‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান তৈরি করেছিলেন যে মুসলমান স্বাধীনতা সংগ্রামী

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা
‘ভারত মাতা কি জয়’ এই স্লোগান দেশের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিবিদ আর নেতা-কর্মীদের মুখে নিয়মিতই শোনা যায়। কিন্তু ইতিহাসবিদদের একাংশ বলছেন এই স্লোগান প্রথম দিয়েছিলেন এক মুসলমান স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে, ১৮৫৭ সালে।
তবে সম্প্রতি ভারতে এমন অনেক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে মুসলমান ব্যক্তিদের প্রশ্ন করা হয় যে তারা কেন ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে রাজি হন না!
বিগত কয়েক বছরে মুসলমানদের 'গণপিটুনি'র যে সব ঘটনা হয়েছে, তার বেশ কয়েকটিতে শোনা গেছে হিন্দুত্ববাদীরা জোর করে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলানোর চেষ্টা করেছে গণপিটুনির শিকার হওয়া মুসলমান ব্যক্তিটিকে।
স্লোগানটি যে একজন মুসলমান স্বাধীনতা সংগ্রামীর তৈরি করা, এই বিষয়টি ইতিহাসবিদদের একাংশ স্বীকার করলেও তা সাধারণ মানুষের সামনে এসেছে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের একটি ভাষণের সূত্রে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই মি. বিজয়নের দেওয়া সোমবারের ওই ভাষণ উদ্ধৃত করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সেখানে মি. বিজয়ন বলেছেন, “সংঘ পরিবারের নেতারা এখানে এসে সামনে বসে থাকা মানুষদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে বলেন। তারা কি জানেন এই স্লোগানটা কে তৈরি করেছিলেন? আমি জানি না সংঘ পরিবার জানে কি না যে তার নাম আজিমুল্লাহ খান।“
ইতিহাস বলছে ১৮৫৭-র প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ, যাকে অনেকে সিপাহি বিদ্রোহ বলেও উল্লেখ করেন, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলেন আজিমুল্লাহ খান।
ইতিহাসবিদ ও লেখক সৈয়দ উবায়েদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “আজিমুল্লাহ খানই যে 'মাদর-এ-ওয়াতন হিন্দুস্তান' জিন্দাবাদ স্লোগানটি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।"
ইতিহাসবিদরা বলছেন, আজিমুল্লাহ খানের দেওয়া ওই স্লোগানটিরই অনুবাদ হল ‘ভারত মাতা কি জয়’।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, Getty Images
তবে ইসলামি ধর্মশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলছিলেন, ‘মাদর-এ-ওয়াতন হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ’ শব্দ-বন্ধের সঠিক অনুবাদ হল মাতৃভূমি ভারতবর্ষ জিন্দাবাদ।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী মি. বিজয়ন আরও বলেছেন যে কূটনীতিবিদ আবিদ হাসান সাফরানি যেমন ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানটির প্রবর্তক, তেমনই মুহম্মদ ইকবাল লিখেছিলেন বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান ‘সারে জাহাঁসে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা’।
কে ছিলেন আজিমুল্লাহ খান?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সৈয়দ উবায়েদুর রহমানের সংকলিত গ্রন্থ ‘বায়োগ্রাফিকাল এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইন্ডিয়ান মুসলিম ফ্রিডম ফাইটার্স’-এ আজিমুল্লাহ খানকে নিয়ে একটি আলাদা পরিচ্ছেদই রয়েছে।
সেখানে লেখা হয়েছে, “আজিমুল্লাহ খান ১৮৫৭-র বিদ্রোহের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। ইংরেজি ও ফরাসি-সহ বেশ কয়েকটি বিদেশি ভাষায় তিনি পারদর্শী ছিলেন, যে জ্ঞান অন্য অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছিল না।"
"শীর্ষ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালাতেন তিনি। ভারতের অনেকে যখন মনে করতেন যে ব্রিটিশ বাহিনী অপরাজেয়, তখন তিনি তুরস্ক আর ক্রিমিয়ায় গিয়ে, ইউরোপ ভ্রমণ করে দেখেছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনী সেখানে পরাজিত হচ্ছে।"
“প্রয়াত পেশোয়া দ্বিতীয় বাজি রাওয়ের দত্তক নেওয়া পুত্র নানা সাহেবের দেওয়ান ছিলেন তিনি, পরে তার প্রধানমন্ত্রী হন”, লিখেছেন সৈয়দ উবায়েদুর রহমান।
পেশোয়ারা ছিলেন মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজা।
আবার হিন্দু জাতীয়তাবাদের জনক বলে যাকে মনে করা হয়, সেই বিনায়ক দামোদর সাভারকর তার বই ‘দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স অফ ১৮৫৭’- এ আজিমুল্লাহ খান সম্বন্ধে লিখেছেন, “১৮৫৭-র বিদ্রোহের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলির মধ্যে সব থেকে স্মরণীয় ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন আজিমুল্লাহ খান। স্বাধীনতা যুদ্ধর ভাবনাটা যাদের মাথায় প্রথম এসেছিল তাদের মধ্যে আজিমুল্লাহকে বিশেষ জায়গা দিতেই হবে।"
নানাসাহেব যেহেতু পেশোয়া দ্বিতীয় বাজি রাওয়ের দত্তক পুত্র ছিলেন, এই যুক্তিতে বাজি রাওয়ের মৃত্যুর পরে নানা সাহেবের পেনশন বন্ধ করে দেয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
মি. সাভারকর ছাড়াও অনেক ইতিহাসবিদই লিখেছেন যে উত্তরাধিকারের বিষয়গুলি মীমাংসা করতে নানাসাহেব ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছিলেন আজিমুল্লাহ খানকে।
প্রায় বছর দুয়েক তিনি যুক্তরাজ্যে ছিলেন, যদিও পেনশন পুনরায় চালু করাতে পারেননি তিনি। দেশে ফিরে আসেনে ১৮৫৫ সালে।
ইংরেজি, ফরাসি-সহ বেশ কয়েকটি বিদেশি ভাষায় পারদর্শী হয়ে উঠলেও আজিমুল্লাহ খানের শিশু বয়সটা কেটেছিল চরম দারিদ্রের মধ্যে।
ইতিহাসবিদরা লিখছেন, ১৮৩৭-৩৮ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ে তাকে এবং তার মাকে উদ্ধার করা হয়। তাদের ঠাঁই হয় কানপুরের একটি খ্রিস্টান মিশনে।
একটা সময়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বাড়িতে কখনও ওয়েটার হিসাবে, কখনও বাবুর্চি হিসাবে কাজ করেছেন তিনি। সেখান থেকে তার ইংরেজি, ফরাসি শেখা বলে জানাচ্ছেন ইতিহাসবিদরা।
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ সফর সেরে ফেরার পথেই আজিমুল্লাহ খান তুরস্ক ও ক্রিমিয়াতে যান এবং দেশে ফিরে এসে নানাসাহেবকে পরামর্শ দেন বিদ্রোহ শুরু করার।

ছবির উৎস, Getty Images
পত্রিকার মাধ্যমে স্বাধীনতার আহ্বান
ইউরোপ থেকে ফিরে এসে ‘পায়াম-এ আজাদি’ নামে একটি পত্রিকা চালু করেন আজিমুল্লাহ খান। উর্দু, মারাঠি আর হিন্দিতে ছাপা হত পত্রিকাটি।
তিনি ইউরোপ থেকে একটা ছাপার যন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন, সেই যন্ত্রেই ছাপা হত তার পত্রিকাটি।
উর্দু সাংবাদিকতার ইতিহাস এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের গবেষক আসাদ ফয়সাল ফারুকি বলছিলেন যে ওই পত্রিকার মধ্যে দিয়েই বিদ্রোহের কথা, স্বাধীনতার কথা ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন আজিমুল্লাহ খান।
“তিনি স্বাধীনতার জন্য একই সঙ্গে মুসলমান, হিন্দু, শিখ – সব সম্প্রদায়ের মানুষকেই বার বার তার পত্রিকার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করে গেছেন। যে গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির কথা বলা হয়, তার লেখায় সেটাই বেরিয়ে এসেছে সব সময়ে”, বলছিলেন মি. ফারুকি।
প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বা সিপাহী বিদ্রোহের যে মার্চিং সং, সেটিও তারই লেখা।
মি. ফারুকি পড়ে শোনাচ্ছিলেন সেই গানটি, যার শেষ দুটি লাইনে বোঝা যায় সব ধর্মের মানুষকে কীভাবে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন : “হিন্দু মুসলমান শিখ হামারা, ভাই ভাই প্যেয়ারা, ইয়েহ আজাদি কা ঝাণ্ডা, ইসে সালাম হামারা” ... অর্থাৎ হিন্দু, মুসলমান শিখ সবাই ভাই-ভাই, এই স্বাধীনতার পতাকাকে আমাদের সালাম।"
সেই পর্যায়েই তার পত্রিকায় তিনি 'মাদর-এ-ওয়াতন' স্লোগানটি লেখেন, এমনটাই বলছিলেন ইতিহাসবিদ ও লেখক সৈয়দ উবায়েদুর রহমান।
“এ নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই যে এই স্লোগান তারই লেখা। তবে এই স্লোগানটাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখলে হবে না। তার পত্রিকায় নিয়মিতই স্বাধীনতা যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আহ্বান জানাতেন, এ ধরনের নানা স্লোগান লিখতেন তিনি”, বলছিলেন মি. রহমান।
তবে মি. খানই যে ‘মাদর-এ-ওয়াতন হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন, এরকম প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি বলেও কেউ কেউ বলছেন।
আজিমুল্লাহ খান ১৮৫৭-র মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম ছিলেন বলেও মন্তব্য মি. রহমানের।
বিদ্রোহ দমিত হওয়ার পরে আর বেশি দিন বাঁচেননি আজিমুল্লাহ খান। ১৮৫৯ সালে তার মৃত্যু হয় নেপালের তরাই অঞ্চলে।
ব্রিটিশ সৈন্যদের হাত থেকে পালিয়ে বেড়ানোর সময়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইতিহাসবিদরা মনে করেন পালিয়ে বেড়ানোর কারণেই সম্ভবত তার চিকিৎসা ঠিক মতো হয় নি।

ছবির উৎস, Getty Images
‘মাদর-এ-ওয়াতন’ ছাড়াও ...
ইতিহাসবিদ ও লেখক সৈয়দ উবায়েদুর রহমান বলছিলেন, “মাদর-এ-ওয়াতন’ ছাড়াও অন্য অনেক বিদ্রোহী স্লোগান আছে যেগুলো মুসলমান নেতাদের প্রবর্তন করা।
তার কথায়, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ-এর প্রবর্তন করেছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ও স্বাধীনতা সংগ্রামী মৌলানা হসরত মোহানি, কুইট ইন্ডিয়া বা ভারত ছাড়ো স্লোগান তৈরি করেছিলেন ইউসুফ মেহের আলি।তিনিই আবার প্রথম সাইমন গো ব্যাক স্লোগানও দিয়েছিলেন।এঁদের নাম তো কেউ করেই না।“
মি. রহমানের কথায়, “১৮৫৭-র প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হোক বা ১৯১০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত – পুরো সময়টাতেই হিন্দু-মুসলমান-শিখ – সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল।"
"জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে কতজন মুসলমান বসেছেন – সেই তথ্য কেউ জানে? একজনের কথাই সবাই বলবে, আবুল কালাম আজাদের নাম জানে সবাই। কিন্তু মোট আট জন মুসলমান কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন, সেটা কত জন জানেন?”

ছবির উৎস, Getty Images
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর
‘ভারত মাতা’ যেভাবে রূপ পেল
যে ভারত মাতাকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে, দেশাত্মবোধক স্লোগান হিসাবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো প্রচার করে, সেই ভারত মাতার প্রসঙ্গ ১৮৬৬ সালের আগে পাওয়া যায় না।
হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির গবেষক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলছেন, “বাংলায় ১৮৬৬-তে ভারত মাতার রূপকল্প আসে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস নামে সম্ভবত ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের লেখা উনবিংশ পুরাণ-বইতে।"
"পরের বছরই হিন্দু মেলার সূচনায় দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সৃষ্ট ‘মলিন মুখচন্দ্র, মা ভারত তোমারি’ গানটি শোনান।"
"আবার বিপিন চন্দ্র পালের লেখায় পাওয়া যায়, এই গানটি ১৮৭৩-সালে কিরণচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত মাতা’ নাটকে ব্যবহৃত হয়।‘ভারত মাতার জয়’, ঠিক এই ভাবে স্লোগানাকারে তা সেই সময়ের বাংলায় জনপ্রিয় হয়েছিল কিনা তা অবশ্য জানা যায় না। কারণ, ততদিনে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দে মাতরম জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে।“
“বাংলায় বা ভারতের অন্যত্র যেহেতু ১৮৬০ সালের আগে ভারত মাতা রূপকল্পের কোনো উল্লেখ বা প্রয়োগ দেখা যায় না, আজিমুল্লাহ খান যদি ‘মাদর-এ-ওয়াতন হিন্দুস্তান জিন্দাবাদ’-এর প্রয়োগ করে থাকেন, তবে তিনিই এই উপমহাদেশে দেশমাতৃকা রূপকল্পের জনক", বলছেন স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য।
আবার ভারত মাতার প্রথম ছবি আঁকেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৫ সালে।
স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করছিলেন, “ভারত মাতা কি জয় আর মাদর-এ-ওয়াতন হিন্দুস্তান আসলে এক হলেও হিন্দুত্ববাদীদের চোখে আলাদা।"
"উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এই বাংলায় ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ, এই তিনেরই জন্ম হয়। খানিক পরে পরেই অন্যত্রও ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও প্রসার ঘটে।"
"বঙ্কিম চন্দ্র চ্যাটার্জির বন্দেমাতরম কিন্তু বঙ্গমাতার বন্দনা, ঠিক যেভাবে অবন ঠাকুরের ভারত মাতা ছবিটির নাম প্রথমে ছিল বঙ্গমাতা।"
“ক্রমশ, ভারতীয় জাতীয়তাবাদের মধ্যে বাকি সব রকম জাতীয়তাবাদী প্রবণতাকে মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে কংগ্রেস। ভারতীয় জাতীয়তাবাদীরা ভারত ও হিন্দুস্তান দুই-ই ব্যবহার করেন, কারণ সব জাতি ধর্ম ভাষা সংস্কৃতি মিলেই এই দেশ।"
"কিন্তু হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা 'হিন্দুস্তান' পারতপক্ষে ব্যবহার করেন না। তাঁদের ভাষ্যে উর্দু বা ফারসির কোনও জায়গা নেই। তাই তাঁদের কাছে মাদর-এ-ওয়াতন হিন্দুস্তান আর ভারতমাতা এক নয়। যদিও, ‘মাদর-এ-ওয়াতন হিন্দুস্তান’ শব্দবন্ধের উপস্থিতিই হিন্দুত্ববাদীদের এই অভিযোগ খণ্ডন করে যে মুসলমানরা ভারত কে মা বলতে চায় না", বলছিলেন মি. ভট্টাচার্য।
আবার দেশকে মাতৃভূমি হিসাবে ভালবাসার কথা যে হাদিসেই আছে, সেটাও বলছেন ইসলমাই ধর্মশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ মুহম্মদ কামরুজ্জামান।
তার একটি রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে, তিনি সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের প্রধান। কিন্তু তার পড়াশোনা কলকাতার সাবেক আলিয়া মাদ্রাসায়, যা এখন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
তিনি বলছিলেন, “হাদিসে হুব্বুল ওয়াতনের কথা তো বলাই আছে। পুরো আয়াতটা হল হুব্বুল আয়াত মিনাল ইমান। ওয়াতন মানে মাতৃভূমি আর হুব্বুল শব্দের অর্থ ভালবাসা। অর্থাৎ মাতৃভূমির প্রতি ভালবাসা, এটা ধর্মের একটা অঙ্গ।"
তবে ভারত মাতা কি জয় স্লোগানটি এখন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
হিন্দুত্ববাদীরা এই স্লোগানটিকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করে বলেই মুসলমানদের এই কথাতে আপত্তি আছে, এমনটাই ধারণা দিচ্ছিলেন বিশেষজ্ঞরা।








