ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক নাজমুলের মন্তব্য, ক্রিকেটারদের খেলা বর্জনের হুমকি, 'অনুতপ্ত' হয়ে বিসিবি'র বিবৃতি – কী হয়েছিল

বিসিবি, নাজমুল ইসলাম

ছবির উৎস, BCB/SCREEN GRAB

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা 'আজ পর্যন্ত একটাও বৈশ্বিক কাপ আনতে' পারেনি এবং তাদের পেছনে 'খরচ' করা হচ্ছে- পরিচালক নাজমুল ইসলামের এমন মন্তব্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে

বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে পরীক্ষিত 'ভারতের এজেন্ট' বলে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আসা বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জের ধরে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল বর্জনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন 'ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' বা কোয়াবের অন্তর্ভুক্ত ক্রিকেটাররা।

কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিথুন বুধবার রাতে এক ভিডিওবার্তায় এই ঘোষণা দেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা "আজ পর্যন্ত একটাও বৈশ্বিক কাপ আনতে" পারেনি এবং তাদের পেছনে "খরচ করা হচ্ছে" বলে পরিচালক নাজমুল ইসলামের করা মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় কোয়াবের পক্ষ থেকে।

মোহাম্মদ মিথুন ভিডিওবার্তায় বলেন, "একজন দায়িত্বরত বোর্ড ডিরেক্টর কখনোই প্লেয়ারদের নিয়ে এমন কথা বলতে পারেন না। আমরা ইমিডিয়েট উনার রিজাইন (পদত্যাগ) চাচ্ছি। কাল (বৃহস্পতিবার) বিপিএলের প্রথম ম্যাচের আগে আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি যদি পদত্যাগ না করেন তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ ঘোষণা করছি।"

বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান প্রায় সব ক্রিকেটারই কোয়াবের সদস্য হওয়ায় তাদের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

এর আগে বিকেলে নাজমুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অর্জন, তাদের পেছনে খরচ করা এবং ভারতে বিশ্বকাপ না খেললে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে সেসব বিষয়ে মন্তব্য করেন।

বিশ্বকাপ না খেললে ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক ক্ষতি হবে কি না, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, "ক্রিকেট বোর্ডের কোনো ক্ষতি হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে"।

"কারণ ক্রিকেটাররা খেললে তারা ম্যাচ ফি পায়, বা তাদের বিশেষ পারফরম্যান্স থাকলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কিছু (পুরস্কার) পায়। সেটা প্লেয়ারের পাওনা"।

"মানে বোর্ডের এখানে লাভ বা ক্ষতি কোনোকিছু নাই। বাংলাদেশ এখানে খেলুক বা না খেলুক, বোর্ডের এখানে লাভ-ক্ষতি কোনো কিছু নাই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য," বলেন মি. ইসলাম।

এছাড়াও নাজমুল ইসলাম দাবি করেন যে এবারের টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিসিবির আয়ে কোনো হেরফের হবে না।

এরপরই তাকে প্রশ্ন করা হয় ক্রিকেটারদের ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না।

যার জবাবে তিনি বলেন, "কেন? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে যে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি তা ফেরত চাইছি নাকি?"

"বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না, আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক কাপ আনতে পেরেছি?"

নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন, ফাইল ছবি
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মূলত, মি. ইসলামের এই মন্তব্যের পরই ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব তার পদত্যাগের দাবি তুলে বিবৃতি দেয়।

এর কয়েকঘণ্টা পরেই বিসিবি এক বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে। তাদের বিবৃতিতে পরিচালক নাজমুল ইসলামের নাম উল্লেখ না করলেও তারা জানায় যে কোনো মন্তব্য যদি 'অনুপযুক্ত, আক্রমণাত্মক বা পীড়াদায়ক' হয়ে থাকে তাহলে বোর্ড "আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত"।

বিসিবি এই ধরনের মন্তব্যের দায়ভার গ্রহণ করে না এবং বিসিবির মিডিয়া ও কমিউনিকশন্স বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্রের মন্তব্য ছাড়া কোনো মন্তব্য বিসিবির বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এর বাইরে করা যে কোনো রকম মন্তব্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত এবং তা বিসিবির অবস্থান নয়।

এছাড়া ক্রিকেট বোর্ড তাদের বিবৃতিতে এটিও উল্লেখ করেছে যে কোনো ব্যক্তির মন্তব্য বা আচরণ 'ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানসূচক' হলে বা তা 'বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুনাম ও অখণ্ডতার' জন্য ক্ষতির কারণ হলে বিসিবি তার বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেবে।

বোর্ড পরিচালক নাজমুল ইসলামের এই মন্তব্য ও সেটিকে ঘিরে ক্রিকেটারদের পাল্টা অবস্থানকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে।

ব্যবহারকারীদের একটা অংশকে দেখা গেছে নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে সমর্থন করতে। অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পেছনে 'খরচ' করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সাফল্য না পাওয়া নিয়ে নাজমুল ইসলাম যে মন্তব্য করেছেন তা যৌক্তিক।

আবার অনেকেই মনে করেন ক্রিকেট বোর্ড যেহেতু নিজস্ব আয়ে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান, কাজেই খেলোয়াড়দের পেছনে 'খরচ করা'র যে দাবি নাজমুল ইসলাম করছেন, তা ভিত্তিহীন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে কি না, গত কিছুদিনে সেই বিতর্কের মধ্যে এক পর্যায়ে এক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আসেন নাজমুল ইসলাম।

বাংলাদেশ দল ভারতে টিটোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না, আইসিসিকে এই সিদ্ধান্ত বিসিবি জানানোর পর গত সপ্তাহে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছিলেন যে যেহেতু বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের "৯০-৯৫ শতাংশ অর্থায়ন আইসিসি থেকেই আসে", কাজেই সবকিছু বিবেচনা করে বাংলাদেশের "ক্রিকেটের জন্য হেল্পফুল" সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত।

এর পরই নাজমুল ইসলাম এক স্ট্যাটাসে তামিমের বক্তব্য লেখা একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করে পোস্টে লেখেন যে, "এইবার আরো একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো"।

তার এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। তার মন্তব্যকে অনেকে সমর্থন করলেও অনেককেই তার এ ধরনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করতে দেখা যায়।

সমালোচনার মুখে কয়েকঘণ্টা পরই তিনি আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়ে উল্লেখ করেন যে আগের মন্তব্যটি তার ব্যক্তিগত মতামত এবং সেটিকে যেন "অন্যভাবে" নেওয়া না হয়।

সেসময় মি. ইসলামের ওই মন্তব্যের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন, মেহেদি হাসানসহ জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার।

পরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল্রও এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন যে তামিম ইকবালকে ঘিরে নাজমুল ইসলামের মন্তব্যের জের ধরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বিসিবি থেকে।