জামায়াত-স্বতন্ত্রসহ অনেকের প্রার্থিতা বাতিল, ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন?

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রিটার্নিং অফিসে বিভিন্ন দলের কর্মী সমর্থকদের ভিড়
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের রিটার্নিং অফিসে বিভিন্ন দলের কর্মী সমর্থকদের ভিড়
    • Author, মুকিমুল আহসান
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে সব প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। যাচাই বাছাইয়ে জামায়াতের শীর্ষ একজন নেতাসহ বেশ কয়েকজন নেতার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

কোথাও আবার আবার শর্তের বরখেলাপের পরও বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি।

এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিএনপির বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ অনেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এমন অবস্থায় নির্বাচন কমিশন 'বিএনপি'র দিকে ঝুঁকছে বলেও অভিযোগ করেছে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের কেউ কেউ।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে কোনো একটা দলের দিকে তারা ঝুঁকে আছেন। বড় অভিযোগ থাকার পরও বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হচ্ছে। আবার সামান্য ভুলেও অন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে"।

সোমবার ঢাকার ২০টি আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য, লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতা, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা ঋণ খেলাপি হলে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

মনোনয়ন বাতিল নিয়ে প্রার্থী ও দলগুলোর এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের কাছে।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, আইনের বাইরে কোথাও কারো মনোনয়ন বাতিল করার সুযোগ নাই।

তখন এই নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় গাইবান্ধার একটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষক, তাই তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্য আসনেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাহলে গাইবান্ধায় কেন ভিন্ন আইন?

জবাবে নির্বাচন কমিশনার মি. সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অংশ নিতে পারবেন নির্বাচনে। যাদেরটা বাতিল হয়েছে, ফিরে পাবে তাদের প্রার্থিতা"।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা সোমবার থেকে আপিল করতে পারবেন নির্বাচন কমিশনে।

এ নিয়ে আরো পড়তে পারেন
রিটার্নিং কর্মকর্তারা কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে
ছবির ক্যাপশান, রিটার্নিং কর্মকর্তারা কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে

মনোনয়ন বাতিল হয় যে সব কারণে

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।

গত ৩০শে জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শুরু করেন ৬৮টি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার সময় হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়াসহ বেশ কিছু কারণে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করার বিধান রয়েছে।

এর মধ্যে- কোনো প্রার্থী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি হলে এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে তা পরিশোধ না করলে মনোনয়ন বাতিল হয়।

সরকারি টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানি বিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পূর্বদিন পর্যন্ত বকেয়া থাকলে প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হন। একই সাথে ক্রেডিট কার্ডের বিল বাকি থাকলেও বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা।

আইনে বলা আছে, কোন ব্যক্তি যদি তার হলফনামায় তার সম্পদ বা আয়ের তথ্য গোপন করে বা ভুল তথ্য দিয়ে থাকে তাহলে তার মনোনয়নপত্রও বাতিল হতে পারে।

নৈতিক স্খলনজনিত কারণে অন্তত ২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তি পাওয়ার পর ৫ বছর অতিবাহিত না হলে তার প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারে ইসি।

এছাড়া আদালত ঘোষিত পলাতক ঘোষিত হলে কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত হলে বা চার্জশিটভুক্ত আসামি হলে তার মনোনয়নও বাতিল হবে।

এছাড়া সরকারের লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে, বিদেশি এনজিওর নির্বাহী পদে কর্মরত থাকলে, দ্বৈত নাগরিক হলে তিনটির বেশি আসনে প্রার্থী হলে কিংবা দলীয় মনোনয়ন সঠিক কাগজ না থাকলে প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করার নিয়ম রয়েছে।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। এতে কোনো গরমিল বা ভুয়া স্বাক্ষর ধরা পড়লে মনোনয়ন বাতিল হয়।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমাদের নির্দেশনা আছে কোনভাবে আইনের বাইরে কারো মনোনয়ন বাতিল করা যাবে না। যদি প্রমাণিত হয় আইনের বাইরে কারো মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ইসি"।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এবার তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত জটিলতায় তার প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়।

জামায়াত-এনসিপিসহ ইসলামী দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMANAFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জামায়াত-এনসিপিসহ ইসলামী দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে

জামায়াত-এনসিপির অভিযোগ কেন?

গাইবান্ধা-১ আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মাজেদুর রহমান। তিনি একটি এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষক। শুক্রবার মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের সময় মি. রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তিনি জানান, শিক্ষকতা পেশায় জড়িত থাকায় জামায়াতের ওই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

জামায়াতের যুক্তি হচ্ছে, এমপিওভুক্ত স্কুলের কলেজের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এর আগেও এই পদে থেকে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এবার ইচ্ছাকৃতভাবে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবিসি বাংলাকে বলেন, "দেশের অন্য জায়গায় এমপিওভুক্ত অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। আইনেও কোন বাধা নেই। তারপরও গাইবান্ধায় আমাদের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে"।

এ বিষয়ে আইনের একই ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনেও দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান লাভজনক না। তার নিয়োগকর্তাও সরকার না। সুতারং এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচন করতে পারবে। তাদেরটা বাতিল হয়ে থাকলে তারা মনোনয়ন ফিরে পাবে"।

তাহলে এটি রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ? জবাবে এই কমিশনার বলেন, "আমি দেখলাম একই কারণে নাটোরের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ। কিন্তু গাইবান্ধায় বাতিল হলো। কেউ যদি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে বাতিল করে থাকে, সেটি আমরা খতিয়ে দেখবো"।

শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কুমিল্লার বিভিন্ন আসনে।

এই শুনানির সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ জেলা প্রশাসককে বিএনপি প্রার্থীর মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। একই সাথে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগও তোলেন।

তবে, তার এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে জেলা প্রশাসক বিএনপি প্রার্থী মি. মুন্সির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।

যে কারণে সেখান থেকে বেরিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন, "আমাদের মনে হচ্ছে প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে গেছে। প্রশাসনের যে দ্বিচারিতামূলক আচরণ এমন অবস্থায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কতটুকু হতে পারে সেটি নিয়ে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি"।

কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে ২০১৩ সালের মামলা সংক্রান্ত একটি তথ্যের কারণে।

মি. আযাদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ওনারা পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেছে সেটা প্রমাণিত। ২০১৩ সালের সেই মামলার পর আমি ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখন এই সময়ে এসে সেই মামলার ইস্যু নিয়ে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলো। এই ধরনের প্রশাসন তো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে"।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইসির নির্দেশনা মানছে না রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যার ফলে এইসব বিষয় নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠছে।

নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল ছোটখাটো ভুলের জন্য যেন মনোনয়ন বাতিল করা না। এখানে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাঝে হয়তো কোন একটা দূরত্ব আছে। তা না হলে এমন তো হওয়ার কথা না"।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর
শনিবার প্রার্থিতা বাতিলের পর, ইসিতে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন তাসনিম জারা

ছবির উৎস, Dr. Tasnim Jara/Facebook

ছবির ক্যাপশান, শনিবার প্রার্থিতা বাতিলের পর, ইসিতে আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন তাসনিম জারা

বিপাকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

গত কয়েকদিনে সারাদেশের যে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তাদের বড় একটা অংশই হচ্ছে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থী।

গত মাসের শেষ দিকে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, আলোচিত নারী প্রার্থী তাসনিম জারা।

শনিবার ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তা বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

মিজ জারা তার প্রার্থিতা বাতিলের পর নিজের ভেরিফাইড পেইজে জানান, বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়নি। যে কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করবেন তিনি। এরই মধ্যে আপিলের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ওই আসনের মোট ভোটারের এক শতাংশ ভোটের স্বাক্ষরসহ তথ্য ইসিতে জমা দিতে হয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ৩০শে ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শুরু করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ঋণখেলাপি, দ্বৈত ভোটারসহ সারাদেশে যে সব কারণে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তার বড় একটি অংশ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

তাদের অনেকের ভোটারের স্বাক্ষরের গড়মিলের কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এসব প্রার্থীদের কেউ কেউ বিএনপি থেকে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, অতীতে কেউ সংসদ সদস্য থাকলে তার ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন প্রয়োজন হয় নি। যে কারণে বিএনপি কিংবা অন্য দলের যারা বিগত সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন তাদের অনেকে এবার স্বতন্ত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সংকটে পড়তে হয়নি।

নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বিবিসি বাংলাকে বলেন, "ইন্টেনশনালি যদি কারো মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে থাকে। সেটি নির্বাচন কমিশনে যখন আপিল করবে তখন ইসির এই বিষয়গুলো নিয়ে দেখা উচিত। নিকট অতীতে আমরা বিভিন্ন নির্বাচনের ক্ষেত্রে এগুলো দেখেছি। তবে এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেই মনে করি"।

এই প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনও বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, "যে মনোনয়নগুলো ছোটখাটো ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে সেগুলো আমাদের কাছে আসলে আমরা আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবো"।