ভারতে বিয়ের জন্য তরুণরাও অপহৃত হন কেন?

ভারতের বিহার রাজ্যে প্রতি বছর বহু তরুণ বা যুবককে অপহরণ করা হয় শুধুমাত্র বিয়ের জন্য| তেমনি একজন রোশান কুমার।

গত বছর তাকে যখন অপহরণ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাধ্য করা হয় - তখন তার বয়স মাত্র সতের বছর।

কিন্তু রোশান সেই মেয়েটির সাথে বসবাস করতে অস্বীকার করে এবং পুলিশের কাছে সেই মেয়ের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।

তিনি বলেন, "আমি যদি বিয়েতে রাজী হই তাহলে আমার জীবন বরবাদ হয়ে যাবে। আমি পড়ালেখা করতে চাই এবং জীবনে ভালো কিছু করতে চাই। তাই আমি বলি যে আমি কখনোই এই বিয়েতে রাজী হবো না।"

"মেয়েটির পরিবার চাইলে আমাকে মেরে ফেলতে পারে কিন্তু তারা আমাকে তাদের মেয়েকে গ্রহণের জন্য জোর করতে পারে না।"

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

রোশান কুমারের বোন প্রিয়াঙ্কা বলছেন, এ ঘটনায় তারা খুবই কষ্ট পেয়েছেন।

"এ বিয়ে কোন ভাবেই হওয়া উচিত নয়। আমাদের পুরো পরিবারই আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলো। এ ধরণের বিয়েতে মেয়েটির জীবনও তো ধ্বংস হয়ে যায়। যদিও এটি পুরোপুরিই তার পরিবারের দোষ"।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত জুড়ে এ ধরনের বিয়ের একটি বড় কারণ বর্ণপ্রথা।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ভারতী কুমারের কথাতেও তেমনটাই উঠে এসেছে।

"সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো উচ্চ বংশ। আমরা একটা ভালো পরিবার থেকে এসেছি, তাই আমরা একটা ভালো পরিবারের ছেলে চাই। সুতরাং এটি একটি ফোর্সড ম্যারেজ বা জোর করে বিয়ে দেয়ার ঘটনা। আর এটা করা হয় ছেলে বা মেয়ে কারও কোন সম্মতি না নিয়েই"।

কিন্তু সব জায়গায় প্রত্যাশিত পাত্র মেলেনা বিহারে। তাই তেমন পরিবারের কাউকে পেয়ে গেলে হয় অপহরণের মতো ঘটনা। বিশেষ করে সমাজের প্রভাবশালী পরিবারগুলোর মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে।

২৯ বছর বয়সী প্রভীন কুমারও সে ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়ে ২০১২ সালে অপহরণের শিকার হওয়ার পর বিয়ে করতে বাধ্য হন। এরপর স্ত্রীকে মেনে নিতে ও তাদের একসঙ্গে বসবাসে তাকে রাজী করাতে সময় লেগেছে তিন বছর।

এখন তারা দু সন্তানের পিতা মাতা। প্রভীন বলছেন, অপহরণের পর সম্ভাব্য বরকে কয়েকটি অপশন দেয়া হয়।

"আমি যদি এই বিয়ে কোনভাবে মেনে না নিতাম - তাহলে এরপর অন্য কোন পরিবারের মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিতে রাজী করানো যেতোনা। প্রাথমিকভাবে আমি খুবই ক্ষুব্ধ ছিলাম। কিন্তু পরে আমার ভাগ্যকে আমি মেনে নিয়েছি। এখন আমি আমার পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে চাই"।

আর যেসব মেয়েদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে এ ধরনের বিয়ে দেয়া হয়, এক পর্যায়ে আসলে তারাও সেটি পরিবার ও সমাজের চাপে মেনে নিতে বাধ্য হন।