আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মসজিদ কি সৌদি আরবে মানুষের জন্যে উপদ্রব আর শিশুদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?
বিশ্বের বেশীরভাগ মুসলমান যে দেশটিকে পবিত্র বলে মনে করে, সেই সৌদি আরবে কি মসজিদের সংখ্যা খুব বেশী?
আর এসব মসজিদ কি মানুষের - বিশেষ করে শিশুদের - উপদ্রবের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?
অন্তত একজন তা মনে করেন, আর তিনি খোদ সৌদি আরবেরই একজন লেখক।
মসজিদ নিয়ে টেলিভিশনে মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন মোহাম্মদ আল-সুহাইমি। তাকে তদন্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, আর নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন গণমাধ্যমে।
মি. আল-সুহাইমি মন্তব্যগুলো করেছেন একটি আরব টেলিভিশন চ্যানেলে, আর এরপর এ নিয়ে দেশটিতে বেশ বড় ধরণের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এক সময়ে সৌদি আরবে অনেক বিষয় নিয়েই খোলামেলা আলোচনার কথা চিন্তাও করা যেতো না। কিন্তু প্রিন্স মোহাম্মদ ক্ষমতাশালী যুবরাজ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর দেশটিতে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে।
তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, ফলে দেখেশুনে মনে হচ্ছে সৌদি আরব কঠোর রক্ষণশীলতা থেকে বেরিয়ে আসছে - বলছেন বিবিসির আরব অ্যাফেয়ার্স এডিটর সেবাস্টিয়ান আশার।
কিন্তু মসজিদের সংখ্যা আর আজান নিয়ে সমালোচনা হয়তো খানিকটা সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে।
মোহাম্মদ আল-সুহাইমি তাঁর উদার মতামতের জন্যে পরিচিত।
তিনি বলেছেন, সৌদি আরবে মসজিদের সংখ্যা এত বেশী যে মনে হয় প্রত্যেক নাগরিকের জন্যেই একটি করে মসজিদ রয়েছে।
তাঁর মতে, মসজিদের সংখ্যা এতো বেশী হওয়ার কারণে তা মানুষের শান্তিভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি এমনও বলেছেন যে আজান মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে আর শিশুদের জন্যে বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অতি উচ্চ শব্দের লাউডস্পিকার ব্যবহার করে নিজেদের জানান দেয়ার যে প্রতিযোগিতা মসজিদগুলোর মধ্যে চলে, তা এর আগেও সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আর সে কারণে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থাও সেখানে রয়েছে।
কিন্তু আল-সুহাইমির মন্তব্য হয়তো তাকে সম্ভাব্য আইনী ঝামেলায় ফেলতে যাচ্ছে।
অনলাইনে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
আজানের সঙ্গে শিশুদের জড়িয়ে নিয়ে তিনি যে কথা বলেছেন, সে ব্যাপারেই মানুষজন বেশী ক্ষুব্ধ বলে মনে হচ্ছে।
অনেকে এমন ভিডিও আপলোড করছেন যাতে দেখা যাচ্ছে শিশুরা নামাজ পড়ছে।
একটি ভিডিওতে এমন চিত্রও দেখা যায় যে একটি শিশু খেলার মাঠে বসেই আজানের ডাকে সাড়া দিচ্ছে।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন: