কুয়ালালামপুরের রাস্তায় ফিলিস্তিনি শিক্ষককে গুলি করে হত্যা: নেপথ্যে ইসরায়েলি গুপ্ত সংস্থা মোসাদ?

ফিলিস্তিন হামাস মালয়েশিয়া ইসরায়েল

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, হামাস বলছে, মি. আল-বাৎশ একজন বিজ্ঞানী এবং তাদের সদস্য ছিলেন

একজন ফিলিস্তিনি শিক্ষক এবং হামাস গোষ্ঠীর সদস্য ফাদি আল-বাৎশকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে রাস্তার ওপর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার এবং হামাস গোষ্ঠী বলেছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আছে।

মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারাও বলেছেন, সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা শ্বেতাঙ্গ এবং একটি বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত বলে তারা ধারণা করছেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ ঘটনা নিয়ে এখনো কোন মন্তব্য করেননি।

ফাদি আল-বাৎশ শনিবার সকাল ছ'টার দিকে কুয়ালালামপুরে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন।

পুলিশ বলছে, তখনই মোটরবাইকে করে আসা দু'জন বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে ১০ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। মি. আল-বাৎশের দেহে চারটি গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন:

ফিলিস্তিন হামাস মালয়েশিয়া ইসরায়েল

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে মালয়েশিয়ার পুলিশ

কুয়ালালামপুরের পুলিশ প্রধান মাজলান লাজিম বলেন, তারা সিসিটিভি ফুটজ পরীক্ষা করে দেখেছেন, বন্দুকধারীরা আক্রমণ চালানোর আগে প্রায় ২০ মিনিট ধরে সেখানে অপেক্ষা করছিল।

মি. বাৎশ কয়েক বছর ধরেই মালয়েশিয়ায় বাস করছিলেন এবং তড়িৎ প্রকৌশলের প্রভাষক ছিলেন।

মালয়েশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, নিহত ব্যক্তির বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থা এবং ফিলিস্তিনি-সমর্থক এনজিওর সাথে সম্পর্ক ছিল। তিনি আরো বলেন, আক্রমণকারীরা ছিল শ্বেতাঙ্গ এবং তাদেরও বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ ছিল।

হামাস বলেছে, তাদের একজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে তারা শহীদ বলে বর্ণনা করে - সাধারণত এই শব্দটি ইসরায়েলী বাহিনীর হাতে নিহতদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। তবে হামাস সরাসরি ইসরায়েলকে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেনি।

ইসরায়েল অতীতেও জঙ্গী গ্রুপ হামাসের সদস্যদের বিদেশের মাটিতে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হয়।

হামাস অভিযোগ করে যে ২০১৬ সালে তাদের একজন ড্রোন বিশেষজ্ঞ এবং তিউনিসিয়ান নাগরিক মোহাম্মদ জাওয়ারিকে তার গাড়িতে বসা অবস্থায় গুলি করে হত্যার ঘটনার পেছনে মোসাদ ছিল।

এছাড়া দুবাইয়ে একটি হোটেলে হামাস জঙ্গী মাহমুদ আল-মাবহার মৃত্যুর ঘটনার পেছনেও মোসাদের হাত ছিল বলে মনে করা হয়।

এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে জর্ডনে মোসাদের অ্যাজেন্টরা হামাস নেতা খালিদ মিশালের কানের ভেতর বিষ ছিটিয়ে দিয়ে হত্যার এক ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।

ইসরায়েল বা মোসাদ কখনোই এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনটাই করেনি।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন: