'টাইম বোমায় ভাসছে ঢাকা'

ছবির উৎস, BBC Bangla
টাইম বোমায় ভাসছে ঢাকা - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম। বলা হচ্ছে পুরান ঢাকার নিমতলী থেকে বেইলি রোড। ট্র্যাজেডি আসে, ট্র্যাজেডি যায়। মৃত্যু আর আহাজারিতে ভারী হয় ঢাকার বাতাস। এসব দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির মূলে রয়েছে নগরের বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা।
মানুষের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে শহরে গড়ে উঠছে বড় বড় অট্টালিকা।এসব ভবন হয়ে উঠেছে অনেকটা টাইম বোম। কোনো কোনো ভবনের নিচে বা উপরে আছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য যা যা করার দরকার তাই করি। রাজউক, সিটি করপোরেশন, তিতাস যে যার যার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করলে আর আমরা সচেতন হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে পারি।
রাজধানীর ৯০ শতাংশ ভবন অগ্নিঝুঁকিতে – দৈনিক সংবাদের প্রধান শিরোনাম এটি। বলা হচ্ছে নিমতলী, চূড়িহাট্টা, এফআর টাওয়ার, আরমানিটোলা, নিউমার্কেট, মগবাজার বিস্ফোরণ, গুলিস্তান ট্র্যাজেডিসহ একের পর এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে রাজধানীতে। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে রাজধানীর বেইলি রোড ট্র্যাজেডি।
এসব প্রতিটি ট্র্যাজেডির পরেই সংশ্লিষ্ট সবারই উচ্চকণ্ঠে শোনা গেছে ঝুঁকিমুক্ত শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় কতবার তারা চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিল ভবন মালিককে। কিন্তু চিঠি দেয়ার পরেও কেন অগ্নিঝুঁকিমুক্ত করা গেল না ভবনটিকে সেই প্রশ্নের উত্তর যেন কারো কাছেই নেই।
ফায়ার সার্ভিসের চালানো একটি সমীক্ষা বলছে, রাজধানীর ৯০ শতাংশ ভবন অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২৩ শতাংশ ভবন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতিটি ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি রয়েছে।

ছবির উৎস, BBC Bangla
৪৪ লাশ হস্তান্তর, চারজন রিমান্ডে – বেইলি রোডে আগুনের ঘটনা নিয়ে কালের কন্ঠের শিরোনাম। এখানে বলা হচ্ছে রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে গত বৃহস্পতিবার রাতে আগুন লাগার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে আরো চারজনের লাশ গতকাল শনিবার হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে থাকা এসব মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৪৪টি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো। বাকি দুটি লাশ মর্গে রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ভবন মালিকের ব্যবস্থাপক হামিমুল হক বিপুলকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ধানমণ্ডি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা হলেও ব্যবস্থা নেই – ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। এতে বলা হয় অধিকাংশ হাসপাতাল, মার্কেট, শপিং মল, বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দুর্বল, নোটিশ দিয়ে দায় সারছে কর্তৃপক্ষ।
রাজউকের মতে, রাজধানীর ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমোদনহীন। এসব দেখভালে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থাকলেও তারা কাজ করেন নামকাওয়াস্তে। নগরীতে বড় বড় ভবনে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলো রয়েছে। কিন্তু সেখানে কোন ফায়ার ফাইটিংয়ের ব্যবস্থা নেই। সেখানে আগুন লাগলে বেইলি রোডের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
আবার রাজধানীর কোনো কোনো বহুতল ভবন মার্কেটের প্রবেশপথে কিংবা আন্ডারগ্রাউন্ডে নানা দোকানপাট বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ও ময়লা-আবর্জনা। যেখানে গাড়ি রাখা হবে, সেখানেও দোকানপাট দিয়ে রেখেছে। এমন চিত্র রাজধানীর অধিকাংশ মার্কেটে। নামা ও ওঠার সিঁড়ির জায়গা কম। অগ্নিকান্ড ঘটলে পদদলিত হয়ে মারা যাবে মানুষ।

ছবির উৎস, BBC Bangla
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
অনেকটা একই রকম একটা প্রশ্ন তুলেছে ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন। তাদের প্রধান শিরোনাম – Why are buildings not closed after fire safety warnings? এখানে বলা হয়, আগুন লাগার পর বেইলি রোডের এই ভবনের তদন্তের বেরিয়ে আসছে, ফায়ার সার্ভিস থেকে নোটিশ পাবার পরও কোন অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা ছাড়াই রাজউকের অনুমতি নিয়ে এখানে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল রেস্টুরেন্টগুলো। গত সেপ্টেম্বরে নোটিশ পেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এর আগে বঙ্গবাজার মার্কেটের নিরাপত্তা নিয়েও নোটিশ দিয়ে ব্যানার টাঙালেও কোন লাভ হয়নি।
ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক বলেন, আমরা শুধু ভবন পরিদর্শন করে নোটিশ দিতে পারি, রাজউককেও এ ব্যাপারে জানানো যায় ও সিটি কর্পোরেশনকে আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে বলতে পারি, কিন্তু ফায়ার সার্ভিস সরাসরি কোন পদক্ষেপ নিতে পারে না।
মানুষ মরলো নাকি বাঁচল, কারও ভ্রুক্ষেপ নেই – বিআইপির পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রথম আলোর শিরোনাম। বলা হয় নগর-পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) মনে করে, রাজধানীর বেইলি রোডের ভবনটিতে যে ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে, তা আসলে গাফিলতিজনিত হত্যাকাণ্ড।
অগ্নিকাণ্ডে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ ভবনমালিকদের অতি মুনাফার লোভ। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি, উদাসীনতা, দায়িত্বহীন এবং অন্যায় আচরণও এ ধরনের ‘হত্যাকাণ্ডের’ জন্য দায়ী।
বিআইপি বলেছে, নগর-পরিকল্পনা, ভবনের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা, ভবনের ব্যবহার, ভবনের অগ্নি প্রতিরক্ষা, ফায়ার ড্রিল, ভবনমালিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ এবং নগর সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি থাকলে বেইলি রোডের অগ্নিদুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

ছবির উৎস, BBC Bangla
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা চলবে – বণিক বার্তার শিরোনাম। বলা হচ্ছে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ের করা মামলা চলবে বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক আদালত। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত এখতিয়ার না থাকায় আরও চার আসামিকে মামলা থেকে খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট এ রায় দেন।
রায়ে নিউইয়র্ক রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, তিনটি ‘কজ অব অ্যাকশনের’ আইনি ভিত্তি নেই। আরসিবিসি ব্যাংক ও সব বিবাদীর বিরুদ্ধে অর্থ রূপান্তর, চুরি, আত্মসাৎ—এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা বা প্ররোচনা, জালিয়াতি (আরসিবিসির বিরুদ্ধে), জালিয়াতিতে সহায়তা বা প্ররোচনা—এসব অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে।
তবে নিউইয়র্কের আদালত জানিয়েছেন, আরসিবিসি ও অন্যান্য আসামির বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগে মামলা চলতে পারে, যেমন যে অর্থ আরসিবিসিতে গেছে, তা ফেরত দেয়া। এ বিষয়ে আরসিবিসি জানিয়েছে, আদালতের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা, তা ভেবে দেখা হচ্ছে।
Import dipped $21b in 2023. With what impact? দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের শিরোনামে বলা হচ্ছে ডলার সঙ্কট রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানান নীতিমালার কারণে গত বছর আমদানির পরিমাণ কমে যায় প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার, ফলে বিনিয়োগও কমে গিয়েছে যার প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে গত বছরের শেষ নাগাদ হিসেবে দেখা যায় আগের বছরের তুলনায় ২৪.৩২% আমদানি কমে গিয়েছে। যার মধ্যে প্রধান আমদানি পণ্য হল শিল্প কারখানার কাঁচামাল।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, BBC Bangla
ইফতারে খরচ বাড়ছে ৪০% - দৈনিক দেশ রুপান্তরের প্রধান শিরোনাম। বিস্তারিত হল, রোজাদারদের একটু স্বস্তি দিতে কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে সরকার শুল্ক-ভ্যাটে ছাড় দিলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি; বরং এবার রোজার আগে থেকেই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার শুধু রোজায় ইফতার সারতেই ব্যয় বেড়ে যাবে অন্তত ৪০ শতাংশ।
সারা বিশ্বে রোজায় মুসল্লিরা খাবারের পেছনে একটু বেশিই ব্যয় করেন। গবেষণা বলছে, সারা বছরে মুসল্লিরা খাবারের পেছনে যে ব্যয় করেন, এর ১৫ শতাংশই যায় রোজার মাসে। তবে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় এবার দেশে খাবারের দাম আরও বেশি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই সব খাবারের দাম বেড়েছে। রোজায় আনুষঙ্গিক অনেক পণ্যের দামই দুই বছরের ব্যবধানে ৫০ থেকে শতভাগ কিংবা তারও বেশি বেড়েছে।
শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে যুক্ত হচ্ছে ‘পরীক্ষা’ – আজকের পত্রিকার খবর। শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের দাবির মুখে নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সামষ্টিক মূল্যায়নে যুক্ত করা হচ্ছে ‘লিখিত পরীক্ষা’।
এতে একটি নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষায় বসবে শিক্ষার্থীরা। তবে এই পরীক্ষা প্রচলিত পরীক্ষার মতো হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে সামষ্টিক মূল্যায়ণে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করার পাশাপাশি ‘নৈপূণ্য’ অ্যাপের মাধ্যমে তৈরি রিপোর্ট কার্ডের ভাষা ও মাঠপর্যায়ে পাঠানো নির্দেশনাগুলো আরও সহজ করা হবে যাতে তা সবার কাছে বোধগম্য হয়।

ছবির উৎস, BBC Bangla
দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে আ’লীগ – নয়া দিগন্তের শিরোনাম এটি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা কোনোভাবেই থামছে না। কয়েক দিন বাদেই পবিত্র রমজান শুরু হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা বললেও শেষতক কোথায় গিয়ে ঠেকে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা সংশয় রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক প্রকার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।
সরকারের শীর্ষ মহল থেকে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজার নিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
Bangladesh remains a transit hotspot – ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ডে ঘিরে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের শিরোনাম।
এতে বলা হয়, বিভিন্ন সময় নিয়মিতভাবেই দুষ্প্রাপ্য ও বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন সব প্রাণী দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ধরা পড়ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। যার মানে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্রায়ই এসব প্রাণী পাচারের উদ্দ্যেশে বাংলাদেশে ঢুকছে, মূলত এখান থেকে ট্রানজিট নিয়ে ভারত ও অন্যান্য দেশে প্রাণীগুলো পাচার করা হয়।








