হামাস নেতাকে হত্যার চেষ্টায় কেন ব্যর্থ হয়েছিল মোসাদ

ইসরায়েলি গুপ্তচররা ১৯৯৭ সালে হামাসের নেতা খালেদ মেশালকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে ত্রাসসৃষ্টিকারী গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা হয়ে ওঠে এক বড়ধরনের কূটনৈতিক কেলেঙ্কারি এবং মোসাদের তৎকালীন প্রধান ড্যানি ইয়াটমকে সরে দাঁড়াতে হয় তার পদ থেকে ।

কী হয়েছিল ওই অভিযানে সে কথাই ইতিহাসের সাক্ষীতে বলেছেন মোসাদের সাবেক এক গুপ্তচর মিশকা বেন ডেভিড সেদিন মোসাদের ওই হত্যা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

হামাস নেতাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল ইসরায়েলের প্রতিবেশি এবং শান্তি উদ্যোগে তাদের সহযোগী দেশ জর্দানে।

মোসাদের ওই হত্যা পরিকল্পনা কেন ব্যর্থ হল তা নিয়ে সরকারি তদন্তের রিপোর্ট বেরয় ১৯৯৮ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি। রিপোর্টে বলা হল এই ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনোভাবে দায়ী নন। কিন্তু অভিযান ব্যর্থ হওয়ার জন্য দোষ চাপানো হয় মোসাদ প্রধান ড্যানি ইয়াটমের ওপর।

danny yatom

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, খালেদ মেশালকে হত্যার অভিযান ব্যর্থ হওয়ার দায় নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন সাবেক মোসাদ প্রধান ড্যানি ইয়াটম।

কঠোর সমালোচনার মুখে এক সপ্তাহ পরে প্রচারিত হয় তার পদত্যাগের খবর। ইসরায়েলী বিশ্লেষকরা জর্দানে ওই হামলাকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

মোসাদের সাবেক গুপ্তচর মিশকা বেন ডেভিড বলেন মোসাদের সিদ্ধান্ত, অভিযানের কৌশল, পরিচালনা পদ্ধতি, সবকিছুই সঠিক থাকলেও কোনো কিছুই সফল হয় নি।

১৯৯৭এর জুলাইয়ে জেরুসালেমের এক বাজারে ফিলিস্তিনি আত্মঘাতী বোমাহামলাকারীদের জোড়া হামলায় ১৬জন ইসরায়েলী নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়। সেবারই প্রথম হামাস হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে। তখন খালেদ মেশাল ছিলেন তাদের নেতা।

মোসাদকে বলা হয় হামাস সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করতে। হামাসের নেতারা তখন জর্দানে বসবাস করছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল ও জর্দানের মধ্যে যেহেতু শান্তিচুক্তি হয়েছিল, তাই মোসাদ চরদের ওপর নির্দেশ ছিল তারা যেন জর্দানে না যান এবং জর্দানের ভেতর যেন কোনো গুপ্তচর বৃত্তি না করেন। সেই নির্দেশ তারা মেনে চলেন অন্তত গ্রীষ্ম মরশুম পর্যন্ত।

কিন্তু মিশকা বেন-ডেভিড বলেছেন ওই বছরই চৌঠা সেপ্টেম্বর আরেক দফা উপর্যুপরি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটার পর এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে খালেদ মেশালের নেতৃত্বেই হামাস একের পর এক আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে।

ব্যর্থ অভিযানের কারণ অনুসন্ধানে ১৯৯৭ সালে গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, ব্যর্থ অভিযানের কারণ অনুসন্ধানে ১৯৯৭ সালে গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

সেসময়েই তাদের আম্মানে গিয়ে মেশালকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মোসাদের নির্দেশ ছিল – কোনো বোমা বা বন্দুক ব্যবহার করে নয়- চুপিসাড়ে, গোপনে সবার চোখের আড়ালে কাজ সারতে হবে। পরিকল্পনা হয় একেবারে ওপরতলায়। নির্দেশ আসে বিষাক্ত পদার্থ তার চামড়ার ওপর ছিটিয়ে দিতে হবে যে বিষ তার শ্বাসযন্ত্রকে বিকল করে মৃত্যু ডেকে আনবে।

দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় ছয়জনকে। মিশকা বেনডেভিড যান সঙ্গে ওই বিষের অ্যান্টিডোট- অর্থাৎ বিষক্রিয়া কাটানোর ওষুধ নিয়ে।

কিন্তু এতসব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল কী করে - কীভাবে রক্ষা পেলেন খালেদ মেশাল- কী ঘটেছিল মোসাদের গুপ্তচরদের ভাগ্যে- জানতে শুনুন ইতিহাসের সাক্ষী- পরিবেশন করেছেন মানসী বড়ুয়া।