আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের প্রশ্ন, সম্পাদকের জবাব
এ'সপ্তাহে বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ঘটনা সম্ভবত ছিল ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত মামলার রায়। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে চরম রাজনৈতিক সহিংসতাগুলোর অন্যতম। দীর্ঘ ১৪ বছর পর আদালত সেই গ্রেনেড হামলার মামলার রায় দিয়েছে। বিএনপি এরই মধ্যে এ মামলার রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যরা আবার মনে করছেন, এই গ্রেনেড হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানেরও সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিৎ ছিল।
''সে যাই হোক, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে এ ধরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় নির্বাচনকে কি কোন ভাবে প্রভাবিত করবে?''
প্রভাবিত করবে না, সেটা বলা ঠিক হবে না মিঃ সরদার। কিন্তু কতটুকু করবে এবং কীভাবে করবে, সেটা বলা মুশকিল। অনেক কিছু নির্ভর করবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি বিষয়টি নিয়ে কী ধরণের রাজনৈতিক খেলা খেলবে, তার ওপর। বিএনপি চেষ্টা করবে জনগণকে বোঝাতে যে আওয়ামী লীগ জিয়া পরিবারকে রাজনীতি থেকে উৎখাত করার জন্য একের পর এক মামলা করে যাচ্ছে, যাতে জনগণের সহানুভূতি তাদের দিকে যায়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলার চেষ্টা করবে তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটাতে চায় এবং এই মামলা তাদেরকে সেই লক্ষ্যে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণ কি ১৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা বিবেচনা করে ভোট দেবে, নাকি আগামী ১৪ বছর কোন দল দেশে শান্তি এবং সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য কাজ করবে, সে বিবেচনায় ভোট দেবে? আপনি একজন ভোটার মি. সরদার, আপনি কি বিবেচনা করবেন?
এই বিষয়ে বিবিসির সম্প্রচার নিয়ে ছোট একটি মন্তব্য করে লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইর থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:
''চৌদ্দ বছর আগে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলার মামলার রায় নিয়ে বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, সাক্ষাৎকার ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ইস্যুতে অন্য প্রচার মাধ্যমগুলি এতো সুন্দর ভাবে সংবাদ প্রচার করেনি।''
ধন্যবাদ মি. আহমেদ। বিবিসিতে এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ের কাভারেজ আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদের ভাল লাগলো।
এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে একটি অভিযোগ । তবে অভিযোগটি আমার কাছে বেশ বিভ্রান্তিকর মনে হচ্ছে। লিখেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম:
''গত সপ্তাহে বিবিসি বাংলার প্রবাহ অনুষ্ঠানে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফুচকা মেলার প্রতিবেদনটি শুনলাম। অবশ্য অনেক ভালো লেগেছিল। আমার কথা হলো, সামান্য ফুচকা মেলা বিবিসি কর্তৃপক্ষের সামনে পড়লো। কিন্তু বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি ঢাকায় সমাবেশ করলো, তখন বিবিসি কর্তৃপক্ষ কোথায় ছিল? সমাবেশ সম্পর্কে খবর প্রচার না করে ফুচকা মেলা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে শ্রোতাদের কী বোঝাতে চায় বিবিসি?''
আপনি কোন দিনের বিএনপি সমাবেশের কথা বলছেন তা আমি বুঝতে পারছি না মি. ইসলাম। ফুচকা মেলা হয়েছিল এ'মাসের পাঁচ তারিখে আর বিএনপির বড় সমাবেশ হয়েছিল তার পাঁচ দিন আগে। কাজেই একটি অবহেলা করে অন্যটি প্রচার করা হয়েছে, সেটা বলা যাবে না। আর সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখের বিএনপির সমাবেশ যে শুধু আমাদের সামনেই পরেছিল, তাই না, খবরটি সেদিন সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে শিরোনামেও ছিল। (৩০শে সেপ্টেম্বর বিএনপির জনসভার ওপর প্রতিবেদন পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)।
কুড়িগ্রামের রাজার হাট থেকে আরো একটি চিঠি। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি খবর নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান :
''গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি তার স্বভাব-সুলভ রসবোধ দিয়ে আমাদের সমাজ, রাজনীতির কিছু নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। যা পাশ কাটিয়ে যাওয়া অসম্ভব বলে মনে করি। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে প্রেম থেকে প্রেমপত্র, পুরুষ অধিকার থেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিয়ে, আইসিটি অপব্যবহার থেকে মনস্তত্ত্ব সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বোধ সম্পর্কে বলেছেন।
কিন্তু বিবিসি খবরটির প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে, শুধু প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিয়ের বিষয়ে শিরোনাম করে প্রকাশ করলো কেন? রাষ্ট্রপতিকে সমালোচনায় ফেলতে না কি বিবিসি আলোচনায় আসতে?''
আপনি খেয়াল করবেন মি. রহমান, আমরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে কোন প্রতিবেদন করিনি। সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়েছিল শনিবার, আর আমাদের প্রতিবেদন ছিল সোমবার। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতির ভাষণ আমাদের বিষয় ছিলনা। দু'দিন পরে আমরা দেখলাম যে, ভাষণের ঐ অংশ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা মতামত দেয়া হচ্ছে। এটা ছিল একটি ভাইরাল বিষয়। আমাদের প্রতিবেদনটি ছিল সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া নিয়ে। শিরোনামে সেটাই বলা হয়েছে এবং পুরো পাতা জুরে ফেসবুক থেকে বিভিন্ন লোকের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। আপনাকে ধন্যবাদ।
এ'মাসের ১১ তারিখে বিবিসি বাংলার ৭৭ বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু আমাদের রেডিও অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সম্পর্কে কোন ঘোষণা না শুনে বিস্মিত হয়ে লিখেছেন রংপুরের কাউনিয়া থেকে বিলকিস আক্তার:
''সেদিন সকাল সাড়ে ৭ টার প্রত্যুষা অধিবেশনটি খুব মনোযোগ সহকারে শুনছিলাম। কিন্তু পুরো সংবাদের কোথাও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংক্রান্ত কোন খবর আমার কানে আসলো না! এমনকি একটিবারের জন্য ঘোষণা আকারেও শ্রোতাদের তা অবহিত করা হলো না, তবে আমার ঠিকই তা স্মরণে ছিল। এখন বিবিসি'র কাছে আমার প্রশ্ন, অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম দেখি ঘটা করে তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু আপনারা সত্যিই ব্যতিক্রম। এটা আপনাদের নীতিমালা নাকি এমনিতেই তা এড়িয়ে চলেন?''
ঠিক এড়িয়ে চলিনা মিস আক্তার। গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিকী অবশ্যই আমরা ঘটা করে পালন করি - যেমন ৭০তম, ৭৫তম ইত্যাদি। সেগুলোতে স্মরণিকাও প্রকাশ করেছি। তবে ৭৭তম বার্ষিকীটা তেমন উল্লেখযোগ্য বলে মনে হয়না। তাছাড়া, আমাদের কাজ হচ্ছে আপনাদের জন্য দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে আসা। আমরা নিজেদেরকে খবরের অংশ করতে চাইনা। আপনাকে ধন্যবাদ। (বিবিসি বাংলার হীরক জয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নিয়ে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন প্রবীণ রেডিও শ্রোতা খুলনার মুনির আহম্মদ:
''ঠিক ৭৭ বছর আগে বিবিসি বাংলার যাত্রা শুরু। মনে পড়ে গেলো দুবছর আগে আপনারা রেডিওতে আমার সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিলেন। আজ তাই, বিবিসি বাংলার সম্প্রচারের ৭৭ তম জন্মদিবসে বিবিসি বাংলার কর্মী, অসংখ্য শ্রোতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন। সেই সাথে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই সব কণ্ঠের অধিকারী বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রাক্তন কর্মীদের, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আজ বিবিসি বাংলাকে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে সহায়তা করেছে।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মি: আহম্মদ, দীর্ঘ দিন বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য। আমার মনে আছে বছর দুয়েক আগে খুলনায় শ্রোতা সম্মেলনের সময় আপনার সাথে দেখা হয়েছিল। আশ করি ভবিষ্যতেও দেখা হবে।
একই দিন, অর্থাৎ ১১ই অক্টোবর ছিল বিশ্ব কন্যা শিশু দিবস, এবং সেটা নিয়ে লিখেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-আইন শহর থেকে ওবায়েদুল ইসলাম উজ্জ্বল:
''কন্যা শিশু আমাদের বোঝা নয়, বরং আমরা তাদের নিয়ে নিরাপত্তার অভাবে ভুগছি। নারীরা ঘরের বাইরে কাজ করতে নানা হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছে। নিরাপত্তাহিনতার কারণে নারীরা ঘরে, আর পুরুষরা বাহিরের দিকটা খেয়াল রাখে। যদি আমরা নারী বৈষম্য করতাম, তাহলে কি শত শত নারী বিদেশে পাড়ি দিতে পারতো?
''গ্রাম ছেড়ে ঢাকা শহরে এসে গার্মেন্টসে কাজ করতে পারতো? আমরা গ্রামে কেন দেখি অল্প বয়সে তাদের বিয়ে দেয়া হচ্ছে? তারা মাথার বোঝা এই কথা ভেবে নয়, বরং দুশ্চিন্তা ও অনিরাপত্তার জন্য, কারণ আমাদের দেশের সরকার নিরাপত্তা দিতে পারেনি।''
এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের অনেক পরিবার কন্যাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে মিঃ ইসলাম । তবে এ কথাও ঠিক যে, অনেকে কন্যাদের বোঝা হিসেবেই দেখেন। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, যারা কন্যাদের বোঝা হিসেবে দেখেন এই ভেবে যে, তারা রোজগার করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না, সেই পরিবারগুলোর অনেকেই আবার কন্যাদের স্বাবলম্বী করে গোড়ে তোলেন না। অল্প বয়সে বিয়ে দিতে পারলেই মনে হয় সেই দুশ্চিন্তাটা দূর হবে। কাজেই, আমার মনে হয় কন্যাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, অল্প বয়সে বিয়ে না দিয়ে, কীভাবে তারা ছেলেদের মতই শিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে সেদিকে বাবা-মা'দের মনোযোগ দেয়া উচিত।
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ। বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশায় বেতন-ভাতা, নিয়োগ সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে আন্দোলন বিক্ষোভ প্রায়ই হয়ে থাকে। সম্প্রতি সরকারী চাকুরীতে কোটা সংস্কারের দাবীতে আন্দোলন হয়ে গেল। তার সূত্র ধরেই ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল একটি অনুরোধ করেছেন:
''বিবিসি নিউজ বাংলা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ যেমন আদ্যোপান্ত প্রচার করেছে, ঠিক তেমনি কোটা বাতিল হবার সংবাদও গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে। আমার অনুরোধ হচ্ছে, শাহবাগে চাকরিতে প্রবেশের বয়স সীমা ৩৫ করার দাবিতে আরো একটি আন্দোলন প্রায় দিনই হচ্ছে তা গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করার জন্য। আমাদের বিশ্বাস এই বিষয়ে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা মূলত বিবিসি-সহ অন্য গণমাধ্যমগুলোর গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার করার জন্য।''
অগ্রগতি খবরের জন্য হয় কি না তা আমি জানি না শামীমউদ্দিন শ্যামল। তবে যে আন্দোলন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং যাতে যথেষ্ট জন সমর্থন আছে বলে আমাদের মনে হয়, সেগুলোর ওপর সংবাদ আমরা অবশ্যই করি। আপনাকে ধন্যবাদ।
আসন্ন দুর্গা পূজা এবং পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন রংপুর সদর থেকে দেব প্রসাদ রায়:
''গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে বাংলাদেশে প্রায় বছর জুড়েই মাটির মূর্তি এবং মন্দির ভেঙ্গে ক্ষোভ ঝাড়ে দুর্বৃত্তরা। মূর্তি ভাঙ্গা হয় উৎসবের আগে এবং পরে। ভাঙ্গা হয় জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে। দেশের প্রশাসন দুর্গোৎসবের সময় নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ নিলেও পরবর্তী সময়ে সেটা অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়ে। লক্ষ্য করলে দেখবেন এই মূর্তি ভাঙ্গার প্রবণতার বেশির ভাগই কিন্তু বাংলাদেশে। আর যাই হোক উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় ধর্ম পালন কতটা সমীচীন প্রশ্ন থেকে যায়।''
গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ টেনেছেন মিঃ রায়। পূজার সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, কিন্তু তারপর কী হবে? তারপর নির্বাচন প্রচারণা শুরু হবে, তখন কোন পক্ষ বিভেদ সৃষ্টির জন্য মন্দিরে হামলার পথ নিতে পারে। বিগত কয়েক বছরে আমরা ভারতেও লক্ষ্য করেছি স্থানীয় বা জাতীয় নির্বাচনের আগে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ঘটানো হচ্ছে, একটি ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেখা যাক, বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপলব্ধি করে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না। আপনাকে ধন্যবাদ।
কিছুটা আক্ষেপ করে লিখেছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থেকে জাহিদউল ইসলাম রিপন:
''আমি আপনাদের অনুষ্ঠান নিয়মিত শুনি ও পত্র লিখি। কিন্তু আপনারা আমার চিঠির প্রাপ্তি স্বীকারটুকুও করেননা কেন? যদি জানান, তবে লেখার আগ্রহ জাগবে। তবে নিয়মিত লিখিনা বলে অবহেলা করেন মনে হয়।''
না মিঃ ইসলাম, নিয়মিত লেখেন, নাকি অনিয়মিত লেখেন, তার ওপর উত্তর, প্রাপ্তি স্বীকার কোনটাই নির্ভর করে না। চিঠিতে অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন, মন্তব্য বা অভিযোগ থাকলে সেগুলো অগ্রাধিকার পায়। তাছাড়া অন্য কিছু বিষয় যদি থাকে, যার উত্তর দেয়ার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, তাহলে সেটা অনুষ্ঠানে নেয়া হয়। কিন্তু আপনার কোন মেইলের প্রাপ্তি স্বীকারও করা হয়নি, এমন অভিযোগ হয়তো সঠিক না। আপনাকে ধন্যবাদ।
আমাদের একটি প্রতিবেদন নিয়ে পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকা থেকে তানজিলুর রহমান:
''ভারতে 'মি টু' নিয়ে একটা প্রতিবেদনে তনুশ্রী দত্তকে 'নামকরা' বলা হয়েছে যা তিনি আদৌ নন। আবার অন্যদিকে যিনি সত্যিই নামকরা, সেই কঙ্গনা রানাওয়াতের আগে কোন বিশেষণ যোগ হয়নি। বিশেষণ যদি যোগ করতেই হয় তা সঠিকভাবে করা উচিত।''
আপনার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত মিঃ রহমান। আমরা চেষ্টা করি বিশেষণ পুরোপুরি পরিহার করে চলতে। কারণ, কাওকে নামকরা বা বিখ্যাত বা কুখ্যাত বললে আসল কাহিনীর কোন গুনগত পরিবর্তন হয় না। তাহলে দরকার কী? আপনাকে ধন্যবাদ।
পত্র-মিতালি নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনের প্রশংসা করে লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজিজুল ইসলাম:
''গত ৯ অক্টোবর, বিবিসি বাংলায় পত্র-মিতালি শিরোনামে পত্র-মিতালির সোনালি সময় নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রচারিত হল তা আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে। সবুজ-সাথী জুটির কাহিনীটা অসাধারণ ছিল। মনে হলো, নব্বই এর দশকের তরুণ হলে কত মজা হত! একথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, মোবাইল আর ইন্টারনেট যুগে বর্তমান তরুণ-তরুণীদের আর সেই ভালোবাসার অনুভূতিটা নেই।
''বিবিসি বাংলা প্রচার না করলে হয়তো পত্র-মিতালির সোনালি সময়ের কথা জানতেই পারতাম না। এমন দারুণ সোনালি সময়ের কথা প্রচার করার জন্য বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ ইসলাম, বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য।
আমাদের সকালের অনুষ্ঠান নিয়ে একটি মন্তব্য করে লিখেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে এম সবুজ আহমেদ:
''ফিচার পরিবেশনা শোনার অগণিত প্লাটফর্ম দেশে আছে, নেই আস্থা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের প্লাটফর্ম। আমরা প্রত্যুষা'তে ফিচার শুনতে চাই না, শুনতে চাই চলমান সংবাদ ও সংবাদ বিশ্লেষণ। এযাবতকালে বিবিসি নিউজ বাংলা কর্তৃপক্ষ যা ভালো মনে করেছেন, তাই করেছেন। হয়তো এখনো তার ব্যতিক্রম হবে না। তবুও অনুরোধ করবো, প্রত্যুষা পরিবেশনায় পরিবর্তন আনার জন্য।''
আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ মি. মাহমুদ। কিন্তু আপনি প্রত্যুষায় ফিচার কোথায় পেলেন, বুঝতে পারছি না। আমাদের সব ফিচার প্রভাতী এবং পরিক্রমায় প্রচার করা হতো। এই দুটো অধিবেশন আর নেই, এবং ফিচারগুলোও আর নেই। এখন শুধু প্রীতিভাজনেষু দু'দিন প্রত্যুষায় ছোট আকারে প্রচার করা হয়। আপনি কি বলছেন, প্রত্যুষা থেকে প্রীতিভাজনেষু বাদ দিতে? তাতে কী লাভ হবে? প্রত্যুষা এখন পুরোপুরি সংবাদ-ভিত্তিক একটি অনুষ্ঠান। শেষের দিকে সংবাদপত্র পর্যালোচনা থাকে।
আবার ফিরে আসছি বিবিসি বাংলা বার্ষিকী প্রসঙ্গে। সেই বার্ষিকী ঘিরে লম্বা একটি চিঠি লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক। তার কিছু অংশ নেয়া যাক:
''আমি ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে বাংলাদেশে এক অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিবিসি শোনা শুরু করি। ইদানীং গণমাধ্যমের নানা ধরণ এবং সামাজিক মাধ্যমের দ্রুত বিস্তারে বিবিসির জনপ্রিয়তায় ভাগ বসেছে বটে, তবে আমি মনে করি বাংলাদেশে এখনও অন্যতম জনপ্রিয় গণমাধ্যম বিবিসি। শুনেছি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের আস্থার জায়গা ছিল বিবিসি।
''স্বৈরাচারী এরশাদের সময়ও বিবিসির জনপ্রিয়তা ও প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মত। এখনকার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন, রেডিও, কমিউনিটি রেডিও, ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল ইত্যাদিতে ছয়লাব চারপাশ। কিন্তু এই বিপুল বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমেছে গণমাধ্যমের উপর মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতা। এখন মানুষ একাধিক পত্রিকা পড়ে, একাধিক টিভি চ্যানেল দেখে তারপর নিজের মত ধারণা করে নেয়।
''কিন্তু বিবিসি মানেই এখনও আস্থা ও নির্ভরতার শেষ কথা। গ্রামে এখনও যে সব খবরাখবর রাখে এবং তা সবাইকে জানায়, এমন মানুষকে বিবিসি বলে ডাকা হয়! হতাশার চাদরে মোড়ানো থেকেও আমরা আশার আলো দেখতে পছন্দ করি। বিবিসি এ আশার আলো নিয়ে নিয়মিত হাজির হোক প্রতিটি সংবাদ প্রিয় শ্রোতার দরজায়। আমাদের প্রতিটি দিন হোক স্বপ্নময়, আর সেই স্বপ্নের সন্ধান দিক বিবিসি।''
সুন্দর কিছু কথার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি: ইসলাম। আমাদের ওপর শ্রোতা-পাঠকের আস্থা যতদিন থাকবে, ততদিন বিবিসি বাংলাও নিষ্ঠার সাথে তার কাজ চালিয়ে যাবে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মোহাম্মদ নুর জামাল ঢালী, দাকোপ,খুলনা।
এস.এস.লিয়াকত আলী, পার্বতীপুর দোলাপাড়া উপশহর, রংপুর।
মুহাম্মাদ ওয়ালেদ, দোহা,কাতার।
মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জীবন, কুড়িগ্রাম সদর।
কৌশিক আহমেদ, উত্তরা, ঢাকা ।
মনির হোসেন, জলঢাকা, নীলফামারী।
রাজিব হুসাইন রাজু, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা।
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সুজন, খালিশপুর, খুলনা।
মাসুম বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
বিবিসি বাংলার খবর সম্পর্কে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখুন:
ইমেইল:[email protected]
ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/