উদ্ধারের পর ফরহাদ মজহারকে ডিবি অফিসে নেয়া হয়েছে

কবি, কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে বাংলাদেশের যশোর জেলার নোয়াপাড়ায় ঢাকাগামী একটি বাস থেকে উদ্ধার করা হয় গতরাতে। উদ্ধারের পর প্রথমে ঢাকার আদাবর থানা ও পরে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বিবিসি বাংলাকে জানান, আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে মি: মজহারকে ঢাকার আদাবর থানায় নিয়ে আসা হয়।

"আমাদেরকে বললো উনার ওষুধ নিয়ে যেতে। ব্লাডপ্রেশারের ওষুধ কাল খেতে পারেননি বলে ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। তাঁকে বেশ ক্লান্ত, বিধ্বস্ত ও ট্রমাটাইজড লাগছিলো"- বলেন ফরিদা আক্তার।

তবে আদাবর থানায় কিছু সময় স্বামীর পাশে বসে থাকলেও কোনো ধরনের কথা হয়নি বলে জানান মিস আক্তার।

"তিনিতো অনেক অসুস্থ। কোনো কথা বলতে পারছেন না। ওখানে ঘন্টাখানেক রাখার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে"-বলেন ফরহাদ মজহারের স্ত্রী।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মি: মজহারের স্ত্রী ও পরিবারের কজন সদস্য ডিবি অফিসেই অপেক্ষা করছিলেন।

ফরহাদ মজহারকে সোমবার ভোর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছিল তার পরিবার।

ঢাকার শ্যামলীর নিজের বাসা থেকে ভোর পাঁচটার দিকে বের হয়ে যান ফরহাদ মজহার।

এরপর তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একাধিকবার মুক্তিপণও দাবি করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মি: মজহারকে উদ্ধারের পর মুক্তিপণ বা অন্য কোনো বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত তাঁর পরিবারকে কিছু জানায়নি বলে জানাচ্ছিলেন ফরিদা আক্তার।

ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর রাত একটার দিকে খুলনায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ বলেন "উদ্ধারের সময় মি. মজহারের কাছে একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে যাতে দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র ছিল।"

তিনি বলেন, "আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বেড়াতে গেলে যেমন প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিয়ে নিই, তার ব্যাগের ভেতর সেসব জিনিস প্রমাণ করে যে তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছেন"।