হিন্দু-খ্রিস্টান দাঙ্গা, মণিপুরে ধর্মীয় সহিংসতা ৫০ দিনেও থামেনি

    • Author, নীতিন শ্রীবাস্তব
    • Role, বিবিসি সংবাদদাতা, ইম্ফল থেকে ফিরে

মণিপুর জ্বলছে ৫০ দিন ধরে। তার সঙ্গেই জ্বলছে উত্তরপূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যটির শত শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য।

জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটা স্বপ্ন, যেখানে মেইতেই, কুকি আর নাগা সম্প্রদায়ের মানুষরা পুরনো দ্বন্দ্ব মুছে ফেলে একসঙ্গে থাকতে পারত।

পারস্পরিক বিশ্বাস ঠেকেছে একদম তলানিতে, বেড়েছে হতাশা।

তারই ফল হল মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা শুরু হওয়ার দেড় মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ।

মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৯০ জন আহত হয়েছেন।

তবুও সহিংসতা থামছে না, বাঁধ ভাঙ্গছে স্থানীয় মানুষের ধৈর্যের।

'সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ'

মণিপুরের মেইতেই সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই তফসিলি উপজাতি হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

আর এই দাবিটাই কুকি সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের চলমান বিবাদের মূল উৎস।

মে মাসের তিন থেকে ছয় তারিখ পর্যন্ত পুরো রাজ্যে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, মেইতেই আর কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে টার্গেট করেছিল।

রাজধানী ইম্ফল থেকে ঘণ্টা দুয়েক দূরের পথ কুকি-অধ্যুষিত চুড়াচাঁদপুর জেলা। সেখানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘর্ষ চলছিল সেই সময়ে, তখন সেখানেই ছিলেন বছর ২৩এর অ্যালেক্স জামকোথাং।

হঠাৎই ওপরের একটি ভবন থেকে একটি গুলি এসে তার বুক চিরে চলে যায়।

সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তখন থেকে অ্যালেক্স জামকোথাং-এর মা ঘুমোতে পারছেন না, মাঝে মাঝেই কেঁদে উঠছেন।

অ্যালেক্সের বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং ভাই এখনও ভারত-তিব্বত সীমা পুলিশে কর্মরত।

বাড়ির ছেলের শেষকৃত্য এখনও করেননি জামকোথাং পরিবার।

অ্যালেক্সের ভাই বলছিলেন, “এখানে আমাদের জীবন বিপন্ন। কখন কি হবে, কে মরবে, কেউ জানে না। কেন্দ্রীয় সরকার যদি আদিবাসীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা না দেয়, তাহলে যেমন আমরা মানব না, আবার মেইতেইরাও রাজি হবে না। এখন যা চলছে, তা সরকারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ। সরকার আমাদের দাবি না মানলে মর্গ থেকে ভাইয়ের মৃতদেহ বের করব না আমরা।“

বিভাজন রেখাটা খুব স্পষ্ট

মণিপুর এখন আসলে দু টুকরো হয়ে গেছে, যার একটা অংশে আছেন মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ, অন্য অংশে রয়েছেন কুকিরা।

এই সহিংসতা এক, দুই বা চারদিনের নয়, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। পরিবার ধ্বংস হয়েছে, বাড়িঘর জ্বলে পুড়ে গেছে, উজাড় হয়ে গেছে গ্রাম-গঞ্জ।

যে ধরনের ফাটল দেখা যাচ্ছে মণিপুরী সমাজে, তা দীর্ঘমেয়াদের জন্যই থেকে যাবে বলেই মনে হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কুকি সম্প্রদায় তফসিলি উপজাতির মর্যাদা পেয়েছে, অন্যদিকে মেইতেইরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাদের একটা অংশ যেমন সংরক্ষণের সুযোগ সুবিধা পাননি, তেমনই আরেকটি অংশ আবার তফসিলি জাতিভুক্ত হয়েছেন কেউ আবার অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণীতে নাম তুলেছেন।

মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ কুকিদের এলাকায় জমি কিনতে পারেন না, তাই তারা উপজাতির মর্যাদা চাইছেন।

স্পষ্টতই, সমস্যাটা জমির অধিকারের।

আটাশ লক্ষ জনসংখ্যার অধিকাংশই মেইতেই, যারা উপত্যকা অঞ্চলে বাস করেন।

আর কুকি সম্প্রদায়ের আদি বাসস্থান ছিল চারটি পার্বত্য জেলায়।

আবার মেইতেদের মধ্যে কিছু মুসলমানও আছেন আর রয়েছেন নাগা সম্প্রদায়ের মানুষ, যাদের ওপরে অবশ্য এই চলমান সহিংসতার আঁচ লাগেনি।

ত্রাণ শিবিরে ৫০ হাজার মানুষ

মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রিয়রঞ্জন সিং বলছেন, তাদের রাজ্যে এই ধরনের সহিংসতার ইতিহাস নেই৷

তিনি বলেন, “ইতিহাস হল মেইতেইরাই নাগা ও কুকি সম্প্রদায়কে রাজার প্রশাসনিক কাজে জায়গা করে দিয়েছিল। এখানকার মানুষের হিন্দু হওয়ার ইতিহাসটাও আলাদা।

“মণিপুরের মানুষের মধ্যে কখনই ধর্মীয় উগ্রতা ছিল না। তবে উনবিংশ শতকে যখন এখানে রাজার শাসন ছিল, সেইসময়ে হিন্দুধর্ম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটাও খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি,” বলছিলেন অধ্যাপক সিং।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় দুই ধর্মাবলম্বীদেরই মৃত্যু আর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এখনও ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়ে ত্রাণ শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যেও কুকি আর মেইতেই, দুই সম্প্রদায়ের মানুষই আছেন।

রাজধানী ইম্ফলের স্টেডিয়ামের পাশে একটি যুব হোস্টেল রয়েছে, যা এখন ত্রাণ শিবিরে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই শিবিরে ৪০ জন এমন নারী আছেন, যারা সহিংসতা শুরু হওয়ার সময় গর্ভবতী ছিলেন।

গত এক মাসে এখানে চারটি শিশুর জন্ম হয়েছে এবং এই মায়েরা কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি যে 'কনফ্লিক্ট চিলড্রেন' নামে একটি ত্রাণ শিবিরে জন্ম হবে তাদের সন্তানদের।

এখানেই আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল ২৭ বছর বয়সী মেরিনা সোরামের, যিনি শিবিরেই কন্যা শিশুর জন্ম দিয়েছেন। তার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন তিনি।

মেরিনা তার মেয়ের নাম রেখেছেন 'জিত'।

কাংপোকপির বাসিন্দা মেরিনা সোরাম বলছিলেন, “গ্রামে যখন হামলা শুরু হল, তখন আমরা রাতের খাবার খেতে শুরু করতে যাচ্ছিলাম। হামলা হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে নদীর দিকে ছুটে যাই। সেখানে দেখি অনেকগুলি শিশু নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করছে। পরের দিন আমরা তাদের মৃতদেহ খুঁজে পাই।”

সাবেক মেইতেই হিন্দু রাজপরিবার

গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের রাজনীতিতে সাবেক মেইতেই হিন্দু রাজপরিবারের সদস্যদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

সাবেক রাজপরিবারের বর্তমান কর্ণধার, মহারাজা লিশেম্বা সানজাওবা বর্তমানে বিজেপির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য।

অনেক চেষ্টা করেও বিবিসি তাকে সাক্ষাতকারের জন্য রাজি করাতে পারেনি।

তবে তিনি একটি বিবৃতি জারি করে বলেছিলেন যে, "সহিংসতা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আলোচনাই প্রতিটি সমস্যার একমাত্র সমাধান।"

মণিপুরের ইতিহাসে এই প্রথম ধর্মীয় স্থানগুলি জাতিগত সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি শারদা দেবীও মেনে নিচ্ছেন যে মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতায় চার্চ পুড়েছে, মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে।

তিনি বলেন, “চার্চ আর মন্দির দুই-ই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কুকি সম্প্রদায়ের প্রার্থনা করার স্থল গির্জাঘর এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের বাড়িতে যে উপাসনা-স্থল বানায়, উভয়েরই ক্ষতি করা হয়েছে। এটা আমাদের সকলের জন্যই দুঃখের বিষয়।”

বিবিসির হাতে থাকা সরকারি তথ্য অনুসারে, জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত, রাজ্যে ২৫০টিরও বেশি চার্চ এবং প্রায় দুই হাজার কুকি সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে হামলা হয়েছে।

'সরকারের ওপরে আস্থা হারিয়ে ফেলেছি'

চুড়াচাঁদপুরে, আমরা কুকি খ্রিস্টান লিডারস ফেলোশিপের প্রধান যাজক হাওকিপ থংখোসের সঙ্গে দেখা করেছিলাম।

তিনি রাজ্যের গির্জাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন।

হাওকিপ থংখোস বলছিলেন, “কুকি সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গির্জাঘর, মানুষ এবং তাদের সম্পত্তিতে হামলাকারী জনতাকে থামায়নি সরকার, তাই এই সরকারের ওপরে আমরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। খুবই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের।

“এটা জাতিগত সহিংসতা তো বটেই, একই সঙ্গে ভারতীয় হিন্দুদের খুশি করার জন্য গির্জার ওপরে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে,” বলছিলেন মি. থংখোস।

ইম্ফলের গির্জাগুলির ছবি তোলা বা সেগুলির সামনে দাঁড়িয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় লোকেরা এসে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকে সংবাদকর্মীদের।

যদি ভাঙা গির্জা বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরের ছবি তোলা হয়, তাহলে স্থানীয়রা বিরক্তি প্রকাশ করে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০০টি মন্দির আর হাজার দুয়েক মেইতেই বাড়িতে হামলা হয়েছে।

মেইতেই সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠী ‘কোকোমি’-র মুখপাত্র কে ওথাবে জোর দিয়ে বলছিলেন "মণিপুরের কোনও সমস্যাই ধর্মীয় রূপ নেয় না, এবারেও বিষয়টি আরও বড় হয়ে ওঠার আগেই আটকানো গেছে।“

তার মতে, “২০০ টি চার্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিন্তু আপনার জানা উচিত যে আরও ৪০০ টি চার্চ এখনও অক্ষত রয়েছে। ধর্মীয় সহিংসতা হলে সেগুলো কি অক্ষত থাকত?

“কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় একটাও মন্দির পাবেন না,” বলছিলেন মি. ওথাবে।

এই সহিংসতার জন্য প্রতিবেশী মিয়ানমারের চিন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা কুকি জঙ্গিদেরও দায়ী করা হচ্ছে, যাদের কাছে রয়েছে প্রচুর আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।

অধিকারের লড়াই ধর্মীয় সহিংসতার রূপ নিয়েছে

কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের হোম সেক্রেটারি মাং খনসাইয়ের ক্ষোভ যে "কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, কেউই তাদের দাবিগুলো নিয়ে মাথা ঘামায়নি।“

তিনি বলেন, “সবাই তো কোথাও না কোথাও সংখ্যালঘু। আজ, শুধুমাত্র মণিপুরে থাকার কারণে আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে, আপনি কি শুধু মণিপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবেন? আরও অনেক জায়গা আছে যেখানে তারাও আমাদের মতো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।”

এই সহিংসতায় ধর্মীয় স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে কুকি সম্প্রদায় বা তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে মাং খনসাই বলেন, “আমাদের লড়াইটা আসলে কিসের জন্য, সেটা ভেবে আমি নিজেও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। এই সহিংসতা শুরু হয়েছিল একটা অধিকারের আন্দোলন দিয়ে, কিন্তু তারপরে সেটা ধর্মীয় সহিংসতার রূপ নিয়ে নেয়।

“এখন কেন্দ্রীয় সরকারকে এর অবসান ঘটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, তা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে,” বলছিলেন মি. খনসাই।

পরিস্থিতি এখন এমনই যে রাজধানী ইম্ফল থেকে পাহাড়ী কুকি অধ্যুষিত এলাকায় যেতে প্রশাসনের নয়, কুকি রক্ষীদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

দিনের বেলা নারীরা সীমান্ত পাহারা দেয় এবং রাতে পুরুষরা।

দুই সম্প্রদায়ের গ্রামের মধ্যে পারস্পরিক আক্রমণও চলছে।

একটি কুকি গ্রামের বাসিন্দারা আরপিজি থেকে ছোঁড়া গ্রেনেড এবং গোলাবারুদ আমাদের দেখাচ্ছিলেন।

অনেক গ্রামের রক্ষীদের কাছে ওয়াকিটকি আছে, যার মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলে।

কয়েকদিন আগে পর্যন্ত, তাদের কাছে লাইসেন্সকৃত বন্দুকও ছিল, কিন্তু এখন ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী চারদিকে ঘাঁটি তৈরি করেছে এবং তারা গ্রামবাসীদের অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে।

এই প্রথম ধর্মীয় সহিংসতা

আমরা রাজধানী ইম্ফলের বাইরে একটি গোপন ডেরায় দেখা করেছিলাম বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গী গোষ্ঠী ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট বা ইউএনএলএফের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রিন্স মেগানের সঙ্গে।

মি. মেগান কয়েক দশক ধরে আন্ডারগ্রাউন্ড ছিলেন।

তার কথায়, “আমি মর্মাহত, দুঃখিত। অতীতে কখনও এরকম ঘটনা হয় নি। আমি গির্জা বা ধর্মীয় স্থান পোড়ানো কখনই সমর্থন করি না। পক্ষপাতমূলক দলীয় রাজনীতির ফলেই মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হল।“

এত দীর্ঘ সময়ের সহিংসতার পরের দৃশ্যপট দেখে ভয়ই হয়।

যারা শত শত বছর ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও আর অবশিষ্ট নেই।

মণিপুর কংগ্রেস পার্টির কার্যনির্বাহী সভাপতি দেবব্রত সিং পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ করে বলছিলেন, “এখানে কখনও ধর্মের নামে কোনো দাঙ্গা হয়নি। এই প্রথমবার সেটা দেখলাম আমরা। কোনও মহল থেকে বোধহয় এই সহিংসতাকে ধর্মীয় দাঙ্গার রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।“