বাংলাদেশে আউটসোর্সিং: বিকাশে বাধা কোথায়?

ছবির উৎস, Hindustan Times
- Author, সানজানা চৌধুরী
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
দেশে বসে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিদেশের জন্য চুক্তি অনুযায়ী কাজ, যেটাকে আউটসোর্সিং বলা হয়, নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন তরুণ তরুণীরা।
ঘরে বসে বড় অংশের অর্থ আয়ের সুযোগ থাকায় আউটসোর্সিংয়ে ছেলেদের পাশাপাশি ঝুঁকছে মেয়েরাও।
তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব, সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা না থাকা, উপার্জিত অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।
ঘরে বসে আউটোর্সিংয়ের কাজ করেন জয়িতা ব্যানার্জি। তিনি বিবিসিকে বলেন, "অনেক সময় এমন হয় যে, একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছি, এরমধ্যেই কারেন্ট চলে গেল। এমনও হয় যে ২৪ ঘণ্টার জন্য কারেন্ট নেই। তাছাড়া আমাদের যেসব ইন্টারনেট প্রোভাইডার আছে, তাদের কানেকশন এতোটা ভাল না। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রতিটা সেকেন্ড ইম্পরট্যান্ট। যখন আমাদের ডেডলাইন চলে আসে তখন এ ধরণের সমস্যাগুলো হলে আমাদের বাইরের যে ক্লায়েন্টগুলো আছেন তারা অনেকসময় লিখেই দেয় বাংলাদেশে এসব সমস্যা, আমরা এখান থেকে ফ্রিল্যান্সার নেব না।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু না করায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়িতা ব্যানার্জি।
"এমন অনেক নামিদামি ফ্রিল্যান্সিং সাইট রয়েছে যাদের পেইং মেথডটাই হচ্ছে পেপাল। কিন্তু বাংলাদেশে এই সার্ভিস নেই। পেপাল আনা গেলে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত হাজার গুণ এগিয়ে যাবে। এখন আমাকে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে দুই তিনদিন অপেক্ষা করে টাকা তুলতে হয়। এটা আমার জন্যও সমস্যা, তেমনি আমার ক্লায়েন্টদের জন্যও।"

ছবির উৎস, SOPA Images
অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের অর্থ উত্তোলন করা গেলেও উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছে না।
ডলারের দামে পার্থক্য থাকায় অনেককেই বৈষম্যের শিকার হতে হয়।
বর্তমানে বিশ্বে আউটসোর্সিং তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। এখানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। বেসিস সফটএক্সপো সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়তে পারেন:
টেকনো বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ ইমরুল কাইস বলেছেন, আউটসোর্সিং-এ আমাদের যতটুকু সম্ভাবনা রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটেনি। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষা এবং আইটি খাতে দক্ষতার অভাবকে অন্যতম ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মিস্টার কাইস বলেন, "সরকার বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে এই খাতের উন্নয়নে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো সব এন্ট্রি খাতের ওপর ফোকাস করে নেয়া হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যপট এখন আর আগের মতো নেই। সবাই এগিয়ে গেছে। কমিউনিকেশন, ক্রিয়েটিভিটি এবং লজিকাল স্ট্রেংথ অনেক ইম্পরট্যান্ট। এজন্য যে প্রশিক্ষণ দরকার সেটা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।"
বাংলাদেশের অন্তত ২০ লাখ তরুণ-তরুণীকে ২০২১ সালের মধ্যে আউটসোর্সিং খাতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

ছবির উৎস, AAMIR QURESHI
এই অপ্রতুলতার মধ্যে মাত্র তিন বছরের মাথায় এতো বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ আসলেও কতোটা বাস্তব সম্মত? সে পরিমাণ অবকাঠামো কি বাংলাদেশের আছে?।
জানতে কথা হয়েছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে।
তিনি জানান, "বর্তমান সরকার ১ লাখ ৭০ হাজার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন বছরের মাথায় ইন্টারনেটে সংযুক্ত করবো। ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্ক জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে, হাইস্পিড ফাইবার অপটিক কেবল ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এই অবকাঠামো তৈরি করার জন্যই লক্ষ্য লক্ষ তরুণ তরুণীর কর্মসংস্থান হয়েছে এবং আগামী তিনবছরের মধ্যে তা আরও বাড়বে বলে আমি আশাবাদী।
এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের অর্থ লেনদেনের সুবিধায় শিগগিরই পেপাল সার্ভিস আনার কথাও জানান প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী।
"অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকে টাকা আসছে। বিদেশে টাকা পাঠানোর বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে আমরা আলোচনা করছি। আমার আশা করছি অল্পদিনের মধ্যে 'ইলেকট্রনিক নো ইওর কাস্টমার' সার্ভিসটি চালু করতে পারলে পে-প্যাল, স্ক্রি-প্যাল, পে-ওনিয়ারের মত ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ের ওয়ালেট বাংলাদেশে খোলা সম্ভব হবে।"

প্রযুক্তিবিদ শাহ ইমরুল কাইসও মনে করেন সঠিক ব্যবস্থাপনার আওতায় তিন বছরের মাথায় এই চ্যালেঞ্জ চাইলেই পূরণ করা সম্ভব।
"যারা এখন ইন্ডিভিজুয়ালি সাকসেসফুলি কাজ করছে তাদের মাধ্যমে ভাল ভাল কোম্পানিগুলো থেকে কাজ আনা যেতে পারে। এবং এই কাজগুলো মেডিওকার কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে যেখানে কাজগুলো তাদের ছত্রছায়াতে পরিচালিত হবে। ক্ষুদ্র কুটির শিল্পর দিকে যেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় তেমনটি আউটসোর্সিং খাতের প্রতি নজর দিলে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা যাবে। "








