বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট: প্রথম ইনিংস ব্যবধানে জয় এবং ঢাকা টেস্টে আরো যত রেকর্ড

ক্রিকেট, বাংলাদেশ

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN

ছবির ক্যাপশান, মেহেদী হাসান মিরাজ তৃতীয় বাংলাদেশী বোলার হিসেবে এক ইনিংসে সাতটি উইকেট নেন

চার বছর পর টেস্ট সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।

ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ১৮৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

এটিই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ব্যবধানে জয়।

এর আগে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, ২২৬ রানে।

একটা সময় ছিল বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট মানে প্রায়ই টানা দু'বার ব্যাট করতো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।

অর্থাৎ প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহের কাছাকাছি যেতে অন্তত দুই ইনিংস ব্যাট করতে হতো।

তবে সেই ধারা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়া,ইংল্যান্ডের মত বড় দলকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে চলমান সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি নতুন রেকর্ড করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

প্রতিপক্ষকে প্রথমবার ফলো অনে পাঠানো

চলতি ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো দলকে টানা দুই ইনিংসে ব্যাট করতে পাঠিয়েছে।

সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও বাংলাদেশর সামনে সুযোগ ছিল জিম্বাবুয়েকে ফলো অনে দ্বিতীয়বার ব্যাট করানোর; কিন্তু ঐ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ফলো অনে না পাঠিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৫০৮ রান তোলে, অর্থাৎ ফলো অন এড়াতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্তত ৩০৮ রান তোলা প্রয়োজন ছিল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রথম ইনিংসে ১১১ রানে গুটিয়ে যায়।

এরপর ফের ব্যাট করতে নামে ক্যারিবিয়ানরা।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ক্রিকেট, বাংলাদেশ

ছবির উৎস, SALAHUDDIN AHMED

ছবির ক্যাপশান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে প্রথম পাঁচজন ব্যাটসম্যানই বোল্ড হন

প্রত্যেক ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে রান

টেস্ট ইতিহাসে কোনো ইনিংসে একটি দলের প্রতিটি ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করেছে ১৪ বার। মানে ১১ জন ব্যাটসম্যানই অন্তত ১০ রান তুলেছে।

এই ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশ করেছে কালই প্রথম।

বাংলাদেশ মোট ৫০৮ রান তোলে। যেখানে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সেঞ্চুরি করেন এবং সাদমান ইসলাম অনিক, সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস করেন ফিফটি।

বাকিরা সবাই অন্তত ১০ রান তোলেন।

সবশেষ ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সব ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন।

প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান বোল্ড আউট

ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকে বোল্ড আউট করেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। সাকিব আল হাসান দু'টি ও মেহেদি মিরাজ তিনটি উইকেট নেন।

প্রথম পাঁচজন ব্যাটসম্যানেরই বোল্ড হওয়া টেস্ট ক্রিকেট এর আগে দেখেছিল ১২৮ বছর আগে, ১৮৯০ সালে।

১৮৯০ সালে ওভাল টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেছিলেন দুই ইংলিশ পেসার ফ্রেড মার্টিন ও জর্জ লোম্যান।

এর আগে টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় টেস্টে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের প্রথম সাতজন ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেছিল অস্ট্রেলিয়া।

ক্রিকেট, বাংলাদেশ

ছবির উৎস, SALAHUDDIN AHMED

ছবির ক্যাপশান, সাদমান প্রথম ইনিংসে ১৯৯ বল খেলে ৭৬ রান তোলেন

অভিষেকে সবচেয়ে বেশি বল খেলা ওপেনিং ব্যাটসম্যান

এই টেস্টে অভিষেক হয়েছে সাদমান ইসলাম অনিকের।

অভিষেক ইনিংসে রান করেছেন ৭৬।

খেলেছেন ১৯৯ বল, অভিষেক ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে এতা বল খেলেননি কোনো অভিষিক্ত ওপেনিং ব্যাটসম্যান।

টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি বল খেলা ওপেনিং ব্যাটসম্যান ছিলেন নাজিমউদ্দিন; ২০১১ সালে চট্টগ্রামে পাকিস্তানের সাথে ১৮৬ বল খেলে ৭৮ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তবে অভিষেক টেস্ট হলেও ঐ ইনিংসটি ছিল নাজিউদ্দিনের দ্বিতীয় ইনিংস।

এই ইনিংস খেলতে সাদমান ২২০ মিনিট টিকে ছিলেন।

বিবিসি বাংলার আরো খবর: