সংসদ নির্বাচন ২০১৮: ঐক্য ফ্রন্ট চায় দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী, তবে 'নির্বাচনকালীন সরকার' কী তা অস্পষ্ট

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট
ছবির ক্যাপশান, নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং গণ ফোরামসহ কয়েকটি ছোট দল নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, তারা নির্বাচন-কালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু ইশতেহারে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' কিংবা 'নির্দলীয় সরকার' - এসব শব্দ ব্যবহার করা হয়নি।

বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের একটি বড় দাবি ছিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন।

ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা যাবে না, সেজন্য তারা এ শব্দটি ব্যবহার করেন নি।

কিন্তু সেটা কোন ধরণের সরকার হবে? এটা কি নির্দলীয় নাকি সর্বদলীয় সরকার হবে?

এমন প্রশ্নে মি: রহমান বলেন, "দুই রকমই হতে পারে। সেটা স্পেসিফাই করিনি আমরা। সর্বদলীয় হতে পারে, নির্দলীয়ও হতে পারে।"

নির্বাচনকালীন সরকারের বিধান তৈরির পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্ট তাদের ইশতেহারে নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মাহমুদুর রহমান মান্না
ছবির ক্যাপশান, মাহমুদুর রহমান মান্না

ঐক্যফ্রন্ট বলেছে দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে না।

এছাড়াও তাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে সংসদে উচ্চকক্ষ তৈরি করা, সংসদে বিরোধী দলকে গুরুত্ব দেয়া এবং সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা।

তারা বলেছে ক্ষমতায় গেলে মহিলাদের মনোনয়ন ২০ শতাংশ করার জন্য তারা বিধান তৈরি করবে।

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট যে ইশতেহার দিয়েছে সেখানে সামাজিক-অর্থনৈতিক খাতে নানা প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে।

বেকার ভাতা দেয়া যায় কি না সেটি খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে এ ইশতেহারে। এছাড়া বলা হয়েছে চাকরিতে প্রবেশের কোন বয়সসীমা থাকবে না।

একশো মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর মূল্য আগামী পাঁচ বছরে বাড়বে না । ইত্যাদি নানা প্রতিশ্রুতি রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনে জিতলে এ ইশতেহার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে?

রেজা কিবরিয়া
ছবির ক্যাপশান, রেজা কিবরিয়া

প্রতিটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার প্রণয়ন করে তার অধিকাংশই অধরা থেকে যায় । অতীতে সেটিই দেখা গেছে।

অনুষ্ঠান শেষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলাম গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, "অনেক কঠিন লক্ষ্য রাখতে হয়। একশোটার মধ্যে আমরা হয়তো সবগুলি পারবো না, কিন্তু আমরা যদি মাত্র পাঁচটা লক্ষ্য দিই তাহলে তো ইটস নট অ্যা গুড থিং (এটা ভালো জিনিস না)। আমাদের লক্ষ্য অনেক উঁচু। আমরা চেষ্টা করবো এ লক্ষ্যে পৌঁছতে।"

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই ইশতেহারের মাধ্যমে তারা একটি মানবিক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।