ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রীর ছেলের অ্যাকাউন্ট কেন বন্ধ করেছিল ফেসবুক?

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু

ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক ছেলে বলেছেন, ফিলিস্তিনি ও মুসলিমবিরোধী কিছু পোস্ট দেওয়ার পর ফেসবুক তার অ্যাকাউন্ট ২৪ ঘণ্টার জন্যে ব্লক করে দিয়েছিল।

গত সপ্তাহে ইয়াইর নেতানিয়াহুর একটি পোস্ট মুছে দিয়েছিল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ - যেখানে তিনি "একজন ফিলিস্তিনির হাতে দু'জন ইসরায়েলী সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার" আহবান জানিয়েছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে ২৭ বছর বয়সী এই যুবক আরো লিখেছিলেন, "তিনি চান ইসরায়েলী ভূখণ্ড থেকে সব মুসলিমরা চলে যাক।" ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তার এই পোস্টটিকেও সরিয়ে দিয়েছে।

এই ঘটনার পর ইয়াইর নেতানিয়াহু ফেসবুককে "চিন্তার পুলিশ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কিন্তু তার বিরুদ্ধে ফেসবুকের অভিযোগ হলো, তিনি এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে "ঘৃণামূলক বক্তব্য" দিচ্ছেন।

গত বছরেও তার তীব্র সমালোচনা হয়েছিল যখন তিনি তার পিতার কয়েকজন সমালোচককে ব্যঙ্গ করে পোস্ট দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ধনকুবের জর্জ সোরোস।

শুধু তাই নয়, একবার তার কুকুরের মল না তুলে নেওয়ার কারণেও তিনি জনগণের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ফেসবুক ২৪ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ করে দেওয়ার পর রোববার তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন সামাজিক যোগাযোগের আরেক মাধ্যম টুইটারে। সেখানে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, "অবিশ্বাস্য।"

তার সেই টুইটে যোগ করা হয়েছিল মুছে দেওয়া ফেসবুক পোস্টের একটি স্ক্রিনশট। সেখানে তার পোস্ট মুছে দেওয়ার জন্যে ফেসবুকের সমালোচনাও করেছেন তিনি।

টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, "মানুষের রূপ ধরে যেসব পিশাচ আছেন তাদের সাথে কখনো শান্তি হবে না। তারা তাদের নিজেদেরকে 'ফিলিস্তিনি' বলে থাকে।"

"ফেসবুকের চিন্তা পুলিশরা এখন আমার কাছেও পৌঁছে গেছে," ফেসবুক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন মি. নেতানিয়াহু।

ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড নীতিমালা।

ছবির উৎস, Facebook

ছবির ক্যাপশান, ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড নীতিমালা।

আরো পড়তে পারেন:

"ফেসবুকে হামাস, হেযবোল্লাহ এবং ইরান সরকারের অফিসিয়াল পেজ আছে। সেখানে অসংখ্য পেজ আছে যাতে ইসরায়েলকে ধ্বংস করা এবং ইহুদিদেরকে হত্যা করার আহবান জানানো হচ্ছে।"

তিনি আরো লিখেছেন, "চরম বামপন্থী হাজার হাজার সহিংস পোস্ট আছে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে। এমনকি তারা আমাকে খুন করারও হুমকি দিচ্ছে।"তারপর তিনি বলেন, "এসব ফেসবুকের কমিউনিটি রুলকে লঙ্ঘন করে না।"

ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মি. নেতানিয়াহু "বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছেন যেগুলোতে ঘৃণামূলক বক্তব্য রয়েছে," যা তাদের কমিউনিটি রুলকে ভঙ্গ করছে।

"এসব কারণে আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে এই পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কেউ এধরনের পোস্ট দিলে আমরা একই কাজ করে থাকি।"

ফেসবুকের মুখপাত্র বলেছেন, "তারপর ইয়াইর নেতানিয়াহু তার মুছে দেওয়া পোস্টটির স্ক্রিনশট দিয়ে লোকজনকে তা শেয়ার করার আহবান জানিয়েছেন। সেটাও তার ঘৃণাসূচক বক্তব্য দেওয়ার মতোই ঘটনা।"