ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ও কংগ্রেস ভবনে কট্টর ডানপন্থীদের হামলা

ছবির উৎস, Getty Images
ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর সমর্থকরা দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এবং কংগ্রেসে হামলা চালিয়েছে। রোববার এ হামলার পর বর্তমানে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ আবার প্রতিষ্ঠিত করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
দেশটির রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সুপ্রিম কোর্টেও হামলা চালায় কট্টর ডানপন্থী সমর্থকরা। তারা প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসও ঘিরে রাখে। সেসময় তারা ব্রাজিলের পতাকা গায়ে জড়িয়ে ছিল। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারো গত অক্টোবরে বামপন্থী প্রার্থী লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভার কাছে নির্বাচনে হেরে যান।
তবে তার সমর্থকরা তার এই হার মেনে নিতে অসম্মতি জানায় এবং তারা সামরিক উত্থানের আহ্বান জানিয়ে লুলার পদত্যাগ দাবি করে।
লুলা বর্তমানে ব্রাজিলের আরেক প্রদেশ সাও পাওলোতে দাপ্তরিক ভ্রমণে রয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের “ধর্মান্ধ ফ্যাসিস্ট” বলে উল্লেখ করেন এবং তাদের শাস্তি দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেছেন।
এদিকে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অ্যালেহান্দ্রে ডি মোরেস ব্রাজিলিয়ার গভর্নর ইবানিস রোচাকে তার পদ থেকে ৯০ দিনের জন্য সরিয়ে নিয়েছেন বলে সিএনএন ব্রাজিল তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর হাজার হাজার সমর্থক দেশটির কংগ্রেস, প্লানাল্তো প্যালেস এবং সুপ্রিম কোর্টে হামলা চালানোর পর বিচারপতি অ্যালেহান্দ্রে ডি মোরেসের এই সিদ্ধান্ত এলো।

ছবির উৎস, Getty Images
আদালতের এই সিদ্ধান্ত আসে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এবং সিনেটর র্যানডলফ রদ্রিগেজের অনুরোধের প্রেক্ষিতে।
মোরেস বলেন যে, রোববারের ঘটনার সময় ইবানিসের ভূমিকা ছিল “বেদনাদায়ক নীরব।”
এর আগে রোচা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেন যেখানে তিনি দাঙ্গা রুখতে না পারার কারণে ক্ষমা চান।
তিনি বলেন, “আজ শহরে যা ঘটেছে তার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।”
“আজ এই শহরে যা হয়েছে তা অগ্রহনযোগ্য।”
কন্টেন্ট মুছে ফেলছে মেটা
মেটা বলেছে যে, তারা ব্রাজিলের কংগ্রেসে হামলার ঘটনাকে “সহিংসতার ঘটনা” বলে চিহ্নিত করেছে এবং এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সব কন্টেন্ট সরিয়ে নিতে বা ব্লক করতে শুরু করেছে।
মেটার একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছে যে, “মানুষকে অস্ত্র কিংবা খালি হাতেই কংগ্রেস, প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস কিংবা সরকারি ভবনে হামলা চালানোর আহ্বান সংক্রান্ত” পোস্ট তারা তাৎক্ষনিকভাবে সরিয়ে ফেলছে।
মেটার মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ।

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি বলেন, “আমরা এই ঘটনাকে সহিংস ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করছি, তার মানে হচ্ছে এই ঘটনাকে সমর্থন বা প্রশংসা করবে এমন সব কন্টেন্টও সরিয়ে ফেলা হবে।”
“আমরা সক্রিয়ভাবে এই ঘটনার উপর নজর রাখছি এবং আমাদের নীতি বিরোধি সব কন্টেন্ট আমরা সরিয়ে ফেলা অব্যাহত রাখবো।”
এর আগে মেটা এ ধরণের আরো ঘটনাকে সহিংস হিসেবে চিহ্নিত করেছে যেমন গত বছরের ৬ই জানুয়ারির যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনা। এই নীতির আওতায় কোম্পানীটি ক্ষতিকর কন্টেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।
বামপন্থীদের র্যালি সোমবার
রোববার কংগ্রেসে ডানপন্থীদের হামলার প্রতিবাদে সোমবার বামপন্থী দলগুলো গণতন্ত্রপন্থী র্যালির ঘোষণা দিয়েছে। তারা দেশটির সবচেয়ে বেশি জনবসতিপূর্ণ শহর সাও পাওলোর বাসিন্দাদের এই র্যালিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সন্ধা ছয়টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র পাওলিস্তা এভিনিউয়ে এই র্যালি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ছবির উৎস, Getty Images
টুইটারে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট লুলার ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের ভাষায় বর্ণিত “সন্ত্রাসী কার্যক্রমের” বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই র্যালিতে ব্রাজিলিয়ানদের অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সোসিয়ালিজম এবং লিবার্টি পার্টির ফেডারেল ডেপুটি গুইলার্মো বুলোস এই র্যালিতে যোগ দিয়ে তার ভাষায় এই “কেলেংকারির” বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
কিভাবে হলো বিক্ষোভ?
বিবিসির ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয় অঞ্চলের এডিটর ভেনেসা বুশলুটার বলেন, লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা যিনি লুলা নামেই বেশি পরিচিত তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার সপ্তাহখানেক পরই ব্রাসিলিয়ায় এই বিক্ষোভ হলো।
ব্রাজিল গভীরভাগে বিভক্ত একটি দেশ এবং কংগ্রেসে হামলার ঘটনা একটি নাটকীয় প্রতীক যা দিয়ে বোঝা যায় যে, কিছু ব্রাজিলিয়ান কতটা মরিয়া হয়ে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালাতে পারে। যেগুলো তাদের মতে আর তাদের প্রতিনিধিত্ব করে না।

ছবির উৎস, Getty Images
লুলা এই হামলার ঘটনাকে “নজীরবিহীন” বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে দাঙ্গাকারীদের উস্কানি দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
বিদ্বেষপূর্ণ এবং তিক্ত প্রচারণার মাধ্যমে গত ৩০শে অক্টোবরের নির্বাচনে তিনি কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী বলসোনারোকে খুব কম ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন লুলা।
নির্বাচনের আগে বলসোনারো বারবারই অভিযোগ করেছেন যে ভোট দেয়ার ইলেক্ট্রনিক ব্যবস্থায় জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে- যা দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ নাকচ করে দিয়েছে।








