নিষেধাজ্ঞা সত্বেও খুলনায় শিক্ষকের বেত্রাঘাত: ছাত্র আহত

বাংলাদেশে স্কুলে শিক্ষার্থীদের ওপর বেত্রাঘাত বা যে কোন শারীরিক শাস্তি সরকার নিষিদ্ধ করেছে।
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে স্কুলে শিক্ষার্থীদের ওপর বেত্রাঘাত বা যে কোন শারীরিক শাস্তি সরকার নিষিদ্ধ করেছে।

নিষেধাজ্ঞা সত্বেও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা খুলনার একটি স্কুলে একজন শিক্ষকের বেত্রাঘাত কারণে একজন ছাত্র অসুস্থ হয়ওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় মিকশিমিল রুদাঘরা উচ্চ বিদ্যালয় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সৌমেন সাহা বেত্রাঘাতের পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে ছাত্রটির পরিবার জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বাংলার ক্লাস চলাকালীন এক পর্যায়ে ক্লাসের শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম ছাত্র সৌমেনকে বেত্রাঘাত করেন। এর এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

সৌমেনের আত্মীয় রাহুল সাহা বিবিসি বাংলাকে বলছেন, "সৌমেনের শরীরে অন্তত ৩০টি বেতের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।"

ঐ ছাত্র বেশি অসুস্থ হয়ে পরলে রাতে তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

এদিকে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সর মেডিকেল অফিসার নীলাঞ্জন ঘোষ বলছেন,গতকাল রাতে সৌমেন নামে ঐ ছাত্র শরীরে অসংখ্য ক্ষতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাকে আমরা ব্যথা নাশক ওষুধ দিয়েছি, আজ সকালে ভালো বোধ করায় সে বাসায় ফিরে গেছে।

নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নি: অভিযুক্ত শিক্ষক

১৯৭৯ সালের শিক্ষক আচরণবিধিতে বাচ্চাদের মারধর না করার নির্দেশ রয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এই ঘটনা স্বীকার করে বলেন, "ক্লাস চলার সময় সৌমেন বেশি দুষ্টুমি করছিলো তাই তাকে বেত্রাঘাত করতে আমি বাধ্য হয়েছিলাম।"

আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন করলে মি. ইসলাম জানান, সেই মুহূর্তে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন নি।

তবে আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করলেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক কালাম জোয়ারদার বেত দিয়ে মারার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, "ঐ শিক্ষক হয়তো ছাত্রটিকে চর-থাপ্পড় মেরে থাকতে পারেন।"

"তবে আগামী ছয় তারিখ মঙ্গলবার স্কুলের একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে প্রকৃত ঘটনা কী হয়েছিল সেটা তদন্ত করে দেখা হবে," বলেন মি. জোয়ারদার।

স্কুলে শিক্ষার্থীদের ওপর বেত্রাঘাত বা যে কোন শারীরিক শাস্তি সরকার নিষিদ্ধ করার পরেও এই ধরণের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না।

এর আগে ২০১২ সালে আগে কুষ্টিয়ার পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত কয়েকজন ছাত্রকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়। একই বছর রাজধানী ঢাকার কাছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বেত মারার কারণে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রীর চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল; যা ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল।