অগ্নি নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে আসছে অভিযান, সীমিত ক্ষমতা ফায়ার সার্ভিসের

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সানজানা চৌধুরী
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
অগ্নি নিরাপত্তা সনদ নেই এমন ভবন ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে ঢাকায় যৌথ অভিযানে নামার কথা বলেছে বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
ওই অভিযানে অবৈধ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী জেলা জরিমানা করা হবে।
এজন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে বড় কোন দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এমন নানা অভিযান পরিচালনা করে। এর বাইরে অন্য সময় তেমন কঠোর কোন ভূমিকায় তাদের দেখা যায় না।
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের দাবি, তারা শুধু নোটিশ দিয়ে ভবন মালিককে সতর্ক করার ক্ষমতা রাখেন কিন্তু আইন মানতে বাধ্য করার এখতিয়ার তাদের নেই।
গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার গুলশানের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুজন নিহত হন। সেদিন রাতে ভয়াবহ ওই আগুন থেকে বাঁচতে ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ার কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা ৭টায় আগুন লাগার পর তা নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের চার ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল।
শহরটির এতো অভিজাত এলাকার একটি আধুনিক ভবনে এতো বড় ধরণের আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ভবনগুলোর অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে।
এই ঘটনার পরদিন ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভবনটি পরিদর্শনে গিয়ে নিরাপত্তার অনেক ঘাটতি খুঁজে পান।
তারা গণমাধ্যমকে জানান, 'ভবনটির ফায়ার সেফটি প্ল্যান ছিল না। সেফটি প্ল্যান নেওয়ার কথা থাকলেও, নেওয়া হয়নি। ভবনটি অত্যাধুনিক হলেও, এর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা আছে।'

ছবির উৎস, Getty Images
কিভাবে চলবে অভিযান
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাংলাদেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
তবে এ বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি রাজউক ও সিটি কর্পোরেশন দেখভাল করে থাকে।
একেকটি সংস্থার কার্যপরিধি একেক রকম।
এরমধ্যে ফায়ার সার্ভিস মূলত ওই ভবনের ফায়ার সেফটি এবং ভূমিকম্প সহনশীলতার বিষয়টি তদারকি করে থাকে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুই সিটিকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে এই অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে।
এরমধ্যে ঢাকার যেসব ভবনকে অগ্নি নিরাপত্তা এবং ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো আগে পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশ মোতাবেক ওই ভবনগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে।
যেসব ভবন নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও ফায়ার সেফটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেছেন, “নির্ধারিত বিল্ডিং কোড অনুযায়ী যেসব ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা আইন মানা হয়নি, প্রথমে আমরা সেখানে যৌথ অভিযানে যাব। অবৈধ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা কাজ করছি।”
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সারা দেশে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ৫৮৬৯টি ভবন পরিদর্শন করা হয়। এরমধ্যে ১৬০৬টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬১৭টি ভবন অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এরমধ্যে শুধু ঢাকায় সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ১১৬২টি ভবন পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিস ৪৯৯টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৩৬টি ভবন অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। এই সংখ্যা অন্য যেকোনো জেলার চাইতে বেশি।

ছবির উৎস, Getty Images
ফায়ার সেফটি লাইসেন্স কী?
অগ্নি নির্বাপণ আইন অনুযায়ী, ছয় তলা বা তার চেয়ে উঁচু আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করতে গেলে বাধ্যতামূলক ফায়ার সেইফটি লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।
ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ছাড়া কোন ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন বা অনুমোদিত নকশার সংশোধন করা যায় না।
গুলশানের যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে সেটির নকশা পাসের সময় ফায়ার সেইফটি লাইসেন্স বলে কিছু ছিল না।
সে সময় তারা একটি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট-এনওসি নিয়েছে।
কিন্তু পরবর্তীতে ওই ভবনে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন অনুযায়ী ফায়ার সেইফটি প্ল্যান নেওয়ার কথা বলা হলেও সেটা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
মূলত ফায়ার সেইফটি লাইসেন্স নেয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে ২০১০ সালের পরে নির্মিত ভবনগুলোর ক্ষেত্রে। তার আগ পর্যন্ত শুধু এনওসি নিলেই হতো।
ফায়ার সেইফটি লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে মূলত ওই ভবনের অগ্নি প্রতিরোধ, অগ্নি নির্বাপণ ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়।
ভবনটি কতো তলা, এটি আবাসিক, বাণিজ্যিক নাকি গুদাম হিসেবে ব্যবহার হবে সেটি বিবেচনায় ফায়ার ফ্লোর প্ল্যানও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
সাধারণত একটি ভবনের নকশা প্রণয়নের পর ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট-এনওসি নিতে হয়। এরপর নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়।
গত বছর প্রস্তাবিত ও বিদ্যমান মিলিয়ে ১৮৭৯টি বহুতল ভবনকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এখানে প্রস্তাবিত বলতে নকশা অনুমোদনের পর্যায়ে থাকা ভবন এবং বিদ্যমান ভবন বলতে ইতোমধ্যে নির্মিত ভবনকে বোঝানো হয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
কিসের ভিত্তিতে লাইসেন্স দেয়া হয়
অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ বিধিমালা অনুযায়ী, ভবন মালিককে লাইসেন্স সংগ্রহে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করতে হয়। এজন্য আবেদন ফরমের সাথে ওই ভবনের নকশা, ফায়ার সেফটি ফ্লোরপ্ল্যানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করতে বলা হয়েছে।
মহাপরিচালক নকশা ও আবেদন ফরম যাচাই বাছাই করে ভবনটি পরিদর্শনের জন্য একজন কর্মকর্তাকে নিয়োজিত করেন। ওই কর্মকর্তার কাজ হল সরেজমিন পরিদর্শন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়া।
তিনি মূলত, ভবনটির ফায়ার এক্সিট রুট অর্থাৎ আগুন লাগার পর ভবন থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসার সিঁড়ি ঠিক জায়গায় বসানো হয়েছে কিনা, এই এক্সিট রুটের পরিধি ভবনের আয়তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা সেটা খতিয়ে দেখেন।
সাধারণত ভবনের আয়তন যতো বড় হবে সিঁড়ির সংখ্যা ও পরিধিও ততো বেশি থাকতে হয়।
এছাড়া ফায়ার সেফটির যেসব যন্ত্রপাতি দরকার যেমন: ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট, স্প্রিঙ্কলার, হোস রিল, রাইজার, পানি ওপরে তোলার পাইপ, পাম্প, ফায়ার এলার্ম সিস্টেম ইত্যাদি যথাযথ পরিমাণে আছে কিনা এবং সেগুলো মানসম্মত কিনা দেখা হয়।
সাধারণত আবাসিক, বাণিজ্যিক ও গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত ভবন ভেদে এই ইকুইপমেন্টের সংখ্যা বা লোড ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
এসব যথাযথ না হলে নকশায় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন ওই কর্মকর্তা।
সেইসাথে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর আবেদন ফরম ও সংযুক্ত কাগজপত্রে কোন ভুল ত্রুটি বা তথ্যে গড়মিল পেলে বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।
সেই ভুলত্রুটি বা গড়মিল নিরসনের জন্য আবেদনকারীকে তিন দিনের মধ্যে নোটিশ দেন মহাপরিচালক।
সবকিছু ঠিকঠাক করার জন্য আবেদনকারীকে সাত দিনের সময় দেয়া হয়। সেটা চাইলে আরও ১৫ দিন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
আবেদনকারী পরামর্শ মোতাবেক সব নিয়ম পালন করলে এবং লাইসেন্স ফি জমা দিলে মহাপরিচালক লাইসেন্সের ছাড়পত্র দিয়ে থাকেন। আর নিয়ম না মানলে লাইসেন্স নামঞ্জুর করা হয়।
তবে কর্মকর্তার কোন সিদ্ধান্তে ভবন মালিক অসন্তুষ্ট হলে তিনি সিদ্ধান্ত জানার ৩০ দিনের মধ্যে মহাপরিচালকের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে পারবেন এবং সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন। ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে তবে এক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
এদিকে লাইসেন্স করার পর সেটি নিয়মিত নবায়নের কথাও আইনে বলা আছে। লাইসেন্স যে তারিখেই ইস্যু করা হোক না কেন সেটি ওই অর্থ বছরের ৩০শে জুন পর্যন্ত বহাল থাকে।
এজন্য পরবর্তী অর্থ বছর শুরুর আগেই লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। না হলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যেতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images
লাইসেন্স নেয়ার পরও দুর্ঘটনা
সেফটি লাইসেন্স নেয়ার পরও এর শর্তগুলো বাস্তবায়ন না করার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
সেক্ষেত্রে ভবন মালিক বা মালিকগণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে বলে তিনি জানান।
আবার এই লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান মি. চৌধুরী।
তিনি বলেন, “আমাদের কোন কর্মকর্তার গাফেলতি থাকলে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই। গুলশানের ওই ভবনটিতে আগুন লাগার বিষয়টি তদন্ত করার সময় ভবনটি পরিদর্শনের দায়িত্বে যিনি ছিলেন তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। আমরা তাকে প্রশ্ন করেছি তিনি পরিদর্শনে গিয়েছেন কিনা, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা নিতে তিনি নোটিশ দিয়েছেন কিনা। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস শুধু নোটিশ দিতে পারে। কাউকে জোর করার এখতিয়ার আমাদের নেই।”
তিনি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও প্রচলিত অগ্নি নির্বাপন আইনে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোন বিধান দেখা যায়নি।
বরং আইনে বলা হয়েছে, “এই আইন বা বিধির অধীনে সরল বিশ্বাসে কাজের ফলে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেজন্য ব্রিগেড বা অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা অন্য কোন সংস্থার বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলা বা, অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না৷”

ছবির উৎস, Getty Images
আইন কতোটা কঠোর
অগ্নি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এখনও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পুরানো ঢাকাকে ধরা হয়। সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগুন লাগার মূল কারণ অবৈধ কেমিকেলের মজুদ।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, “আমাদের কাজ অগ্নি নির্বাপণ করা, কারখানা সরানোর কাজ আমার নয়। নিমতলী ও চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পর ওই এলাকায় এমন কোন দোকানের লাইসেন্স দিচ্ছি না। এখন যা আছে, সেগুলো অবৈধভাবে চলছে।”
এ ধরণের অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ করে রানা প্লাজা ধসের পর ফায়ার আইন শাস্তি ও জরিমানা বেশ কঠোর করা হয়।
আইনানুযায়ী কোন ব্যক্তি লাইসেন্সের কোন শর্ত পালন করতে ব্যর্থ হলে তাকে অন্যূন ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানি হয়, তাহলে ওই কোম্পানির প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা এজেন্ট বিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে ধরা হবে। যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে, ওই লঙ্ঘন তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে অথবা লঙ্ঘন রোধ করার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন৷
যদি কোন ব্যক্তি এই আইন বা নির্ধারিত বিধান লঙ্ঘন করে কোন ভবন বা স্থানে দাহ্য-বস্তু সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংকোচন বা বাছাই করেন, তাহলে তিনি অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন এবং ওইসব দাহ্য-বস্তু সরকার বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।
যদি কোন ব্যক্তি লাইসেন্সপ্রাপ্ত না হয়ে কোন ভবন বা স্থানকে মালগুদাম বা কারখানা হিসাবে ব্যবহার করেন, তাহলে তিনি অন্যূন তিন বছরের কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন এবং ওই ভবন বা স্থানের যাবতীয় মালামাল বাজেয়াপ্ত করা যাবে।
আবার কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ করেন বা করতে বিরত থাকেন যা এই আইনের কোন বিধান বা বিধানের অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশ অমান্য করার সামিল কিন্তু এজন্য এই আইনে কোন স্বতন্ত্র দণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়নি, তাহলে তিনি অন্যূন এক বছরের কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন৷

ছবির উৎস, Getty Images
দুর্ঘটনার পরপরই অভিযান, বাকি সময়..
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৪ হাজার ১০২টি অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৮৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৭৭ জন। এর বাইরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৩০ জন।
এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৪২ কোটি টাকা।
এই বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগুন প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধের ওপরেই সর্বোচ্চ জোর দিয়ে আসছে ফায়ার সার্ভিস।
তবে, অভিযোগ রয়েছে বড় কোন দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এমন নানা অভিযান পরিচালনা করে। এর বাইরে অন্য সময় তেমন কঠোর কোন ভূমিকায় তাদের দেখা যায় না।
এদিকে আগুন লাগার প্রধান তিন কারণ হল বৈদ্যুতিক গোলযোগ, বিড়ি সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা এবং বিভিন্ন ধরণের চুলাকে চিহ্নিত করেছে।
ফায়ার সার্ভিসে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হলেও আরও কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
সংস্থাটির দেয়া তথ্য মতে, সারাদেশে অগ্নি নির্বাপনী ও উদ্ধার সরঞ্জাম, গাড়ি সব মিলিয়ে ৪৩৯৪টি ইকুইপমেন্ট আছে। তবে বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি রয়েছে ঢাকার ফায়ার স্টেশনে।
বাংলাদেশে ৪৯২টি ফায়ার স্টেশনের মধ্যে ১১২টি রয়েছে ঢাকায়।











