মণিপুরে নতুন করে সহিংসতায় ২জন কমান্ডো নিহত, আহত বিএসএফ সদস্যরা

ছবির উৎস, Getty Images
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যের পুলিশ বলছে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরে হামলার দুটি পৃথক ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দুজন পুলিশ কম্যান্ডো নিহত এবং তিনজন বিএসএফ সদস্য-সহ মোট নয়জন নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন।
প্রথম ঘটনায় ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের শহর মোরেতে হামলাকারীরা বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে মণিপুর রাইফেলসের একটি দলকে আক্রমণ করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওয়াংখেম সমরজিৎ মেইতেই ও থাকেলাম্বাম শিলেশ্বর নামে দুই পুলিশ কর্মী নিহত হন ওই ঘটনায়, তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যাণ্ডেলে জানিয়েছে মণিপুর পুলিশ।
তারা বলছে ওই হামলায় ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের ছয়জন সদস্যও আহত হয়েছেন।
এই দুজন নিহত নিরাপত্তা রক্ষীর মধ্যে থাকেলাম্বাম শিলেশ্বরের মৃত্যু হয়েছে বুধবার রাতে, এমনটাই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
পুলিশ সূত্রগুলি জানিয়েছে মোরে শহরের হামলায় রকেট চালিত গোলাও ছোঁড়া হয়েছিল বাহিনীর দিকে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি থৌবাল জেলার। বুধবার বেশি রাতে "উত্তেজিত জনতা প্রথমে ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের একটি দলের ওপরে হামলা চালায়। সামান্য শক্তি ব্যবহার করে তাদের মোকাবিলা করা হয়।"
"এরপরে ওই জনতা থৌবালে পুলিশ সদর দপ্তরে ঢুকতে চেষ্টা করে। ভিড়ের মধ্যে থেকেই দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়, যাতে তিনজন বিএসএফ সদস্য আহত হন," জানিয়েছে মণিপুর পুলিশ।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, Getty Images
পুলিশ অফিসার হত্যার দায়ে গ্রেফতার
গত বছর অক্টোবরে এক পুলিশ অফিসারকে হত্যার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করার পরেই মণিপুরে দুটি জায়গায় পুলিশের ওপরে হামলার ঘটনা ঘটল।
যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা দুজনেই কুকি জনজাতি গোষ্ঠীর।
ওই গ্রেফতারের পর থেকেই কুকি জনজাতি গোষ্ঠীগুলি বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
বুধবারও মোরেতে সেরকমই একটা বিক্ষোভ চলছিল। ওই বিক্ষোভের মধ্যেই রকেট চালিত গোলা ছোঁড়া হয় নিরাপত্তাবাহিনীর দিকে।
ওই গোলা আর অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরে যায়।
আগুন নেভাতে মিয়ানমার থেকে দুটি দমকলের গাড়িও চলে আসে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
আট মাস ধরে সহিংসতা
মণিপুরে গত বছর মে মাসের গোড়া থেকে জাতিগত সহিংসতা চলছে সংখ্যাগুরু মেইতেই আর কুকি জনজাতিদের মধ্যে।
ওই সব সহিংসতায় এখনও পর্যন্ত অন্তত দুশো জন মারা গেছেন আর কয়েক হাজার মানুষ বাড়ি ছাড়া হয়ে রয়েছেন।
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুই গোষ্ঠীর বসবাসের এলাকা সম্পূর্ণ বিভক্ত হয়ে গেছে।
মেইতেই আর কুকিরা কেউই একে অন্যের এলাকায় যান না। মাঝে পাহারা দেয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী।
মণিপুরের সংখ্যাগুরু মেইতেই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে তফসিলি উপজাতি বা এসটি তালিকাভুক্ত হওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।
তাদের বসবাস মূলত ইম্ফল উপত্যকায়। এদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করেন যে আদিবাসীরা, তাদের একটা বড় অংশ মূলত কুকি চিন জনগোষ্ঠীর মানুষ।
সেখানে নাগা কুকিরাও যেমন থাকেন কিছু সংখ্যায়, তেমনই আরও অনেক গোষ্ঠী আছে।
মেইতেইরা তফসিলি উপজাতির তকমা পেয়ে গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত হবেন, এই আশঙ্কা ছিলই।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post
গত বছর মে মাসের গোড়ায়, হাইকোর্ট মেইতেইদের তফসিলি উপজাতি হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করতে বলে।
তার বিরুদ্ধে পাহাড়ি উপজাতি জনগোষ্ঠী বিক্ষোভ মিছিল করে।
সেখান থেকেই সহিংসতার শুরু হয়, যা খুব দ্রুত পুরো রাজ্যেই ছড়িয়ে পড়ে।
তফসিলি উপজাতি হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ আসার আগে থেকেই অবশ্য সরকারের এবং মেইতেইদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হচ্ছিলেন পাহাড়ি উপজাতিরা।
ওইসব পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে সরকার ‘বেআইনি দখলদার’ সরাতে শুরু করেছিল সম্প্রতি। এগুলি সবই নাগা এবং কুকিদের বসবাসের এলাকা ছিল।

ছবির উৎস, Getty Images
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর
মেইতেই-উপজাতি বিরোধের ইতিহাস
মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার প্রায় ৬৪%। ৬০জন বিধায়কের বিধানসভায় তাদের আসনই ৪০টি, যদিও তাদের বসবাস রাজ্যের মাত্র দশ শতাংশ জমিতে।
মেইতেইরা সিংহভাগই হিন্দু এবং একটা বড় সংখ্যায় বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী।
আবার তারা চিরাচরিত প্রকৃতি পুজোও করে থাকে। মেইতেইদের মধ্যে কিছু মুসলমানও রয়েছেন।
অন্যদিকে পাহাড়ি অঞ্চলে বাস করেন যেসব নাগা এবং কুকি উপজাতির মানুষ, তাদের একটা বড় অংশ খ্রিস্টান।
এরকম ৩৩টি উপজাতি গোষ্ঠীর বসবাস রাজ্যের ৯০% পাহাড়ি অঞ্চলে।








