আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আবারও মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব প্রস্তুতি থাকলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তার বিদেশযাত্রার বিষয়টি।
বিএনপি চেয়ারপার্সনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কদিন ধরেই আলোচনায়। কখনো তার শারীরিক অবস্থা, আবার কখনো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসতে বিলম্ব–– এমন নানা কারণ বলা হচ্ছে তার বিদেশযাত্রার প্রশ্নে।
শুক্রবার বিকেলে খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নেওয়া এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আবারও কথা বলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন এখন যে শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন তাতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিমানে ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এটিই চিকিৎসকদের মূল চিন্তার বিষয়।
অবশ্য তাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার একবার গ্রিন সিগনাল দিয়েছিল মেডিকেল বোর্ড। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যেই তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন মি. হোসেন।
তবে শনিবার তিনি বলছেন, বিমান ভ্রমণের সময় হাই-অলটিটিউডে যে শারীরিক ধকল সহ্য করতে হয় সেদি মানিয়ে নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার শরীর এখনো প্রস্তত কি না চিকিৎসকরা সেটি বিবেচনায় রাখছেন।
"তার শারীরিক অবস্থাই বলে দেবে কখন বা কবে তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হবে। তার শারীরিক অবস্থাকেই মেডিকেল বোর্ড সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে," বলেও জানান তিনি।
এদিকে কাতার বা অন্য কোনো দেশ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার বিষয়ে মি. হোসেন বলেন, কাতার থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স না আসাতে তার বিদেশ যাওয়া বিলম্ব হয়েছে। তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মূল বিষয় নয়, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
"সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেক গুজব শোনা যাচ্ছে," উল্লেখ করে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করারও আহ্বান জানান তিনি।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
গত ২৩শে নভেম্বর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পর ওইদিন থেকেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন খালেদা জিয়া। ২৭শে নভেম্বর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নেওয়া হয়।
এরপর থেকেই তার চিকিৎসায় দেশ ও বিদেশের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে। বাংলাদেশে এসে তার চিকিৎসক টিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন লন্ডন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক।
এমনকি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানও।
উল্লেখ্য, বহু বছর ধরেই খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনো শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।
এরপর ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনো তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিলো।
এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।
আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৮ সালের আটই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো আদালত, তারপর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুর্নীতির আরেকটি মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন।
২০২৪ সালে অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছয়ই অগাস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।
পরে ফিরে আসার পরেও ঢাকায় আরও কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে মিসেস জিয়াকে।
সবশেষ ২১শে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যান ও তার শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়ে ওঠে বলে জানা যায়।
এ অবস্থায় গত ২৩শে নভেম্বর তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায় যে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।