বিধানসভা উপনির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের ফলাফলের তাৎপর্য কী?

ছবির উৎস, Getty Images
ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের পর আরও একবার নিজেদের 'উপস্থিতির জানান' দিল বিজেপি-বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'।
সাত রাজ্যের ১৩টি বিধানসভার উপনির্বাচনে ১০টি আসন ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর ঝুলিতে এসেছে, বিজেপির দখলে দুটো আর একটা আসনে জিতেছেন নির্দলীয় প্রার্থী।
উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পরই ইন্ডিয়া জোটের জয় সম্পর্কে কংগ্রেস সাংসদ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘উপনির্বাচনের ফল স্পষ্ট করে দিয়েছে বিজেপির তৈরি করা ভয় ও বিভ্রান্তির জাল ছিঁড়ে গিয়েছে। কৃষক, যুব, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, কর্মচারী-সহ প্রতিটি শ্রেণি ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”
“জনসাধারণ এখন তাদের জীবনের উন্নতি এবং সংবিধান রক্ষার জন্য সম্পূর্ণভাবে ইন্ডিয়ার পাশে আছে।”
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও তার দলের ফল নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, “অনেক চক্রান্ত হয়েছিল। এক দিকে এজেন্সি, এক দিকে বিজেপি। মানুষই সব রুখে দিচ্ছেন। পুরো কৃতিত্বটাই সাধারণ মানুষের।”
বিরোধীদের 'উচ্ছ্বাস' নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। তাদের পাল্টা যুক্তি বিজেপির দাবি, হিমাচল প্রদেশে কংগ্রেসের জেতা আসন আগে নির্দলীয় বিধায়ক ছিল, উত্তরাখণ্ডে জেতা দুটো আসনই কংগ্রেসের দখলে ছিল।
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, "পশ্চিমবঙ্গে যেখানে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি, বাদে অন্যত্র ফলাফল আগের মতোই রয়েছে। তবে ইন্ডিয়া জোট চাইলে নৈতিক জয় দাবি করতে পারে।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত উপনির্বাচনে রাজ্যে যে দল ক্ষমতায় রয়েছে, তার পক্ষেই ভোটের ফল যায়। তা সত্ত্বেও উপনির্বাচনের দিকে নজর ছিল অনেকেরই।
তার কারণ, নির্বাচনি প্রচারে ‘৪০০ পারের’ দাবি করলেও ভোট ব্যাঙ্কে তার প্রতিফলন মেলেনি। তৃতীয়বার কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফিরলেও চলতি দফায় তারা এনডিএ শরিকদের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, বিরোধী ইন্ডিয়া জোট লোকসভা নির্বাচনে টক্কর দিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে।

ছবির উৎস, ANI
প্রবীণ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিখা মুখার্জী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “যে রাজনৈতিকদল ক্ষমতায় রয়েছে, উপনির্বাচনে ভোট তার দিকেই যায় এমনটা বলা হয়। সব সময় তা অবশ্য কাজ করে না।"
“এই উপনির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ কারণ চৌঠা জুন লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। তার পরপরই এই উপনির্বাচনে কী প্রভাব পড়ল, ইন্ডিয়া জোট তাদের সেই গতি ধরে রাখতে পারল না কি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল এই বিষয়গুলো দেখার ছিল। আমি মনে করি এই উপনির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের প্রতি মানুষের যে আস্থা সেটা বজায় থেকেছে। "
কোন কোন আসনে ভোট হয়েছে?
সাত রাজ্যের ১৩টা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছে বিহারের রূপাওলি; পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জ, রানাঘাট, দক্ষিণ, বাগদা ও মানিকতলা; তামিলনাড়ুর বিক্রাবন্দি; মধ্যপ্রদেশের অমরওয়াড়া; উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ও মঙ্গলৌর; জলন্ধর পাঞ্জাবে পশ্চিম; এবং হিমাচল প্রদেশের দেরা, হামিরপুর এবং নালাগড়।
বিভিন্ন দলের বিধায়কদের মৃত্যু বা পদত্যাগের পর শূন্যতার কারণে এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছিল।
উপনির্বাচনের ফল
যে ১৩টা আসনে উপনির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে বিজেপির দখলে ছিল মাত্র চারটে আসন এবং তিনটে ছিল স্বতন্ত্রদের দখলে।
পশ্চিমবঙ্গে যে চারটে আসনে উপনির্বাচন হয়েছে এবং সবকটাতেই শাসকদল তৃণমূল জিতেছে। এর আগে বিজেপির দখলে ছিল তিনটে। শুধু তাই নয়, মাস দুয়েক আগেও এই আসনের মধ্যে দুটোতে- রানাঘাট দক্ষিণ ও বাগদা কেন্দ্রে লিড ছিল বিজেপির।
কিন্তু বিধানসভা উপনির্বাচনে সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছেন তৃণমূলের দুই প্রার্থী মুকুটমণি অধিকারী (যিনি আগে বিজেপিতে ছিলেন) এবং মধুপর্ণা ঠাকুর। প্রসঙ্গত, এই দুই আসনই কিন্তু মতুয়া অধ্যুষিত, যাকে বিশেষ ভাবে টার্গেট করেছিল বিজেপি।

ছবির উৎস, MUKUTMANI ADHIKARI/FACEBOOK
বিহারের রূপাওলি বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
অন্যদিকে, উত্তরাখণ্ডে মঙ্গলৌর ও বদ্রীনাথের দুটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলৌরের আসন আগে বহুজন সমাজ পার্টির দখলে ছিল আর বদ্রীনাথ আসন ছিল কংগ্রেসের। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে, কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সেই আসনটা শূন্য ছিল।
সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে হিমাচলের তিনটে আসনের মধ্যে কংগ্রেস দুটো ও বিজেপি একটা আসন পেয়েছে। পাঞ্জাবে একটা আসনে জয়ী হয়েছে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি।
মধ্যপ্রদেশে একটা বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল, যেখানে বিজেপি জিতেছে। এই আসন আগে কংগ্রেসের দখলে ছিল।
আর মধ্যপ্রদেশে বিজেপি যে আসনটি জিতেছে সেটা আগে কংগ্রেসের দখলে ছিল।
পশ্চিমবঙ্গের ছবি
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন শাসকদল লোকসভা ভোটের মতোই উপনির্বাচনেও জয়ের ধারা বজায় রেখেছে। শুধু তাই নয়, মাস খানেক আগেও যে তিন বিধানসভা এলাকায় বিজেপি এগিয়ে ছিল, সেখানে জয় নিশ্চিত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
অন্যদিকে, মানিকতলা আসন যা ইতিমধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল সেখানে বিপুল ব্যবধানে জিতেছে মমতা ব্যানার্জীর দল।
লোকসভা ভোটে উত্তর কলকাতার তৃণমূল প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় মানিকতলায় আশানুরূপ ভোট পাননি। কিন্তু উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা গেল সেই ছবি বদলেছে। ওই আসনে তৃণমূলেরই প্রার্থী সুপ্তি পাণ্ডে, প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই জিতেছেন ৬২ হাজার ৩১২ ভোটে।
একইসঙ্গে, রাণাঘাট দক্ষিণ ও বাগদা মতুয়া-প্রধান দুই কেন্দ্রেই তৃণমূল বিপুল ভোটে জিতেছে। জিতেছে রায়গঞ্জ আসনেও। এই তিনটে আসনই গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির দখলে ছিল।
এখন উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তিনটে কেন্দ্রের বিধায়কই কিন্তু একসময় বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। গত বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন কিন্তু পরে তৃণমূল শিবিরে যোগ দেন।
এবার তৃণমূলের প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর বাগদা থেকে ৩৩ হাজার ভোটে জিতেছেন। এর আগে বিজেপির হয়ে লড়ে বাগদা কেন্দ্রে ২০২১ সালে বিজেপির হয়ে জিতেছিলেন বিশ্বজিৎ দাস যিনি প্রথমে তৃণমূলের সদস্য ছিলেন। বিজেপিতে যোগ দেন ২০১৯ সালে।
পরে ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে জেতার পর আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। প্রসঙ্গত, এই বিধানসভা কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ লোকসভার অন্তর্গত, যেই কেন্দ্রে আবার চলতি বছরের লোকসভা ভোটে জিতেছেন বিজেপির শান্তনু ঠাকুর। তিনি সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসংঘেরও নেতা।
অন্যদিকে, রাণাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তার তৃণমূল প্রতিদ্বন্দ্বী হারিয়েছিলেন মুকুট মণি অধিকারী। চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। গতবারে তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী দে রায়কে ১৬ হাজার ৫১৫ ভোটে হারিয়েছিলেন।

ছবির উৎস, MADHUPARNA THAKUR/FACEBOOK
এইবার তৃণমূলের হয়ে দাঁড়িয়ে উপনির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়েছেন ৩৯ হাজারেরও বেশি ভোটে। প্রসঙ্গত, মাস খানেক আগে লোকসভা ভোটে তাকে হারিয়েছিলেন বিজেপির জগন্নাথ সরকার কিন্তু বিধানসভা উপনির্বাচনে তিনি জিতেছেন।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে রায়গঞ্জ থেকে বিজেপির হয়ে লড়ে বিধানসভা ভোটে যেতেন কৃষ্ণ কল্যাণী। সেই বছরই তৃণমূলে যোগ দেন। সাম্প্রতিক লোকসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ালেও জেতেননি। এই আসন জিতেছিলেন বিজেপির কার্ত্তিক চন্দ্র পাল।
পশ্চিমবঙ্গের চারটে বিধানসভার উপনির্বাচনের ফলাফল ধরলে তৃণমূল বিজেপির কাছ থেকে তিনটে আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। আর সাম্প্রতিক লোকসভার ফলের নিরিখেও এই জয় বেশ তাৎপর্য রাখে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
লোকসভা ভোটে অযোধ্যা পর বদ্রীনাথ আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির ধর্মের রাজনীতি কাজে আসেনি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
“এই ফলের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে কারণ হিমাচল, উত্তরাখণ্ডের মতো একাধিক রাজ্যে বিজেপির বেশ প্রভাবছিল। তামিলনাড়ু আর পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের ফলও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ," বলেছেন শিখা মুখার্জী।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে 'একপেশে' নির্বাচন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধীরা।
সাম্প্রতিককালে রাজ্যের শাসকদলের নেতা ও তাদের অনুগামীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও জোরজুলুমের যে একের পর এক অভিযোগ উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অধ্যাপক ড. বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলেন, "তৃণমূল বেহিসাবি ভাবে উপনির্বাচন পরিচালনা করেছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে। তাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে সেই বুথের এজেন্টকে বার করে দিয়ে তা দখল হয়েছে।"
"ফলে গণতন্ত্রের প্রশ্নটা পশ্চিমবঙ্গে এখনও গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজনৈতিক আবহাওয়া কিন্তু জনসাধারণের জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত করবে। কারণ জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনি একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।"

ছবির উৎস, Getty Images
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর
ভোটের ফলের প্রভাব সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক চক্রবর্তী বলেন,"নির্বাচনী একনায়কত্ব যত বেশি হবে তত বেশি করে দুর্নীতি রাজ্য-রাজনীতিতে জাঁকিয়ে বসবে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রামে-শহরে তোলাবাজি ও আইন-শৃঙ্খলার অভাবের যে অভিযোগ উঠেছে, তাও বাড়বে। "
পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের ফলের অন্য একটা দিক তুলে ধরেছেন শিখা মুখার্জী।
তার মতে, "পশ্চিমবঙ্গে চারটে আসনের মধ্যে মধ্যে চারটেই জিতেছে। এর মধ্যে বিজেপি থেকে তৃণমূলে এসেছেন এমন প্রার্থী আছেন। সেই দলবদলকারী প্রার্থীদের যেটা কিন্তু বিজেপির কাছে নৈতিক হার এবং তৃণমূলের ক্ষমতার জয়। এবং এটা কিন্তু আরও উল্লেখযোগ্য কারণ ওই প্রার্থীরা তৃণমূলে এসে জিতেছেন। কিছু একটা বুঝেই তারা দল বদল করেছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।"
ইন্ডিয়া ব্লকের জয়?
এই বিধানসভা উপনির্বাচনে ইন্ডিয়া ব্লকের ফলকে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিরোধী জোট ইন্ডিয়াতে সামিল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শরিকদের মধ্যে 'মতপার্থক্য' এবং 'শরিকি জটিলতা' একাধিকবার সামনে এসেছে। শরিক তৃণমূল অন্য দুই শরিক বাম ও রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বারেবারে সোচ্চার হয়েছেন।
এদিকে, প্রথমে অভিষেক ব্যানার্জী ও সম্প্রতি তৃণমূল সুপ্রিম মমতা ব্যানার্জী নিজে গিয়ে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে দেখা করেন। এনসিপির শরদ পাওয়ারের সঙ্গেও দেখা করেছেন মমতা ব্যানার্জী।
সেই সাক্ষাৎ সে নিতান্তই সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, এতে রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে সে বিষয় নিয়েও ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে ও বিরোধী শিবিরে জোর গুঞ্জন হয়েছে।
তবে ইন্ডিয়া জোটের 'মত পার্থক্যকে'কে ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখেন প্রবীণ সাংবাদিক শিখা মুখার্জী। তার কথায়, "বরাবরই ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের মধ্যে মোট পার্থক্যকে তুলে ধরতে চায়। শরিকদের মধ্যে একটু কিছু হলেই গেল গেল রব ওঠে সর্বত্র। কিন্তু মনে রাখতে হবে শরিকদলকে সবকটাই কিন্তু মজবুত দল, কেউ কারও ওপর নির্ভরশীল নয়।"
তবে বিরোধী ইন্ডিয়া জোতের সাংগঠনিক ভিত তেমন মজবুত নয় বলে মনে করেন অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তার মতে, "বিরোধীরা দিশাহীন। বিরোধীদলগুলো নিজেদের মধ্যে সংগঠিত নয়, নির্বাচনী ময়দানে সেভাবে একজোট হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাতে নামতে পারছে না। তৃণমূল স্তরে এদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত নয় এগুলোও একটা বিশেষ দিক।"








