ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানি কি সম্ভব?

বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ী ভারত থেকে 'বিফ' অর্থাৎ গরুর মাংস আমদানির জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন।

বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সমিতি এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বাজারে গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানি একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।

তিনি জানান, শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, এ ব্যাপারে সরকারও যথেষ্ট উৎসাহী।

কিন্তু বাংলাদেশের সরকার বা ব্যবসায়ীরা চাইলেও ভারত থেকে 'বিফ' বা গরুর মাংস আমদানি করা কি আদৌ সম্ভব?

ভারতের মাংস রপ্তানিকারকদের সমিতির প্রধান ফাওযান আলাভি বিবিসিকে জানিয়েছেন ভারত থেকে রপ্তানি করার মাংসের ১০০ ভাগই মহিষের মাংস, এক গ্রামও গরুর মাংস নয়।

ভারত প্রতি বছর ৭০টির মত দেশে ১০ লাখ টনের মত প্রক্রিয়াজাত মাংস রপ্তানি করে ৪০০ কোটি ডলার আয় করে।

এই মাংসের পুরোটাই মহিষের মাংস, কারণ ভারত থেকে গরু বা গরুর মাংস রপ্তানি নিষিদ্ধ। ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এমনকী মহিষের মাংস রপ্তানিও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে বলে সেদেশের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন।

বিষয়টি তুললে, এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানির কথাই ভাবা হচ্ছে, এবং সেটা সম্ভব।

কিন্তু ভারতের মাংস রপ্তানিকারকদের সমিতির প্রধান ফাওযান আলাভি বলছেন, বাংলাদেশে যদি ভারত থেকে আমদানি করে, সেটা অবশ্যই মহিষের মাংস হবে। "কেউ কেউ এই মাংসকেই বিফ বলে, কিন্তু এটি গরুর মাংস নয়, মহিষের মাংস।"

এ বাদেও, তিনি বলেন, সেই মহিষের মাংসও বাংলাদেশে রপ্তানি সম্ভব নয় যদি না বাংলাদেশ সরকার প্রক্রিয়াজাত মাংসের ওপর আমদানি কর না তোলে।

"বাংলাদেশ মাংসের জন্য বড় বাজার। আমাদের ধারণা বাংলাদেশে প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০০০ টন মাংস রপ্তানি সম্ভব। ভারতের রপ্তানি করা মাংসের পুরোটাই হালাল। কিন্তু বাংলাদেশে যদি তাদের ৪০ শতাংশ আমদানি কর না ওঠায়, তাহলে সেই রপ্তানি একবারেই লাভজনক হবেনা।"

তিনি জানান, সময়ে সময়ে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা খোঁজ-খবর করেন, কিন্তু আমদানি করের কারণে সেই উদ্যোগ আর এগোয় না।

ভারত থেকে গরু পাচার কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ভোক্তারা মহিষের মাংসকে গরুর মাংসের বিকল্প হিসাবে গ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।