আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০
ভারতের আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার স্থান থেকে ২৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির চিকিৎসকদের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে এ তথ্য।
বৃহস্পতিবার লন্ডনগামী বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে ২৪২ জন আরোহীর মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক ছাড়া বাকি সবাই নিহত হন।
আরোহীদের মধ্যে যাত্রী ছিলেন ২৩০ জন, ১২ জন ছিলেন বিমানের ক্রু।
ভূমিতে থাকা কতজন নিহত হয়েছেন তা বের করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ মেলানোর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।
আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ার ৬০ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে, বিমানটি স্থানীয় একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে।
বিজে মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড সিভিল হসপিটালের ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হতো ভবনটি।
এই হাসপাতালেই তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নেওয়া হয়।
শনিবার, কলেজের জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. ধাবল গামেতি নিশ্চিত করেন যে হাসপাতালে ২৭০ জন নিহতের মরদেহ এসেছে।
এদের মধ্যেই ফ্লাইট এআই১৭১ এর নিহত ২৪১ আরোহীর সবাই রয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা।
বাকি মরদেহগুলো মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের।
স্বজনদের দেওয়া ডিএনএ নমুনা ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত ৩০টির বেশি মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।
যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় ও ৫৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।
নানা আনুষ্ঠানিকতায় নিহতদের স্মরণ করা হচ্ছে দেশ দুটিতে।
রোববার লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে শ' খানেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন তারা।
একজন কমিউনিটি লিডার বলছিলেন, যারা প্রিয়জনদের দেহাবশেষ শনাক্ত করতে ভারতে গেছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা।
হাইকমিশনের সমবেতদের অনেকেরই প্রশ্ন, এমন ঘটনা কীভাবে এবং কেন ঘটলো, বলছিলেন ওই কমিউনিটি লিডার।
ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর নেতৃত্বে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মার্কিন ও ব্রিটিশ তদন্তকারীদের দুটি দলও কাজ করছে।
শুক্রবার, দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিমানের একটি ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার করা হয়েছে। এটি দুর্ঘটনার "তদন্তে বিশেষভাবে সহায়তা করবে," বলছিলেন ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু কিঞ্জারাপু।
প্লেনে সাধারণত দুটি ব্ল্যাক বক্স থাকে।
এটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী ইলেকট্রনিক ডেটা রেকর্ডার। একটি ককপিট থেকে শব্দ রেকর্ড করে, যাতে তদন্তকারীরা পাইলটরা কী বলছেন তা শুনতে পান। রেকর্ড হওয়া যে কোনো অস্বাভাবিক শব্দও শুনতে পারেন।
অন্যটি উচ্চতা এবং গতির মতো ফ্লাইট ডেটা রেকর্ড করতে পারে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট ফ্লাইট রেডার টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুসারে, বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিমানটির বয়স ছিল ১১ বছর। এর যাত্রী ধারণক্ষমতা ২৫৬ জন।
এটি দিয়ে গত দুই বছরে গুজরাতের আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক পর্যন্ত ২৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা ডিজিসিএ'র তথ্য, বিমানটির পাইলট "ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল একজন এলটিসি ছিলেন। তার ৮২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। কো-পাইলটের ১১০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল।"
এলটিসির অর্থ হল লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন, অর্থাৎ তিনি অন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিতেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার সকালে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এরপর তিনি আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে যান এবং দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গে দেখা করেন।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া ওই এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীদের মধ্যে একমাত্র জীবিত ব্যক্তি বিশোয়াস কুমার রমেশের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
পাশাপাশি তিনি লোকালয়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে যারা জখম হয়েছেন, তাদের সঙ্গেও দেখা করেন।
এছাড়া, এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনও সেদিন ঘটনাস্থলে যান।
এয়ার ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত বোয়িং বিমানটির ডানাতে কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে জানিয়েছেন।
বিবিসি ভেরিফাই একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, বিমানটি নেমে আসছে এবং মাটি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ ঘটছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ জেফরি টমাস বলছেন, "আমি যখন এই ভিডিওটি দেখছি, তাতে বিমানের চাকা সহ নিচের দিক, অর্থাৎ আন্ডারক্যারেজটা তখনও নামানো অথচ ডানার ফ্ল্যাপ গুটিয়ে ছিল।"
বিমানের ডানায় যে ফ্ল্যাপ থাকে, সেগুলো খুলে বা বন্ধ করে আকাশে ওড়া বা মাটিতে নামার সময় বিমানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
মি. টমাসের কথায়, ডানা আর ফ্ল্যাপগুলো একই সমতলে ছিল। আকাশে ওড়ার পরে ওই সামান্য সময়ের মধ্যে এরকমটা খুবই অস্বাভাবিক।