গ্রীসে শরণার্থীদের ফেলে যাওয়া লাইফভেস্ট কোথায় যাচ্ছে?

ছবির উৎস, Dan Kitwood
যুদ্ধ থেকে পালিয়ে সমুদ্র পথে যে সব শরণার্থী ইউরোপে ঢুকছেন তারা সৈকতে ফেলে যাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ লাইফ জ্যাকেট।
স্তূপ হয়ে পড়ে থাকা এই লাইফ জ্যাকেট মনে করিয়ে দেয় তাদের কষ্টের কথা।
গ্রীসের সৈকত থেকে সেগুলো জড়ো করে সেলাই করে বানানো হচ্ছে নানা সামগ্রী।
আর সেগুলো বানাচ্ছেন শরণার্থীরা নিজেরাই।
সেলাই মেশিন আর সিরিয়ান ভাষা এই দুইয়ে মিলে জমজমাট একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে দেখা গেলো সেখানে বহু সিরিয়ান সেলাই মেশিন আর কাচি নিয়ে ব্যস্ত।
এখানে এই শব্দ আর লাইফভেস্টগুলোর সাথে মিশে আছে সেই শরণার্থীদের গল্প যারা যুদ্ধের হাত থেকে পালিয়ে বেচেছেন।
যারা পালিয়ে আসতে গিয়ে সমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন রয়েছে তাদের গল্পও।
কিন্তু একই সাথে শরণার্থীরা এখানে সেলাই মেশিনে বুনে চলেছেন নতুন জীবনের গল্প। হমস শহরের শিক্ষক এলহাম শাহীন তাদের একজন।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, ARIS MESSINIS
তিনি বলছেন, "আমি স্বেচ্ছা সেবকের কাজ পছন্দ করি। সিরিয়া থাকতে আমি নিয়মিত এরকম কাজ করতাম। কিন্তু এখানে আমি কিছু টাকা পাচ্ছি। প্রতি মাসে দেড়শ ইউরো পাই। তাতে কিছুটা উপকার হচ্ছে"
উজ্জ্বল কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেটের কাপড় দিয়ে ব্যাজ বানাচ্ছিলেন শাহীন।
যার কাজ হল শরণার্থীদের সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
তিনি বলছেন, "লাইফভেস্ট সম্পর্কে আমরা ধারনা বদলাতে চাইছি। এটি শুধু বিপদের কথা বলে। এখন এগুলো দিয়ে আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি করবো। এগুলো এখন আমাদের জীবনের গতি পরিবর্তনে সহায়তা করবে"
নেদারল্যান্ডস এর সংস্থা মেকারস ইউনাইট সেই সুযোগ করে দিচ্ছে শরণার্থীদের।
তাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা গ্রীসের দ্বীপগুলোর সৈকত থেকে শরণার্থীদের ফেলে যাওয়া লাইফ জ্যাকেট সংগ্রহ করছেন।
তার পর সেগুলো কেটে সেলাই করে নানা পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।
যেমন ধরুন ল্যাপটপ কাভার, কাগজপত্র রাখার ফাইল, হ্যান্ড ব্যাগ, শরণার্থীদের সম্পর্কে সচেতনতা মূলক ব্যাজ, রিষ্ট ব্যান্ড বা পতাকা।
মেকারস ইউনাইট এর প্রতিষ্ঠাতা টমি স্ফাইশলার।

ছবির উৎস, Carl Court
তিনি বলছেন তারা ইউরোপের সবচাইতে দীর্ঘতম অভিবাসী সংকট নিয়ে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করতে চান।
তিনি বলছেন, "আমাদের জন্য এই লাইফভেস্টগুলো হচ্ছে একটি আলোচনার শুরু। আমরা চাই এই পণ্যগুলো সমাজে একটা আলোচনা তৈরি করুক। এই যে এত শরণার্থীরা আসছেন তাদের সমাজে যায়গা করে দিতে আমরা কি করতে পারি? আমরা কি সমস্যা লুকিয়ে রাখবো? নাকি সেনিয়ে কিছু করবো? আমরা এভাবে আলাপটা শুরু করছি। আমরা তাদের জন্য জীবিকার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে তাদের জন্য কিছু একটা করছি"
এই কাজের মাধ্যমে জীবনে দ্বিতীয়বার সুযোগ পেয়েছেন সিরিয়ার আলেপ্পোর বাসিন্দা আমার হাজ ওমার।
যিনি পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। "আমি এখানে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করছি। আমি সিরিয়াতে যখন কাজ করতাম এখানেও সেই একই কাজ করছি। আমি সুখী"
এখানেও তার গলায় ঝোলানো আছে মাপ দেয়ার টেপ।
যুদ্ধের হাত থেকে সমুদ্র পথে পালিয়ে আসার সময় যে লাইফ জ্যাকেট তার জীবন বাঁচিয়েছে, আজ সেই কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেটটি তার জন্য আয়ের সুযোগ ও করে দিচ্ছে।








