খনি গহ্বর থেকে দ্রুত জল বার করে ফেলা সম্ভব হবে।

একটি বেআইনি কয়লা খনিতে নেমেছিলেন ওই শ্রমিকরা।

ছবির উৎস, NDRF India

ছবির ক্যাপশান, একটি বেআইনি কয়লা খনিতে নেমেছিলেন ওই শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য থাইল্যান্ডে একটি কিশোর ফুটবল দল এই বছর এক গুহায় আটকে পড়েছিলো। পানি জমে তাদের বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তারা একটি উঁচু যায়গায় নয়দিন বসে থাকার পর ডুবুরীরা তাদের খোঁজ পায়।

জয়ন্তিয়া জেলা প্রশাসন পাম্প আনার আর্জি জানিয়েছে শিলংয়ে মেঘালয় সরকারের কাছে।

উদ্ধারকারী দলের প্রধান মি. শাস্ত্রী বলছেন, "যেহেতু এটা বেআইনি খাদান, তাই এর না আছে কোনও মানচিত্র, না নেওয়া হয়েছিল কোনরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা।"

"আমাদের শুধুমাত্র স্থানীয় 'সর্দার', অর্থাৎ যারা কয়লাখনি শ্রমিকদের সুপারভাইজার, তাদের কথার ওপরে ভরসা করেই উদ্ধার প্রচেষ্টা চালাতে হচ্ছে,"

তিনি বলছেন, "ডুবুরীরা জলস্তরের ৩০ ফুট পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছিলেন, কিন্তু শ্রমিকরা তার আরও প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট নীচে রয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।"

"কয়লা মেশানো জল এতটাই কালো, তাই প্রায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না। যন্ত্র নামিয়েও বিশেষ কিছু লাভ হয় নি।"

এই শ্রমিকদের বেঁচে থাকার কোনও আশা এখন আর আছে কিনা - এ প্রশ্নের উত্তরে মি. শাস্ত্রী বললেন, "যতক্ষণ না আমরা কোনও দেহ উদ্ধার করতে পারছি, ততক্ষণ এটাই ধরে নেওয়া হয় যে তারা জীবিত আছেন। এটাই উদ্ধারের নিয়ম।"

অপেক্ষায় আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন স্বজনেরা।

ছবির উৎস, NDRF India

ছবির ক্যাপশান, অপেক্ষায় আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্বিগ্ন স্বজনেরা।

মেঘালয়ে অসংখ্য ছোট-বড় কয়লা খাদান বেআইনি ভাবে চালানো হত, যেগুলিকে জাতীয় পরিবেশ আদালত ২০১৪ সালেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে।

এই কয়লা খাদানগুলিকে 'র‍্যাট হোল মাইনিং' বলা হয়।

তবুও যে বেআইনি খাদান চলছে, এই দুর্ঘটনা তারই প্রমাণ।

পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট সিলভেস্টার নঙ্থনার অবশ্য বলছেন, প্রত্যেকটা অংশে পৌঁছন তো সম্ভব হয় না, তবে বেআইনি খাদান চলার খবর পেলেই পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। যেমন এই ঘটনার পরেই গ্রেপ্তার হয়েছে বেআইনি খাদানটির মালিক।

অন্যান্য খবর: