মারধর নিষিদ্ধের নির্দেশ স্কুলে ঝুলিয়ে রাখতে হবে

ছবির উৎস, UNICEF
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন বাচ্চাদের মারধর নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের রায়ের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া সরকারি পরিপত্র দেশের ৬৪,০০০ প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কক্ষে টাঙ্গিয়ে রাখতে হবে।
"শিক্ষকদের যেন তা দৈনন্দিন নজরে আসে, অভিভাবকরাও যেন তা দেখতে পারেন।"
এছাড়া, এখন থেকে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সময় তাদেরকে শিক্ষক আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গিকার করতে হবে।
১৯৭৯ সালের এই আচরণবিধিতে বাচ্চাদের মারধর না করার নির্দেশ রয়েছে, কিন্তু প্রধান শিক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রেই এই বিধির কথা জানেনই না।
প্রাথমিক স্কুলে বাচ্চাদের মারধরের মত শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিল বছরর পাঁচেক আগে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকেই স্বীকার করা হচ্ছে, সব স্কুলে এই রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছেনা।
স্কুলে মারধর বন্ধের উপায় নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সাথে আজ (রোববার) এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, এই রায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষক রাশেদা কে চৌধুরী, যিনি মন্ত্রীর ডাকা ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিবিসিকে বলেছেন, এখনও দেশের ৩৫ শতাংশের মত প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর করেন।
মিসেস চৌধুরী বলেন তার পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৫০ শতাংশ স্কুলে এখনও বাচ্চাদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। সাতটি বিভাগে সাতটি ইউনিয়নে এই সমীক্ষা চালানো হয়।
তবে একইসাথে তিনি বলেন, বেত দিয়ে মারধরের কঠিন শাস্তি অনেকটা কমেছে। "তবে স্কেল দিয়ে পেটানো, নিল-ডাউন বা কানমলার মত শাস্তি দেওয়া চলছে।"
কেন হাইকোর্টের রায় সত্ত্বেও স্কুলে মারধর বন্ধ হচ্ছেনা -- এই প্রশ্নে রাশেদা চৌধুরী বলেন নজরদারির অভাব এবং অভিভাবকদের অনীহা এর জন্য দায়ী।
তিনি জানান, এখনও প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাবা-মাদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। "স্কুলে শারীরিক শান্তি বন্ধ না হওয়ার পেছনে এই ধরণের বাবা-মা বড় একটি কারণ.. তাদের অনেকর মধ্যেই এমন ধারণা প্রচলিত যে মার না দিলে বাচ্চা মানুষ হবেনা।"








