শিক্ষকের লাঠির আঘাতে ছাত্র আহত

ছবির উৎস, no credit
- Author, ফরিদ আহমেদ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে পুলিশের পরিচালিত এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বেশ কিছু ছাত্রকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে।
অধ্যক্ষের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত কয়েকজন ছাত্রকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়।
ছাত্ররা অভিযোগ করছে, স্কুলে কোচিং এ ভর্তি হতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষ তাদের লাঠি দিয়ে পেটায়। কিন্তু অধ্যক্ষ আবু দারদা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য বাংলাদেশে স্কুল-কলেজে কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে মাত্র গত সপ্তাহেই সরকার এক নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে, যাতে নিজ স্কুলে শিক্ষার্থীদের কোচিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আহত এক ছাত্র সৌরভ বিবিসিকে জানিয়েছেন, মাস খানেক আগে থেকেই তাদের স্কুলের কোচিং এ ভর্তি হওয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু তারা এতে অস্বীকৃতি জানানোয় অধ্যক্ষ আবু দারদা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ বৃহস্পতিবার স্কুল অ্যাসেম্বলিতে তাদের লাঠি দিয়ে মারা শুরু করেন। বেশ কিছু ছাত্র এসময় লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন।

ছবির উৎস, no credit
স্কুলের এক ছাত্রের অভিভাবক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “অফিস থেকে ফিরে দেখি ছেলের গায়ে মারের চিহ্ন। ওর মা বরফ দিয়ে রেখেছে। ছাত্ররা স্কুলে কোচিং করতে না চাওয়ায় অধ্যক্ষ এমন বেধড়ক মার মেরেছে শতাধিক ছাত্রকে। তিন ছাত্রকে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।”
কিন্তু অধ্যক্ষ আবু দারদা মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোচিং এ ভর্তি হতে চাপ দেয়ার অভিযোগ একেবারেই মিথ্যে। তিনি বলেন, কিছু ছাত্র স্কুল অ্যাসেম্বলি ফাঁকি দিত এবং জাতীয় সঙ্গীত গাইতে চাইতো না। তাদেরকেই তিনি বেত দিয়ে মৃদু আঘাত করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে ছাত্রদের মারা তার ঠিক হয় নি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে স্কুলে শিক্ষার্থীদের ওপর বেত্রাঘাত বা যে কোন শারীরিক শাস্তি সরকার নিষিদ্ধ করেছে।
কুষ্টিয়ার স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালালউদ্দীন জানিয়েছেন, এ ঘটনার ব্যাপারে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে শিক্ষকের হাতে ছাত্রদের মার খাওয়ার ঘটনাটি তারা শুনেছেন।
এ বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নজরে আনলে তিনি বিবিসিকে বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, এ ধরণের ঘটনা অনেক কমে এসেছে। তবে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মন মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। অনেক শিক্ষক ও অভিভাবকদের ধারণা না পেটালে মানুষ হয়না। এটা ঠিক না। আমরা এ লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক কাজ চালাচ্ছি।
ওদিকে কুষ্টিয়ায় ঐ স্কুলের অভিভাবক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানিয়েছেন তারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসবেন।








