নায়ক রাজ্জাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ

বাংলা চলচ্চিত্রের সদ্য প্রয়াত খ্যাতনামা নায়ক আব্দুর রাজ্জাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ। এফডিসিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর তাঁর মরদেহ এখন শহীদ মিনারে রাখা হয়েছে সর্বস্তরের জনসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

শহীদ মিনার থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর বাসার পার্শ্ববর্তী গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

জানাজা শেষে মি. রাজ্জাকের মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে বনানী কবরস্থানে।

'নায়করাজ' নামে পরিচিত এই কিংবদন্তী অভিনেতা সোমবার সন্ধ্যে ৬ টা ১৩ মিনিটে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

শেষবারের মতো এফডিসিতে 'নায়ক রাজ'

আজ সকাল সাড়ে দশটার দিকে এফডিসিকতে নিয়ে যাওয়া হয় নায়ক রাজ্জাকের মরদেহ।

সেখানে চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তাঁর মৃত্যুতে তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি যতটা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন সেটি অনেকটা বিরল।

১৯৬০'র দশক থেকে শুরু করে প্রায় তিন দশক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দাপটের সাথে টিকে ছিলেন নায়ক রাজ্জাক।

সহকর্মীদের চোখে নায়ক রাজ্জাক:

১৯৬৬ সালে বেহুলা ছবিতে লক্ষীন্দরের চরিত্রে নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন রাজ্জাক। সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন আমজাদ হোসেন।

মি: রাজ্জাকের কথা মনে করে আমজাদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন "যে সময়ে রহমান সাহেবের পা ভেঙে গেছে, নায়কের অভাব। ঠিক ওই মুহুর্তে রাজ্জাকের আবির্ভাব ও দর্শকও তাঁকে লুফে নিলো। যার জন্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এগিয়ে গিয়েছিল তাঁর নাম রাজ্জাক"।

"যেমন বম্বেতে দিলিপ কুমার- পশ্চিবঙ্গে উত্তম কুমার, আর ঢাকার চলচ্চিত্র পেয়েছিল নায়ক রাজ্জাককে" বলছিলেন মি: হোসেন।

প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করছেন রাজ্জাক। ২০১৫ সালেও তার অভিনীত একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল।

রাজ্জাকের সাথে এক সময় বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন নায়ক ফারুক। বয়সের বিবেচনায় রাজ্জাক ফারুকের সিনিয়র হলেও চলচ্চিত্রে তারা অনেকটা সমসাময়িক ছিলেন।

বিবিসি বাংলাকে ফারুক বলেছেন, " এ ভাগ্যবান মানুষটি তার জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড কাজে লাগিয়েছেন। তিনি যখন বাংলা সিনেমায় অভিনয় শুরু করলেন তখন উর্দু সিনেমার বেশ চাহিদা ছিল। কিন্তু বাঙালী চাইতো তার মনের কথা চলচ্চিত্রে কেউ বলুক।"