বিশ্বকাপ, অর্থনীতি ও রাজনীতির হালচাল নিয়ে আপনাদের প্রশ্ন

    • Author, মাসুদ হাসান খান
    • Role, বিবিসি বাংলা, লন্ডন

এই বিশ্বে এখন আমার আপনার মতো মানুষ রয়েছেন ৮০০ কোটি। এনিয়ে একটি প্রশ্ন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট জামবাড়িয়া থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:

"বিবিসি বাংলার সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক প্রীতি আর শুভেচ্ছা। প্রবাহ অনুষ্ঠান থেকে জানতে পারলাম আজ ১৫ই নভেম্বর মঙ্গলবার বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটিতে গিয়ে পৌঁছাল।

"এর আগে ২০১১ সালের ৩১শে অক্টোবর বাংলাদেশের মহসীন হোসেন ও শেফালী আক্তার দম্পতির তৃতীয় কন্যা ঐশী বিশ্বের ৭০০ কোটিতম মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন।

"সদ্য ৮০০ কোটিতম শিশুটি কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছে?"

প্রশ্নটা করে ভালই করেছেন, মি. মিঞা। আপনার মতো আমারও মনে ছিল এই প্রশ্ন। ৮০০ কোটিতম শিশু কোন দেশে জন্ম নিয়েছে?

যাহোক, আমার তথ্য মতে এই শিশুর জন্ম হয়েছে পূর্ব এশিয়ার দ্বীপ ফিলিপিন্সে।

১৫ই নভেম্বর দিবাগত রাত ১-২৫ মিনিটে ম্যানিলার ড. জোসে ফ্যাবেলা মেমোরিয়াল হাসপাতালে এই শিশুটির জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় ভিনিস মাবানসাঙ।

বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে জাতিসংঘ থেকে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা ১০০ কোটি বেড়েছে।

তবে জাতিসংঘ একথাও বলছে যে সার্বিকভাবে মোট জনসংখ্যা বাড়লেও, এই বৃদ্ধির হার কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই কমছে।

সেদিক থেকে একে একটা সুখবর বলা চলে।

রিজার্ভ নিয়ে শঙ্কা

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের আকার কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে নিয়মিত পত্রলেখক মুকুল সরদার:

"শুভেচ্ছা রইল। রিজার্ভ কমে যাওয়া নিয়ে অব্যাহত সমালোচনার মুখে গত সোমবার একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

"গতবছর আগস্ট মাস নাগাদ রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার আর এবছর সেই রিজার্ভের পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ২৬ বিলিয়ন ডলারে।

"আন্তর্জাতিক বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে সঙ্গত কারণেই বিদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে গিয়ে রিজার্ভের পরিমাণ দ্রুত কমে আসছে।

"এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে বেশ মোটা অংকের লোন নিচ্ছে বাংলাদেশ।

"এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একদিকে লোন নেয়া, অন্যদিকে রিজার্ভের পরিমাণ দ্রুত কমে আসা – সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঠিক কতটা ঝুঁকির মধ্যে? আর রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে?"

বাংলাদেশের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, হিসেবের তারতম্য।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বৈদেশিক মুদ্রার যে মজুদ রয়েছে, সেটাকেই দেশের নেট রিজার্ভ বলে হিসাব করা হয়।

তবে বাংলাদেশে এতদিন রিজার্ভ হিসেব করার সময় হাতে থাকা নেট রিজার্ভের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন খাতে ব্যয় ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ কিংবা ঋণ হিসাবে যে ডলার রিজার্ভ থেকে দেয়া হয়েছে, সেটাকেও যোগ করে দেখানো হতো। এটাকে বলে গ্রস রিজার্ভ।

সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪.৩ বিলিয়ন ডলার।

কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ বলছে, এভাবে হিসেব করলে চলবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে শুধু ব্যবহারযোগ্য যে তহবিল রয়েছে, তাকেই রিজার্ভ হিসাবে দেখানো উচিত। তা না হলে মোট রিজার্ভের আসল ছবিটা ফুটে ওঠে না।

বাংলাদেশ অবশ্য তাতে আপত্তি করেনি।

সেই হিসেব করে নেট রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৬ দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার।

এখন রিজার্ভের পরিমাণ দ্রুত কমে আসা কতখানি বিপজ্জনক?

অর্থনীতিবিদরা বলেন, এমুহূর্তে বিশেষ কোন ঝুঁকি নেই।

কিন্তু কোন দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ, তিন মাস কাজ চালানোর মতো না হলে সেটা বড় ঝুঁকি তৈরি করে। যেমনটা আমরা শ্রীলংকাতে দেখেছি।

তবে সমস্যা হলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয় এবং বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ব্যয় এ-দুটোর ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। অর্থাৎ সামনে সমস্যা হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য সরকার এরই মধ্যে বেশ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন, ব্যয় সংকোচন, বিশেষভাবে প্রয়োজনীয় নয় এমন সব আমদানি নিরুৎসাহ করা ইত্যাদি। দেখা যাক কী হয়।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কি অবনতি ঘটছে?

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বগুড়ার শেরপুরের শ্রোতা পাপড়ি বসাক পোদ্দার: সম্প্রতি বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড অনেকাংশে কমলেও সামাজিক হত্যাকাণ্ড বা সামাজিক অপরাধ অনেকগুণ বেড়েছে।

প্রতিদিন রেডিও, টিভি, পত্র-পত্রিকা, ফেসবুক ইত্যাদি খুললেই চোখে পড়ে এসব খবর।

গুম, খুন, হত্যার মত অপরাধ ব্যাপকহারে বেড়েই চলেছে, যা আমাদের সবাইকে মর্মাহত করে।

এসব অপরাধ দমনের জন্য সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, যা কোনো কাজেই আসছে না।

সরকারের বাহিনী কেন এসব অপরাধ দমনে রীতিমত ব্যর্থ হচ্ছে, এনিয়ে আলোচনা করলে বাধিত হবো।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সবসময়েই থাকে। আমি আমার এই জীবনে কাউকে বলতে শুনিনি, অবস্থা খুব সুন্দর।

কিন্তু সব সরকারই বলে থাকে তারা কঠোর হাতে আইনের প্রয়োগ করছে। অপরাধও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তবে আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন, তাকে আমি একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাই।

আমি বলবো, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আসলে সার্বিকভাবে সুশাসনের প্রতিফলন। যেখানে সুশাসন থাকবে, সেখানে আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকবে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।

রাজনীতিতে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা কেন নাক গলাচ্ছেন?

বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনটি কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। জমে উঠছে রাজনীতির মাঠও।

তারই কিছুটা ছোঁয়া যেন পাওয়া গেল সাতক্ষীরা প্রসাদপুরের শ্রোতা শামীমা আক্তার লিপির এই চিঠিতে: জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেছেন, পদত্যাগ করে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। সরকারের দিকে থেকে এমন একটি খবর চাওর হচ্ছে এবং বিএনপিও বলে বেড়াচ্ছে।

আসলে জাপানের রাষ্ট্রদূত এমন কথা বলেছেন কি? যদি বলে থাকেন তাহলে বলতে চাই, একজন রাষ্ট্রদূত কি এমন কথা বলার অধিকার রাখেন।

শামীমা আক্তার লিপি, বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে জাপানি রাষ্ট্রদূত কিছু কথা বলেছেন ঠিকই। কিন্তু যেভাবে তা প্রচার করা হচ্ছে সেভাবে নয়। তিনি তার বক্তব্যে নির্দলীয় নির্বাচন শব্দ ব্যবহার করেননি। কাউকে পদত্যাগও করতে বলেননি।

মি. ইতো নাওকি বলেছেন, তারা আশা করছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সবগুলো প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেছেন, এটা এমন একটি বিষয়, যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কিন্তু প্রত্যাশা হলো, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হবে।

এখন কোন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু বিদেশি রাষ্ট্রদূত, বিশেষভাবে পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতেরা, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মতামত জানাতে দ্বিধা করেন না। কারণ তারা উন্নয়নের অংশীদার বলে নিজেদের মনে করেন। আবার কখনও কখনও রাজনীতিকরাই তাদের দ্বারস্থ হন। ফলে সেদিক থেকে এটা একটা গ্রে এরিয়া।

আমাদের একটি অনুষ্ঠানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীর শ্রোতা এমদাদুল হক বাদশা: সুপ্রিয় বিবিসি বাংলা, আপনাদের প্রতিটি সম্প্রচারই প্রশংসার দাবিদার।

তবে গতকালের ফোন-ইনে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে দুই দলের অনড় অবস্থান সম্পর্কে প্রথমে ৩-৪ জন নারী শ্রোতার মতামত ছিল অপ্রাসঙ্গিক ও বিরক্তিকর।

অহেতুক সময় নষ্ট করে আসল বিষয়ে মতামত পাওয়া যায়নি।

আশা করি এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে শ্রোতা নির্বাচনে বিবিসি আরো বেশী সতর্ক হবে।

মি. হক, ফোন ইন অনুষ্ঠানটি মতামত প্রকাশের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। বিষয় নির্বাচনের পর থেকেই শ্রোতা নির্বাচনের কাজটি শুরু হয়ে যায়। ফলে এর মধ্যে অনেক বিবেচনা-বোধ কাজ করে।

এধরনের কোনবিষয়ে মতামত জানাতে গিয়ে দু’একজন শ্রোতা একটু অফ-টপিক হয়ে যেতেই পারেন। সেটাকে আমরা ধৈর্যের সাথেই গ্রহণ করি।

কিন্তু আপনার একটি শব্দ ব্যবহার নিয়ে আমার আপত্তি আছে। আপনি লিখেছেন নারী শ্রোতা। তারা নারী বলেই কি তাদের মতামত ছিল বিরক্তিকর? পুরুষ শ্রোতারা কি অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করেন না?

ফোন ইন নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা কিন্তু ভিন্ন কথা বলে।

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা?

আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে একটি প্রশ্ন ভাবিয়ে তুলেছে সাতক্ষীরার শ্রোতা গাজী মোমিন উদ্দীনকে। তিনি লিখেছেন: বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত বিশ্ববাসীর সাথে বাংলাদেশও।

এখানকার ফুটবল প্রেমিকেরা সাধারণত দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ব্রাজিল।

এই দুই দলকে নিয়ে যখন মানুষ উন্মাদনায় ভাসছে। ঠিক তখন একদল বলে বেড়াচ্ছে, আর্জেন্টিনায় প্রকাশ্য আজান দেয়া নিষিদ্ধ আর ব্রাজিলে আল্লাহর নাম নেয়া নিষিদ্ধ।।

এই খবর কি ঠিক?

মি. মোমিন উদ্দিন, বিশ্বকাপ জ্বর এখনও শুরু হয়নি, একটু গা ম্যাজ ম্যাজ করছে। জ্বর আসতে বেশিদিন বাকি নেই।

তবে আপনি যেকথা লিখেছেন, আমার ধারণা সেটা একটা অপপ্রচার। সাধারণভাবে দেখলেও তাই মনে হয় নাকি?

আপনার চিঠিটি হাতে পেয়ে আমি একটু গুগল সার্চ করেছিলাম, ব্রাজিলে মসজিদের সংখ্যা সম্পর্কে।

উইকিপিডিয়াতে দেখতে পেলাম ব্রাজিলের বিভিন্ন জায়গায় মোট দেড়শটি মসজিদ রয়েছে।

আর প্রথম মসজিদটি চালু হয় সাও পাওলো শহরে, ১৯২৯ সালে। তাহলে বুঝতেই পারছেন ঘটনা কী ঘটছে।

আমাদের একটি প্রতিশ্রুতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সিলেটের সুনামগঞ্জ থেকে সাদিয়া আফরিন: বিবিসি বাংলায় সংবাদের শুরুতে সবসময় বলা হয়ে থাকে, 'আপনারা যেখানেই আছেন, বিবিসি আপনার সাথেই আছে।'

কথাটা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে আমি মনে করি।

আমি সিলেটে থাকি। সেখানে বিবিসির রেডিও সম্প্রচার স্পষ্ট শোনা যায়।

কিন্তু ময়মনসিংহে আমার গ্রামের বাড়িতে অনেক চেষ্টা করেও রেডিওতে ঝিরঝির শব্দ ছাড়া কিছুই বোঝা যায় না।

স্পীড ভালো না থাকায় ইন্টারনেটেও নির্বিঘ্নে খবর শোনা সম্ভব হয় না।

ফলে বিবিসি থেকে আমাকে এক প্রকার বিচ্ছিন্নই হয়ে পড়তে হয়।

কেন দেশের সব জায়গা থেকে বিবিসির রেডিও সম্প্রচার স্পষ্ট শোনা যায় না?

সাদিয়া আফরিন, আমরা সবসময়ই আপনার সাথে আছি। কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি আমাদের সাথে নেই।

এখন আপনার গ্রামের বাড়িতে রেডিওতে আমাদের কথা না শুনে কেন ঝিরিঝিরি শব্দ শোনেন, আমরা বলতে পারবো না।

এফএম তরঙ্গ আপনার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছায় কিনা, তাও দেখতে হবে। ইন্টারনেট স্পিডের কথা বলেছেন, সেটাও তা একটা সমস্যা।

ফলে আমরা আছি, কিন্তু হয়তো আপনার বৃত্তের একটু বাইরেই আছি।