নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্কুলে বেত্রাঘাত

class room in bangladesh
ছবির ক্যাপশান, সরকার বলছে, শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমেছে
    • Author, আহরার হোসেন
    • Role, বিবিসি ঢাকা

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বেত মারার কারণে ষষ্ঠ শ্রেনীর এক ছাত্রীর চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের প্রায় দেড় শতাব্দী পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেঘরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে।

আহত শিক্ষার্থীর বাবা ইউসুফ আলী পেশায় একজন সিএনজি অটোরিক্সা চালক।

বিবিসিকে তিনি বলছিলেন, গত রবিবার তিনি হঠাৎ খবর পান তার এগারো বছরের মেয়ে এবং ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

তিনি সেখানে ছুটে গিয়ে দেখতে পান শিক্ষকের লাঠি দিয়ে তার মেয়ের চোখে আঘাত লেগেছে, সেখান থেকে রক্ত ঝরছে এবং তাকে হাসপাতালে না নিয়ে দু’ঘন্টা ধরে স্কুলের বারান্দায় বসিয়ে রাখা হয়েছে।

ইউসুফ আলী আরো জানান, এরপর তিনি তার মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে যান, সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

কিন্তু চিকিৎসকরা অপারগ হয়ে তাকে ইসলামী ব্যাংক চক্ষু হাসপাতালে পাঠায়।

সেখানে মেয়েটির চোখে একটি অপারেশন হয়।

ঘটনার পাঁচদিন পর বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ তার মেয়ের খোঁজ নেয় বলে অভিযোগ করেন ইউসুফ আলী।

মেয়েকে নিয়ে ছোটাছুটির কারণে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হতে পারেননি বলেও বিবিসিকে জানান।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম ভূইয়া এই অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘দূর থেকে একটা কাঠি দিয়ে আলতো করে একটা বাড়ি দেওয়া হয়। ওই আঘাত গিয়ে লাগে মেয়েটির গায়ে। তারপর চিকিৎসাপত্র সবই করলাম। সবকিছু করছি এবং করবো। মেয়েটা অনেকটা সুস্থ’।

এমন সময় এ ঘটনা ঘটলো যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট তৎপর এবং এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতেরও একটা নির্দেশনা আছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন‘বেতটা কেন হাতে নিয়ে গেলো- আমাদেরও প্রশ্ন এটাই। স্কুলেতো বেতও নেই। উনি কোথা থেকে কোন কঞ্চি নিয়েছে বা কি করেছে-ব্যাপারটা যে ঘটিয়েছে সে হয়তো পুরো ঘটনা আমাদের কাছে নাও বলতে পারে। এজন্য আমরা তদন্ত করছি’।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন
ছবির ক্যাপশান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন

বিষয়টা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নজরে আনলে তিনি বিবিসিকে বলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন, এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

‘ডিজিকে আমি নির্দেশ দিয়েছি, একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চাই, কি পরিস্থিতিতে কি ঘটেছিলো এবং অভিযুক্তের ব্যাপারে কি ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগামিকাল পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছি আমি’।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলছেন, একসময় এমন নির্যাতন বাংলাদেশে নৈমিত্তিক চিত্র হলেও এখন তা অনেকটা কমে এসেছে।

‘হাজার হাজার স্কুল, লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি শিক্ষার্থী। কোথাও কোথাও দুএকটি ঘটনা ঘটে। সুতরাং এগুলো বাড়ছে তা কিন্তু না। কমে আসছে অনেক। তবে আমরা চাই শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে।‘

এদিকে, আহত শিক্ষার্থীর বাবা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তার মেয়েকে রবিবার হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে গেছেন। চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হলেও সে ভালো দেখতে পাচ্ছে না।